আবু তাহের সরফরাজের কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রতিদিন যদি
প্রতিদিন যদি শূন্যতা ঘেরা মানুষের সংসার
আমাদের চুম্বনের শব্দ পূর্ণতা হবে তার।
বিকেলবেলায় আমাদের নদী গোধূলির রাঙা তীর্থ
তীরে কাশবন আমরা দুজন নেই আর কারও ভিড় তো।
ভিড়ের গন্ধ গায়ে মেখে যারা হেঁটে যায় কোলাহলে
হেঁটে যেতে যেতে আমাদের দিকে তাকায় কৌতূহলে।
আমরা তাদের জীবনের পথে এঁকে দেব এই নদী
সবুজ পাতায় লিখে দেব গান— গেয়ে ওঠে তারা যদি!
তাদের কণ্ঠ বাতাসে ছড়িয়ে চলে যাবে বহুদূর
যুদ্ধ থামিয়ে সৈন্য শুনবে হৃদয়মথিত সুর।
প্রতিদিন যদি বিপ্লব তবে মুক্তি আসে না কেন?
আমাদের সম্ভোগে জন্মাবে হাজার লেনিন যেন।
মুখোশ
হয়তো আমি নিজের কাছে ভদ্রবেশী মুখোশ
হঠাৎ যদি জিগেশ করো, ‘মুখটা কোথায় লুকোস?’
বলব না তা, বলার মতো মুখটা যে আর নেই
মুখের গড়ন নানান বরণ, মোদ্দা কথা এই।
মানুষ আমি মানুষ তুমি এই যে মানবদেহ
মানুষ কিনা, ভাবছে না কেউ করছে না সন্দেহ।
মানুষ ছাড়া সকল প্রাণী ন্যাংটো খোলামেলা
এই পৃথিবীর নিয়ম মেনে করছে বাঁচার খেলা।
ভদ্রবেশী পোশাক পরে মানুষই একমাত্র
ন্যাংটো হয়ে ঘুরছে তবু দেখছে না কেউ গাত্র!
বেদানা ও বেদনা
বেদনার মতো আচানক এক
বেদানা ধরেছে গাছে
শেকড়ের নিচে ঘুমন্ত প্রাণ
ঘুম ভেঙে চেয়ে আছে।
গাছের ভেতর বেড়ে ওঠে প্রাণ
রক্তকোরক ওম
লাল নদী থেকে লাল সূর্যটা
ঘিরে আছে মহাব্যোম।
আহারে বেদানা মুখের রোচক
বেদনা তবে কি জীবন ঘোষক?
লাল লাল দানা ফেটে যায় গাছে
শেকড়ের ঘুম স্মৃতি হয়ে আছে।
শীতের শয্যা
ডাকে রাতজাগা ডাহুক পাখিটা
ডেকে ডেকে হয়রান
কী যে কাতরতা কণ্ঠের সুরে
আমরা ভাবি তা গান।
বাঁশবাগানের মাথার ওপর
আধখানা চাঁদ ঝোলে
নিঃসীম ওই মহাকাশ যেন
শূন্যে থেকেও দোলে।
দেহে উত্তাপ হাড় ঠকঠক
কেঁপে ওঠে কেন তবু?
আমি কি রাতের নীরবতা ভেঙে
চিৎকার দেব প্রভু?
শিশিরে পেতেছি শীতের শয্যা
শিয়রে কালের ঘড়ি
স্থির যেন, ঘোর অমানিশা
বক্ষে চাপিয়া ধরি।
আড়মোড়া ভাঙে শীতের রাত্রি
প্রতিদিন হয় ভোর
কুয়াশার ফুল পাপড়ির ভাঁজে
খোলে সূর্যের দোর।
পুবের দুয়ারে উঁকি দেয় রোদ
আলসেমি তার খুব
পৃথিবীর গহ্বর থেকে উঠে
দেখি পৃথিবীর রূপ।




