বুলেট ট্রেনের যুগে যে ট্রেনের গতি মাত্র ৯ কিলোমিটার!

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে যখন হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন আর দ্রুতগতির যাতায়াত নিয়ে তুমুল মাতামাতি, ঠিক তখনই ভারতে নজির গড়ছে ব্যতিক্রমী এক ট্রেন। কুয়াশায় ঘেরা পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগানের বুক চিরে এগিয়ে চলে এই ট্রেন।
দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো নয়, বরং এই ট্রেনযাত্রার আসল আনন্দ যাত্রাপথের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এর ধীর গতি আর চারপাশের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ যুগ যুগ ধরে জুড়াচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের চোখ।
ভারতের মেত্তুপালায়ম থেকে উটি রুটে চলাচলকারী নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে পরিচিত দেশটির সবচেয়ে ধীরগতির ট্রেন হিসেবে। ট্রেনটির গড় গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ৯ কিলোমিটার। প্রায় ৪৬ কিলোমিটারের এই পথটুকু পাড়ি দিতে ট্রেনটির সময় লাগে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা।
খাড়া পাহাড়ি ঢাল আর নীলগিরি পাহাড়ের দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণেই এত ধীরগতিতে চলতে হয় এই ট্রেনকে। এই পুরো রুটে রয়েছে অসংখ্য বিপজ্জনক বাঁক ও সরু পাহাড়ি ট্র্যাক।
খাড়া পাহাড়ে ওঠার জন্য এখানে ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরনের র্যাক অ্যান্ড পিনিয়ন প্রযুক্তি। তবে এই কচ্ছপ গতির কারণেই যাত্রীরা দেখার সুযোগ পান চারপাশের অপরূপ দৃশ্য।
ঐতিহাসিক ও প্রকৌশলগত অনন্য কীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়েকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে।
১৯০০ সালের শুরুর দিকে নির্মিত এই পাহাড়ি রেলপথে রয়েছে প্রায় ১৬টি টানেল, ২০০টিরও বেশি বাঁক এবং ২৫০টির ওপর সেতু।
এই ট্রেনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলিউডের এক সোনালী স্মৃতিও। শাহরুখ খান ও মালাইকা আরোরার বিখ্যাত ছাইয়া ছাইয়া গানটির শুটিং হয়েছিল চলন্ত এই ট্রেনের ছাদেই।
বর্তমানে উটি পৌঁছানোর জন্য সড়কপথ অনেক বেশি দ্রুতগতির হলেও রোমাঞ্চ আর স্মৃতির টানে পর্যটকেরা বেছে নেন এই ধীরগতির ট্রেনকেই। পশ্চিম ঘাটের নান্দনিক রূপ ও নস্টালজিক অনুভূতি এই যাত্রাকে দেয় আজীবন মনে রাখার অভিজ্ঞতা।
সূত্র : এনডিটিভি






