কী জানি

বাংলাদেশের রাস্তা নিজেই যেন এক জীবন্ত ‘গিরগিটি’। রাতে একরকম, দিনে আরেক! রাতের ভালো রাস্তা সকালেই চেনা দায়! চোখে পড়ে এক নতুন অতিথি— গর্ত। বর্ষাকালে তো কথাই নেই! কত শত খানাখন্দের উদয় হয় পাকা রাস্তায়! কোথাও আবার গা থেকে খসে যায় পিচঢালা চল্টা! কোনো তত্ত্বাবধান নেই! দেখার কেউ নেই; কোন কালে ঠিক হবে তারও নিশ্চয়তা নেই! কেমন হতো যদি সঙ্গে সঙ্গেই ঠিক হয়ে যেত ভেঙেচুরে, দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া রাস্তাগুলো? বর্তমানের এ আকাশ-কুসুম কল্পনা-ই নাকি ‘ছেলের হাতের মোয়া’র মতো বাস্তব দৃশ্য হয়ে উঠবে ভবিষ্যতে, ২০৩০ সালেই। সড়কে সড়কে বসবে সেন্সর। ফাটলের আগেই সংকেত পাঠবে নিয়ন্ত্রক বোর্ডে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসবে রোবট। আবার নতুন করে দেবে সড়ক। যুক্তরাষ্ট্রের কন্সট্রাকশন ভিত্তিক ব্লগ ব্লুপ্রিন্টে উঠে এসেছে এসব তথ্য। বলা হয়েছে ভবিষ্যতের অবকাঠামো হবে অটোমেটিক।
বাসা-বাড়ি-রাস্তা, দালানকোঠার ফাটল-ভাঙন কোনো ব্যাপারই না তখন। কারণ এসবের থাকবে নিজে নিজে পুনর্গঠন সিগন্যাল পাঠানোর সক্ষমতা।
ব্লগে এ প্রযুক্তির নাম বলা হয়েছে ‘অটোনোমাস ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিস্টেম’। অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয় অবকাঠামো ব্যবস্থা। এটি এমন একটি নতুন উদ্ভাবন যেখানে রাস্তা, সেতু, ট্রাফিকব্যবস্থা সবকিছুই হবে অটোমেটিক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবট এবং রিয়েলটাইম মনিটরিংয়ের সাহায্যে এসব অবকাঠামো নিজের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও অস্বাভাবিকতা যাচাই করে মেরামতের নির্দেশনা দেবে নিজেই। যেমন বর্তমান অবকাঠামো ব্যবস্থার বড় সীমাবদ্ধতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যা দৃশ্যমান হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে চিত্রটি পুরো উল্টো। সেন্সর যুক্ত থাকায় ফাটল, অতিরিক্ত চাপ, অস্বাভাবিক কম্পন বা ক্ষয়ের লক্ষণ শনাক্ত হবে আগেই। নতুন এ প্রযুক্তির আবিষ্কারে রাস্তা মেরামতের কাজও আসবে সহজ হয়ে। গর্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা চোখে পড়লে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো; টেন্ডার জোগাড়, কাজ শুরু এবং শেষে কেটে যায় অনেক দিন। তবে স্বয়ংক্রিয় এ অবকাঠামো ব্যবস্থায় রাস্তা মেরামত হবে মাত্র কয়েক মিনিটে! বড়জোর ঘণ্টা!
তবে গবেষকদের মতে, কিছু বাধা ও ঝুঁকিও রয়েছে এ প্রযুক্তিতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দেওয়া তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। সেন্সর ও প্রোগ্রামিং প্রযুক্তি যুক্ত থাকায় থাকবে সাইবার হামলা এবং হ্যাকিং শঙ্কাও। এক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অবকাঠামো ব্যবস্থা প্রযুক্তিতে মনিটরিং এবং মেরামতের থেকে বেশি গুরুত্ব পাবে নিরাপদ সাইবার সিকিউরিটি ডিজাইন।




