ঢাকায় পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের নিয়ে অনুষ্ঠান

ছবি: আগামীর সময়
পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের নিয়ে ঢাকায় হয়েছে অনুষ্ঠান। লক্ষ্য একাধিক। এর অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণ। শুধু তাই নয়, এ আয়োজনের মাধ্যমে পোল্যান্ডের সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ারও একটি চেষ্টা করা হয়েছে।
‘পোল্যান্ডের নোবেলজয়ী সাহিত্যিকগণ’ শীর্ষক বিশেষ এ সাহিত্য আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে আজ শনিবার। ‘পোলিশ কালচার ইন বাংলাদেশ’ আয়োজনের অংশ হিসেবে এ সাহিত্যসভায় পোল্যান্ডের পাঁচজন নোবেলজয়ী সাহিত্যিকের জীবন, সাহিত্যকর্ম, সৃজনশীল দর্শন এবং বিশ্বসাহিত্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান নিয়ে করা হয় আলোচনা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতে নিযুক্ত পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ড. পিওত্র আন্তোনি শ্ভিতালস্কি. বিশেষ অতিথি ছিলেন নয়াদিল্লির পোলিশ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাউগোঝাতা ভেইসিস।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য এবং কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন কবি ও পোলিশ সাহিত্যের অনুবাদক অনন্ত উজ্জ্বল। তিনি পোল্যান্ডের সাহিত্যিক ঐতিহ্য, নোবেলজয়ী লেখকদের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং বাংলা ভাষায় বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদ ও পরিচিতি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।
১৯০৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত পোলিশ কথাসাহিত্যিক হেনরিক সিয়েনকিয়েভিচের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন মো. মহিন উদ্দিন মিজান। ১৯২৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক ভ্লাদিস্লাভ রেইমন্তের সাহিত্যিক অবদান নিয়ে আলোচনা করেন তানজিদা ইসরাত জাহান ঋতু।
১৯৮০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও প্রাবন্ধিক চেস্লাভ মিউশের সাহিত্যভাবনা ও সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরেন আসিফ রহমান সৈকত। ১৯৯৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ভিস্লাভা শিম্বোরস্কার কবিতা ও সাহিত্যদর্শন নিয়ে আলোচনা করেন সৌমেন্দ্র গোস্বামী। এ ছাড়া ২০১৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সমকালীন পোলিশ কথাসাহিত্যিক ওলগা তাকারচুকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সৃজনশীল বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন উম্মে রুম্মান ঊষা।
মূল সাহিত্য আলোচনা পর্ব শেষে সমাপনী মূল্যায়ন ও অভিমত ব্যক্ত করেন অভিনেতা, নাট্যকার ও অনুবাদক খায়রুল আলম সবুজ।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সাহিত্যভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে এবং সাহিত্য, অনুবাদ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।



