হয়তো

মন বুঝতে আর চোখ পড়তে হবে না। হাত মেলালেই পেয়ে যাবেন হাঁড়ির খবর। শুধু হৃদয়পুর নয়, শরীরে নাড়ি-নক্ষত্রের অলিগলি ঘুরে পাকস্থলীর খবরও চলে আসবে হাতের তালুতে। সবই হবে পলকে। মুহূর্তে । সেকেন্ডে। এক ঘষাতে। হ্যান্ডশেকে। হ্যাঁ; আসছে দিনে এমন পৃথিবীই দেখবে মানুষ। ২০৫০ সালের মধ্যেই। এমন ভবিষ্যদ্বাণীই করেছেন অ্যালেক্সেই আন্দ্রিয়েভ। রুশ কথাসাহিত্যিক, চিত্রকর ও সাইবারপাঙ্ক গবেষক অ্যালেক্সেই আন্দ্রিয়েভ তার ‘২০৪৮’ বইয়ে এই পূর্বাভাস করেছেন।
অর্থাৎ, পঞ্চম শতাব্দীতে (বিসি) শুরু হওয়া মানুষের কুশল-বিনিময়ের ‘হ্যান্ডশেক’ প্রথায় আগামীতে কাল হয়ে উঠবে মানুষের নিজের হাল-হকিকত গোপন রাখতে হয়তো পরিচয়পর্বেই হাত বাড়ানোর বদলে শুরু হবে গুটিয়ে নেয়ার চল! থাকবে ভালো দিকও। আজ থেকে ২২ বছর আগেই ভবিষ্যৎ দুনিয়ার এই বাস্তবতা ভেসে এসেছে অ্যালেক্সেই আন্দ্রিয়েভের কল্পনায়।
‘মেরসেয় শেলি’ ছদ্মনামে ভবিষ্যৎ কাহিনি লেখেন অ্যান্দ্রিয়েভ। তার সাইবারপাঙ্ক বই ‘২০৪৮’-এ বলেছেন, ২৫ বছরের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে প্রযুক্তিতে। এসময়ের মধ্যেই বিশেষ এক সেন্সর তৈরি করবে মানুষ। থাকবে আঙুলের ডগায়। যার মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে মানুষটির রোগ-ব্যাধি, অর্থনীতির হালচাল। সেন্সরটি হবে দুই ধাঁচের। একটি সাধারণের, অন্যটি অভিজাতদের। প্রথমটির মালিক তার ওই ক্ষুদ্র ইলেকট্রিক যন্ত্রটি ব্যবহার করে জানতে পারবেন সব ধরনের ডিজিটাল তথ্য। সেন্সরের দ্বিতীয় ধাঁচটি নাকি আবার সর্বসাধারণের জন্য নয়।
এটি বিশেষভাবে বানানো হবে গবেষক ও চিকিৎসকদের জন্য। যার মাধ্যমে অ্যান্ডোস্কপির মতো জটিল স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সহজে করতে পারবেন চিকিৎসকরা। রোগীর পাকস্থলীতে ক্যামেরা না ঢুকিয়েই হাতে হাত রেখে সেন্সরের মাধ্যমে দেখতে পারবেন পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি। ২০৫০ সালের কর্মক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রতিবেদন রয়েছে ক্যাস্পারেস্কিতে। ভবিষ্যৎবিদ জেকব মর্গানের মতে ২৪ বছর পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে মানুষ ও রোবট।




