কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যে বিশ্বকাপ বিশ্বকে কাঁপায়! তা শেষ হলো গত রবিবার রাতে। বিশ্বকাপ শুধু একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটা যেন পৃথিবীব্যাপী গণউন্মাদনার মহোৎসব! আহ! কী আনন্দ! দেড় মাস ধরে কে কোন দলের সমর্থক, সেটা না জানলে আত্মীয়তার সম্পর্কও যেন যাচাই করা যায় না ঠিকমতো। কারও ঘরে ব্রাজিলের পতাকা, কারও বারান্দায় আর্জেন্টিনা, আবার কেউ স্পেন জিতলে এমন আনন্দ করে, যেন ট্রফিটা তার ড্রয়িংরুমেই রাখা হবে!
এ কদিনে কত কিছুই না ঘটেছে! শপিং মল থেকে কাঁচাবাজার, চায়ের দোকান থেকে সেলুন, পার্কের বেঞ্চ থেকে বাসের হেলপার— সবাই একেকজন আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষক! যারা গতকাল পর্যন্ত খেলার বিষয়ে তেমন একটা ধারণা রাখতেন না, তারাও আজ ধরিয়ে দিচ্ছেন ৪-৩-৩ ফরমেশনের দুর্বলতা! অফিসে কাজের চেয়ে খোঁচাখুঁচির পরিমাণই ছিল বেশি। ‘আজ মুখটা এত শুকনো কেন?’— ‘তোমাদের গোলপোস্টে তালা লাগানো ছিল নাকি?’ এসব শুনতে শুনতেই দুপুর গড়িয়ে বিকাল।
তবে একটা কথা মানতেই হবে, সব মজা সবসময় মজার থাকেনি। কোথাও কোথাও তর্ক এমন পর্যায়ে গেছে, মনে হয়েছে ফিফাকে ডাকতে হবে সালিশ করতে! সেখানেও ছিল বিপত্তি! ফিফার প্রেসিডেন্টকে ডাকলেও আপত্তি, কারণ তিনিও নাকি একটি দলের সমর্থক! ফেসবুকেও অবস্থা করুণ, লাইক-কমেন্ট কমে গেছে। এক দলের সমর্থক লাইক দেন না আরেক দলের সমর্থককে। তা ছাড়া সবাই এত ব্যস্ত ছিল অন্যের দল ট্রল করতে যে, নিজের পোস্টে লাইক দেওয়ারও সময় পায়নি!
কিন্তু বিশ্বকাপ শেষ। এখন আবার সেই পুরনো সহকর্মী, পুরনো বন্ধু, পুরনো আড্ডা। কাল যার সঙ্গে তর্কে বসে গিয়েছিল গলা, আজ তার সঙ্গেই ভাগাভাগি করে খাওয়া হবে এক কাপ চা। ফুটবল বৈরিতা শেখায় না, শেখায় আনন্দ ভাগ করে নিতে।
অভিনন্দন স্পেনকে— দারুণ ছন্দময় ফুটবলের জন্য। আর মেসির জন্য রইল ভালোবাসা। আবার চার বছর পর হবে বিশ্বকাপ। নতুন করে কাঁপাবে বিশ্বকে!
এখন প্রিয় দলের পতাকা নামান, বন্ধুত্বটা তুলুন। কারণ বিশ্বকাপ শেষ। এখন মনোযোগ দিন কাজে, ভাবুন বকেয়া ঘুম নিয়ে। আরেকটা কথা— ব্যস্ততা শেষ। চলতি মাসের বাজার আর বেতনের অপেক্ষা তো থাকছেই। বউয়ের বকুনি আর কতইবা খাবেন?




