সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীতে প্রতিনিয়তই আমরা যুদ্ধ করছি যানজটের সঙ্গে। ঠিকমতো অফিসে যাওয়া হয় না, শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যেতে পারছে না সময়মতো। তবে সড়কের জটে যেখানে হাঁপিয়ে উঠছে নগরবাসী, সেখানে ঢাকার ভেতরেই একটুকু জলপথে মিলছে অভাবনীয় স্বস্তি।
হাতিরঝিলের ওয়াটার বাসে উঠলেই সড়কের অস্বস্তি আর জলপথের স্বস্তির বিষয়টি পরিষ্কার হয়। কারওয়ান বাজারের এফডিসি ঘাট হয়ে পুলিশ প্লাজায় অল্প বিরতি দিয়ে স্বল্প সময়ে গুলশান-১!
এই রুটে চলাচল করা ওয়াটার বাস অনেক যাত্রীর সময় ও ভোগান্তি— দুটোই কমাচ্ছে। সড়কে যেখানে এক কিলোমিটার যেতে কখনো কখনো মনে হয়, জীবনের একটা অধ্যায় শেষ, সেখানে ওয়াটার বাসে বসে অন্তত যানজটকে দূর থেকে দেখা যায়।
অবশ্য, হাতিরঝিলের এই জলযাত্রায় প্রকৃতির পক্ষ থেকেও কিছু ‘বিনোদন’ আছে। পানির পচা গন্ধ নাকে এসে এমনভাবে হাজির হয়, যেন ঝিল তার পুরনো সব কষ্টের হিসাব খুলে বসেছে। তার ওপর মশার দল যাত্রীদের বিনা ভাড়ায় সঙ্গ দেয়। আপনি ওয়াটার বাসের ভাড়া দেবেন, আর মশারা যেন আপনার রক্ত খেয়েই টিকিট কেটে নেবে! তবে মশার গান ও মশা মারার ভেসে আসা শব্দ আপনাকে মুগ্ধ করবে!
ভাড়ার কথাও বলতে হয়। সড়কে গাড়িতে বসে জ্বালানি, সময় আর ধৈর্য— তিনটিই পুড়ে যায়। ওয়াটার বাসে ভাড়া দিতে হয় ঠিকই, কিন্তু সময় বাঁচলে সেই ভাড়া খুব একটা গায়ে লাগে না।
হাতিরঝিলকে যদি উন্নত দেশের শহরগুলোর মতো দুপাশে শান বাঁধানো, পরিচ্ছন্ন, আলোকিত ও দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো যায়, তাহলে এটি শুধু যানজট এড়ানোর জলপথ নয়, ঢাকার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে। তখন মানুষ ওয়াটার বাসে উঠবে শুধু গন্তব্যে যেতে নয়, ঢাকাকে নতুন করে দেখতে।
একদিন হয়তো এমন দৃশ্য হবে— ঝিলের ধারে মানুষ হাঁটছে, শিশুরা ছবি তুলছে, বাতাসে দুর্গন্ধ নয়, ভেসে আসছে ফুলের সুবাস। ওয়াটার বাসও তখন হবে গর্ব। যাত্রীরা তাকিয়ে বলবেন, ‘এই ঢাকা কি সত্যিই সেই ঢাকা?’ পাশে বসা আরেকজন বলবেন, ‘মশারাও হেরে গেছে উন্নয়নের কাছে!’
আমরা অপেক্ষায় থাকলাম, সেই মনোরাম দৃশ্য উপভোগ করার।





