কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মানুষের পারিবারিক জীবনে পোষাপ্রাণী মানেই বিড়াল, কুকুর, খরগোশ, পাখিসহ নানা পশু। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে ভবিষ্যতের পরিবারে হয়তো নতুন ধরনের সঙ্গীর দেখা মিলবে। সেই সাথী রক্তমাংসের নয়, বরং তৈরি হবে কোড আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার! ২০৫০ সাল নাগাদ প্রতিটি ঘরে ঘরেই থাকবে এই পোষা রোবট প্রাণী ও হোম রোবট। ধাতব ও ইলেকট্রিক তারের তৈরি এ সঙ্গী শুধু পাশেই থাকবে না, বাসাবাড়িতে থাকা শিশুদের পড়ালেখাও শেখাবে। সঙ্গে করে দেবে ঘরের কাজ। মনে করিয়ে দেবে খাবারের আগে পরে ওষুধ খাওয়ার কথা। সায়েন্স ফিকশন ফিউচারিস্টিক ধাঁচের সিনেমার দৃশ্য মনে হলেও আসছে পৃথিবীর এ পূর্বাভাস চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিয়েছে রুশ সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি ক্যাসপারস্কি।
প্রতিষ্ঠানটির ‘আর্থ ২০৫০’ নামক একটি প্রজেক্টের অংশ হিসেবেই করা হয়েছে এ ভবিষ্যদ্বাণী। তাদের ওয়েবসাইটে ভবিষ্যৎ বিশ্বের রোবট পোষাপ্রাণীর বেশ মজার এক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আজ থেকে ২৪ বছর পর ডিজিটাল প্রাণীগুলো দেখতে একদম আসল প্রাণীর মতোই হবে। তবে তাদের সময়মতো খেতে দেওয়া, টিকা দেওয়া বা ডাক্তার দেখানোর মতো কোনো কাজ করার দরকার থাকবে না। প্রযুক্তির উদ্ভাবনে এসব পোষাপ্রাণীর রক্ষায় থাকবে বিশেষ আইন। এমনকি পোষাপ্রাণীর শিল্প নেবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ, যেখানে আসল প্রাণীর চেয়ে ডিজিটাল পোষাপ্রাণী হয়ে উঠবে অনেক বেশি জনপ্রিয়। তবে শুধু রোবট পশুই নয়, ক্যাসপারস্কির বিশ্বাস ২০৫০ সালে ঘরে ঘরে আরও থাকবে হোম রোবট। অনেক পরিবারের কাছে ২০৫০ সালের মধ্যে এমন সব রোবট সঙ্গী থাকবে, যারা হবে অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং সবসময় পাশে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতোই পাশে থাকবে। সে রোবটগুলো ঘরের কাজে সাহায্য করবে। শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তা ও খেলাধুলা করা, এমনকি স্কুলের সমস্যা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো কাজও করবে। এটি কোনো কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশন নয়। বরং পৃথিবীতে ভবিষ্যতের পরিবারগুলো এমনই হবে। রুশ এ প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। সেখানে অংশ নেয় ১৫টি দেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার ব্যক্তি। জরিপে উঠে আসে, ৪৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিশ্বাস করেন ২০৫০ সালের মধ্যেই পোষাপ্রাণী রোবট এবং হোম রোবট সব পরিবারের সদস্য হবে।




