দেখা যাক

এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরা যুদ্ধক্ষেত্র। নেই গুলির আওয়াজ। আছে শুধু সিলিকন চিপের নীরব হিসাব। সৈনিক দল আরাম করে কফির কাপে চুমুক দেয়, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিঃশব্দে দখল করে নেয় পুরো দেশ। যুদ্ধের কমান্ডার কোনো জেনারেল নয়; বরং একটি অদৃশ্য অ্যালগরিদম। কল্পকাহিনি মনে হলেও ভবিষ্যতের রণক্ষেত্রের দৃশ্য এটি। আগামীর দুনিয়ায় এআই শুধু কোনো চ্যাটবট বা মডেল থাকবে না। সেটি হবে যুদ্ধময়দানের প্রধান সৈনিক। নেতৃত্ব দেবে বিশালসংখ্যক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলকে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর এ যুদ্ধের পূর্বাভাস উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল পত্রিকা দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের একটি প্রতিবেদনে।
ভবিষ্যতে মানুষের হাতে থাকবে না পারমাণবিক বোমার চাবি।
বড় আকারে ধ্বংস চালাতে সক্ষম এ অস্ত্রের চাবি থাকবে কোনো শীতল ডেটা সেন্টারের গভীরে। এআইর একটি ছোট্ট কোডিং ভুল মুহূর্তেই ছাই করে দিতে পারে পুরো একটি শহরকে। এআই নিরাপত্তা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের মতো কোম্পানিগুলোর সতর্কবাণী মনে হয়, সে সময় মিশে যাবে ইতিহাসের ধুলোয়। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ইভান হুবিঙ্গার সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে জানিয়েছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে ১০ শতাংশের বেশি সম্ভাবনা রয়েছে মানুষের প্রাণহানির। যুক্তরাজ্যের থিংক ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি প্রোগ্রাম’-এর গবেষণা ফেলো জর্জিয়া কোল ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’কে বলেছেন, ‘বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা; কারণ অনেক সরকারই সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে এআইকে একটি নির্ণায়ক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে।’ অর্থাৎ বর্তমানে যুদ্ধে এআইর ব্যবহার এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ছোট-বড় সব যুদ্ধেই নেতৃত্বে থাকতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এ বিষয়ে কোল আরও জানিয়েছেন, মূল সমস্যাটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইর ব্যবহার নয়; বরং সমস্যা হলো এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা স্বচ্ছতার অভাব। পাশাপাশি সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় এআই ঠিক কোথায় প্রকৃত উন্নতি ঘটাচ্ছে আর কোথায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে গভীর ও যথাযথ পর্যালোচনার অনুপস্থিতি।’



