কিন্তু

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। কমলাপুর রেলস্টেশন, সায়েদাবাদ-গাবতলী বাস টার্মিনাল কিংবা সদরঘাট লঞ্চঘাটে এখন উপচে পড়া ভিড়, চওড়া হাসি আর বাড়ি ফেরার তাড়া। কিন্তু এই আনন্দের খবরের পিঠেই যে ওত পেতে থাকে বিষাদের কালো ছায়া, তা মনে করিয়ে দিল টাঙ্গাইলের মহাসড়ক। সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসে আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হয়েছে, প্রিয়জনের মুখ দেখার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে পথে। কিন্তু এই বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা যখন লাশ হয়ে বাড়ি ফেরে, তখন ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় বিষাদে।
সোমবার ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে যায়। ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন অনেক মানুষ। ট্রাকে করে ঈদযাত্রা— শুনতে রোমাঞ্চকর লাগতে পারে; কিন্তু এটি যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ আর মরণফাঁদ, তা প্রমাণ হলো আরও একবার। রড আর ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে পিষ্ট হয়ে গেল ১৫টি তাজা প্রাণ। পৃথক আরও দুটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোটরসাইকেলচালক এবং ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। সব মিলিয়ে টাঙ্গাইলেই এক দিনে ঝরে গেল ১৭টি প্রাণ।
জেলা পুলিশ সুপার ও থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে, মহাসড়কে যান চলাচল এখন স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে প্রাণগুলো চলে গেল, তা কি আর কখনো স্বাভাবিক হবে? যে পরিবারগুলোর ঈদের আনন্দ চিরতরে মাটি হয়ে গেল, তাদের এই ক্ষতি পূরণ করবে কে?
আমরা প্রতি বছরই বলি, ঈদযাত্রায় প্রশাসন তৎপর, মহাসড়ক যানজটমুক্ত। কিন্তু ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ট্রাকে যাত্রী পরিবহন আর বেপরোয়া গতি ঠেকানোর স্থায়ী সমাধান কোথায়? প্রশাসন হয়তো বলবে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছে, কিন্তু এই ‘চেষ্টা’ শব্দটা ১৭টি লাশের সামনে বড্ড অসহায় আর হালকা শোনায়। কর্তাব্যক্তিরা হয়তো তদন্ত কমিটি গঠন করবেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপদ ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা কি মিলবে কোনোদিন? নাকি প্রতি ঈদের গল্পটাই এমন ‘কিন্তু’র বেড়াজালে আটকে থাকবে?






