দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সময়ের সঙ্গে বড় হচ্ছে ডিজিটাল বিশ্ব। সেই দুনিয়ায় প্রতি সেকেন্ডে তৈরি হচ্ছে বিপুল তথ্য, আদান-প্রদান হচ্ছে অসংখ্য বার্তা। এসব তথ্যের সৃষ্টি, সংরক্ষণ ও সংযোজনের পেছনে রয়েছে বিশাল বিশাল ডেটা সেন্টার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, স্ট্রিমিং— ডিজিটাল বিশ্বের সবকিছুর পেছনেই অবিরাম ছুটে চলে একেকটি ডেটা সেন্টার।
এসব সেন্টারের নির্বিঘ্ন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ। আরও দরকার কুলিং সিস্টেম, অর্থাৎ যন্ত্রগুলো একটানা চলার ফলে অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করার বিশেষ ব্যবস্থা।
তবে ডিজিটাল দুনিয়া যত বড় হচ্ছে, তত বেশি ব্যবহার হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ। এতটাই যে, এর প্রভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে পৃথিবী। ২০৪০ সালে জলবায়ু সংকট কমাতে এবং প্রকৃতিকে বাঁচার সুযোগ করে দিতে ভূমির ওপর থাকা সব ডেটা সেন্টার সরে গিয়ে নতুন ঠিকানা করবে সমুদ্রের তলদেশে। এমনটাই নিজের ওয়েবসাইটে পূর্বাভাস দিয়েছেন ভারতীয়-কানাডীয় ভবিষ্যৎবিদ ইয়ান খান।
তিনি লিখেছেন, ডিজিটাল দুনিয়ার বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতে ২০৪০ সালের মধ্যে শুরু হবে সমুদ্রভিত্তিক ডেটা সেন্টারের যাত্রা। এসব কেন্দ্র পরিচালিত হবে সমুদ্রের ঢেউ, জোয়ার-ভাটা এবং তাপমাত্রার পার্থক্য থেকে পাওয়া নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে।
পানির নিচে অবস্থিত এসব কেন্দ্র কার্বন নিঃসরণ কমাবে এবং সমুদ্রের প্রাকৃতিক শীতলীকরণ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কার্যকারিতা বাড়াবে। পাশাপাশি, এগুলো সামুদ্রিক গবেষণাকেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারবে বলে ধারণা ইয়ানের। সমুদ্রের নিচে অবস্থিত ডেটা সেন্টারগুলো জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও সহায়তা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক ম্যাগাজিন ‘ফরচুন’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক প্রসারের ফলে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বড় পরিসরে বাড়ছে। এসব কেন্দ্রের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ নিয়ে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। এই চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে ডেটা সেন্টার কোম্পানিগুলো প্রচলিত স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারের বাইরে বিকল্প ব্যবস্থার সন্ধানে মনোযোগী হচ্ছে।
এরই মধ্যে ইয়ান খানের পূর্বাভাস অনেকটাই সঠিক হতে শুরু করেছে। চলতি বছরের জুন মাসে বিশ্বের প্রথম বায়ুচালিত ও পানির নিচে অবস্থিত ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম শুরু করেছে চীন। সাংহাই উপকূলের অদূরে অবস্থিত ‘দ্য সাংহাই লিনগাং আন্ডারসি ডেটা সেন্টার প্রজেক্ট’ দেশটির জ্বালানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যক্রম শুরু করে।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশও যদি প্রকৃতি রক্ষায় এ ধরনের প্রকল্প বেছে নেয়, তাহলে ২০৪০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারের একটি বড় অংশই হয়তো গড়ে উঠবে সমুদ্রের তলদেশে।





