প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

চট্টগ্রাম ওয়াসা
দৈনিক আগামীর সময়ের প্রথম পাতায় গত ৩১ জুলাই প্রকাশিত ‘চট্টগ্রাম ওয়াসার ৮৬ কোটি গেল কোথায়’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। সংস্থাটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তারের সই করা প্রতিবাদলিপিতে প্রতিবেদনটির কিছু তথ্যকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ‘৮৬ কোটি টাকার হদিস না থাকা’-সংক্রান্ত অংশটি সঠিক নয়। তারা বলছে, চট্টগ্রাম পৌরসভা থেকে আলাদা হয়ে ১৯৬৩ সালে ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর সরকারের কাছ থেকে প্রথম পর্যায়ে কালুরঘাট বুস্টার প্ল্যান্ট এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে মোহরা পানি শোধনাগারের স্থাবর সম্পত্তি বাবদ এই অর্থ ইকুইটি হিসেবে পাওয়া যায়। যা ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও ইকুইটি হিসেবে দেখানো হয়। ওয়াসার দাবি, এর সঙ্গে নগদ অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সরকারের কাছ থেকে কোনো নগদ অর্থ তারা পায়নি। এই স্থাবর সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে নিয়মানুযায়ী ইকুইটিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: চট্টগ্রাম ওয়াসা ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরের নিরীক্ষায় হঠাৎ ৮৬ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার ৩২৯ টাকার এই ইকুইটি দেখানো হয়। আন্তর্জাতিক নিরীক্ষামান ও বাংলাদেশের প্রচলিত আর্থিক আইন অনুযায়ী যেকোনো ইকুইটি, সরকারি অনুদান বা সম্পত্তির বিপরীতে নির্দিষ্ট সরকারি গেজেট, অধিগ্রহণ নথি বা সহায়ক কাগজপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত টানা সাত বছর প্রতিটি স্বতন্ত্র চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান তাদের অডিট প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, এই ৮৬ কোটি টাকার বিপরীতে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সহায়ক নথি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ নিরীক্ষকদের দেখাতে পারেনি।
এ ছাড়া প্রতিবাদলিপিতে ওয়াসা বলেছে, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তারের বক্তব্য অনুমতি ছাড়া এবং ভুলভাবে প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে ওয়াসা বলছে, ‘নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না, এই বিষয়টি সঠিক নয়।’ এ বিষয়ে আগামীর সময়ের প্রতিবেদক বলছেন, সাংবাদিকতার নীতি মেনে ৮৬ কোটি টাকার অডিট আপত্তির বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলমের বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল। তিনি এ বিষয়ে উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের (অর্থ) বক্তব্য নেওয়ার কথা বলেছেন এবং এমডি কার্যালয়ের কর্মচারীর মাধ্যমে এই প্রতিবেদককে তার দপ্তরে পাঠান। তখন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) নিজেই নথিপত্র না থাকার কথা স্বীকার করে এই বক্তব্য দেন।




