সৃজন পাঠচক্রে ‘সংখ্যায় বিভক্ত জীবন’ ও ‘জাতীয় জীবনে বিপ্লবের তাৎপর্য’ নিয়ে আলোচনা

সম্প্রতি বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সৃজন পাঠচক্রের সাহিত্যবিষয়ক আয়োজন। এতে দেশের স্বনামধন্য কবি, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীরা অংশ নেন। দুই পর্বে বিভক্ত এ আয়োজনে প্রথম পর্বে মোহাম্মদ জামিল আক্তার রচিত ও কবি হাইকেল হাশমী অনূদিত গল্পগ্রন্থ ‘সংখ্যায় বিভক্ত জীবন’-এর পাঠ-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে ‘জাতীয় জীবনে বিপ্লবের তাৎপর্য’ বিষয়ে একক বক্তৃতা দেন কবি ও চিন্তক রেজাউল করিম রনি।
বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ উর্দু সাহিত্যিকদের একজন মোহাম্মদ জামিল আক্তার। সৃজন থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘সংখ্যায় বিভক্ত জীবন’। বইটির অনুবাদক কবি ও কথাসাহিত্যিক হাইকেল হাশমী বলেন, লেখকের গল্পের ব্যাপ্তি কোনো বিশেষ স্থানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা যেকোনো জায়গা ও সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করে। এ সময় তিনি বাংলাদেশে উর্দু ভাষার অতীত ও বর্তমান নিয়ে কথা বলেন। তবে বাংলাদেশে উর্দু ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
অনুবাদককে এই কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আলোচক, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক ড. আনোয়ারুল হক বলেন, বইটি পড়ে তিনি অভিভূত হয়েছেন। প্রতিটি গল্পে উঠে এসেছে মানুষের যাপিত জীবনের বয়ান। জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে মৃত্যুর পর কবর পর্যন্ত সংখ্যায় বিভক্ত জীবনকে লেখক যেভাবে উপলব্ধি করেছেন, তা এককথায় অভিনব। পাঠক বইটি পড়লে চমৎকৃত ও বিস্মিত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘সংখ্যায় বিভক্ত জীবন’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনায় কবি ও প্রাবন্ধিক ওয়াহিদ জামান অনুবাদের পরিভাষা এবং উৎকৃষ্ট অনুবাদের শর্ত নিয়ে কথা বলেন। গল্পগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব গল্প শুধু শিল্পগুণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। লেখক তাঁর গল্পে জীবনকে দেখিয়েছেন এবং জীবনের মূল্যকেও তুলে ধরেছেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘জাতীয় জীবনে বিপ্লবের তাৎপর্য’ বিষয়ে একক বক্তৃতা দেন কবি ও চিন্তক রেজাউল করিম রনি। তিনি বিপ্লবের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে বিপ্লবের সফলতা ও ব্যর্থতার কারণ আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের বিপ্লব প্রসঙ্গে রেজাউল করিম রনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে লিবারেশন অর্জন করেছিল, কিন্তু ফ্রিডম অর্জন করেছে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।’ এ বক্তব্যের যৌক্তিকতা তিনি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. আনোয়ারুল হক, রেজাউল করিম রনি, রফিক লিটন, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, খালিদা তালুকদার, আহমেদ বাসার, হাইকেল হাশমী, জুননু রাইন, সাকিব লোহানী, গাজী গিয়াস উদ্দিন, রেশম লতা, মেহেনাজ আক্তার, উম্মে সায়মা, সুমাইয়া আক্তার প্রিমা, ওয়াহিদ জামান, তনুশ্রী ঘোষ জবা, ফাহিমা আফরিন, পূজা ঘোষ, মাইশা ইসলাম, ফাতেমা আক্তার নিহা, সুদীপ্ত হান্নান, মনসুর আহমেদ খাঁন, সাব্বির আহমেদ সুবীর, জহির আহমেদ, শ্মশান ঠাকুর, আহমেদ রিজভী, নহলী নাফিসা খান, শাবানা নাভেদ, ড. লিপন মুস্তাফিজ, মো. ইব্রাহিম আজাদ, জামিল হাসান, রুদ্র মুহাম্মদ আনারুল, সুরাইয়া জাহান, রাবিবুজ্জামান লিয়াদ, মো. মেহেদী হাসান, ফজলুল হক মাতাব্বর, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, জন এস জাহাঙ্গীর আলম, আহমেদ জুয়েল, আহমেদ বাবু, মো. হাছির বিশ্বাস, মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাদমান সজীবসহ অনেকে।



