বায়ুদূষণ বদলাচ্ছে শুক্রাণুর ডিএনএ

বায়ুদূষণ। বর্তমান সময়ে পরিবেশ এবং জলবায়ু বিপর্যয়ের অনেক কারণের মধ্যে একটি। এ দূষণের ফলে মানুষের শরীরে আস্তানা গড়ে নানা ধরনের রোগবালাই। শ্বাসকষ্ট, ক্যানসারের পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রের রোগেও আক্রান্ত হন অনেকে। তবে বায়ুদূষণ যে মানুষের জিনগত পরিবর্তন ঘটায়, সে কথা আগে কার জানা ছিল? সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। সেখানে দেখা গেছে, বায়ুদূষণের ফলে পরিবর্তন এসেছে শুক্রাণুর জিনের কার্যপদ্ধতিতে। লন্ডনের ‘ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি’-এর বার্ষিক সভায় ৭ জুলাই এ তথ্য প্রকাশ করে গবেষক দল। যেটির নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারী বিশেষজ্ঞ ড. ক্যারি নোবেলস।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিকাশের সময় বায়ুদূষকের সংস্পর্শে আসা শুক্রাণু পুরুষদের ডিএনএতে সূক্ষ্ম পরিবর্তন এনেছে, যা জিনের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। গবেষকরা বলছেন, বায়ুদূষণ পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার ওপর ফেলতে পারে নেতিবাচক প্রভাব।
গবেষণাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ রাজ্যের সল্ট সিটি শহরের দুই হাজারের বেশি পুরুষের শুক্রাণু পর্যবেক্ষণ করা হয়। শুরুতে একবার তাদের শুক্রাণুর নমুনা নেওয়া হয়। এর দুই, চার এবং ছয় মাস পরপর ফের নেওয়া হয় নমুনা। ছয় মাসের এই নমুনার ডিএনএ মিথাইলেশন বিশ্লেষণ করেন বিজ্ঞানীরা। এতে তারা বায়ুদূষণজনিত বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত ৩৯টি ডিএনএ পরিবর্তন শনাক্ত করতে সক্ষম হন। যার মধ্যে বায়ুদূষক, ওজোন ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের জোরালো প্রভাব পাওয়া যায়।
গবেষকরা মনে করছেন, বায়ুদূষণ পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে এর জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো এখনো তাদের কাছে অস্পষ্ট। গবেষণা দলের প্রধান নোবেলস বললেন, ‘জিন পরিবর্তন পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, আর তাই গবেষণার এই ক্ষেত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বায়ুদূষণজনিত কারণে শুক্রাণুর ডিএনএ মিথাইলেশনে যে পরিবর্তন ঘটে, তার সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন।’




