দিপংকর মারডুকের কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সম্ভাব্য সম্ভাবনা
ভবিষ্যতে হয়তো প্রচলিত বাংলা ভাষার বাক্যের গাঁথুনি ভেঙে যাবে, তৈরি হবে অন্য এক গাঁথুনি। প্রচল ভাষার ব্যাকরণ ভেঙে যাবে— যুক্ত হবে নানা রকম ইশারা-ইঙ্গিত। আমি এর নাম দিই ইশারা ভাষা। যে ভাষায় দু-একটা শব্দের মাধ্যমে ইশারা করে বাকি মনোভাব বুঝিয়ে দেওয়া যায়। ভাষা আসলেই এক পায়ে দাঁড়িয়ে নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে। যেমন এ সময়ে আমাদের নতুন ছেলেমেয়েরা বিশেষ করে, যারা ইংরেজি ভাষায় লেখাপড়া করে তারা ব্রাদারকে ব্রো বলে, সিস্টারকে সিস বলে, আংকেলকে আংক ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় যারা পড়ালেখা করে এখন অতটা না হলেও অনেকটাই কাছাকাছি, তারা পুরো বাক্য না বলে অর্ধেক বলেই পরস্পর বুঝে নেয়, বুঝিয়ে দেয়। এ কথার মানে হচ্ছে ভাষার বয়স আছে, নতুন-পুরাতন আছে, ধরন-ধারণের বদলাবদলি আছে। এ রকম একটি ভূমিকায় এই কবিতাগুলো একটি সম্ভাবনার মলাটে উন্মোচন করা যেতে পারে। সেই অর্থে এ-ও আগামীদিনের কবিতা। যে কবিতা অর্ধেকটা পাঠে, বাকি অর্ধেকটা শব্দের ইশারায় বুঝে নিতে হয়। কী হলো আর কী হলো না— তা নিয়ে কোনো শেষ কথা বলার সময়টা আসলে সূচনায় নয়। এর জন্য যেমন স্ট্রাগলসমেত জার্নিতে অংশ নিতে হয় এবং পথই তখন বলে দেয় পথের সন্ধান।
কবি আলফ্রেড খোকন
চাকার ভিতর সেতুহীন ডালিমের ঢেউ
দেয়াল টাঙিয়ে যে বর্ষাকাল চলে গেছে, তাকে শুধু বলতে চাই আবর্তন আমরা বিক্রি করি নাই। বৃষ্টি ও রাস্তার গন্ধ জমে আছে শিশুর নিজস্ব চোখে। পৃথিবীতে, সকলেই— যত বিগতফুল রেখে গেছো— সর্বাপেক্ষা তারা বেড়ে ওঠে প্রতিধ্বনি হয়ে, স্বাস্থ্যবিন্যাসের সূর্য অধিকার নিয়ে। ছায়া তাদের সাবলীল, হাজারও নিবিষ্টবন। এদিকে স্পর্শে আসে বাতাস। ত্রিশূলী নদীর অব্যয়ভাব। এবং উত্তরউপনিবেশ। যে শীর্ষ মৃত্যু দেখেছি সদয় তাপমাত্রায়, আর্দ্রতা ভাঙা দুঃস্বপ্নে। কোথায় তার বাজে মহাকর্ষসংকেত। আভা থেকে ঘিরে রাখা যার কালোপাথরের ঈষৎ যৌনতা।
প্রতীক্ষা ছিল সব জল অবধি। ভোর দুয়ারের ঘন্টা অতিক্রম করা প্রেমিকার ফলা। পথচারী কিংবা তালবীথির মধ্যে বেঁকে আছে স্তনবৃন্তসহ নাগরিক ঝিনুকের দ্যুতিপথ। এ যে মহিষের মুখ নয়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি উঠবে আবারও কারুকাজে...
নীল মাধ্যাকর্ষণের নিচে হাঁটার পর
আমরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছি মেঘের জন্য। এক পা সরাতে বলে, যে ঝাপসা দৃষ্টি তুমি রাখলে— তা হয়ত আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাবে। বিলীন হয় জলযুক্ত বন, তীব্র আবাবিল পাখির উচ্চতা। এই স্পষ্ট ছেড়ে যাওয়া কতদিন?
সমুদ্রে নিশ্বাস ত্যাগের আগে যদি নির্দেশ আসে— ঠোঁটের চারপাশে প্রাচীন জাদুবিদ্যার সমবায় বণ্টন। প্রকাশ হতে পারে পুরানোবার্তাসহ যাবতীয় রেলপাতার বিভূতিভূষণ মেঘ। এখন উপকূল রাখো। ক্ষুধার্ত লালকাঁকড়া নবাগত হবে সবুজ মীমাংসার মুহূর্তে।
যত উদ্দেশ্য, নিচ থেকে—অনুমতি পরিবর্তিত সময় রেখাকে নির্দেশক মেনে সন্ধ্যামালতির আড়ালে; অথচ কোথায় ছিল প্রাপকের রঙ? পাপড়ি বিষয়ক কালো উজ্জ্বলতা উপস্থিত রেখে আমরা আবার লাইনে দাঁড়িয়ে যাই; পরিচ্ছন্ন, সাজানো কিংবা বহুব্রীহিলতায় নির্মিত মেঘের প্রতিশব্দ হাতের আঙুলে জেনে!
শুধু জানি নতুন মেঘে ফুটে আছো তুমি
কিনতু এগুলো কিছুই নয়, এক বিচ্ছিন্নতাবাদী সোডিয়াম মিশ্রিত উত্তরপর্বের অপেক্ষা ছাড়া। চলমান কাগজ টুকরো টুকরো করো— যদি গ্রহন করে—পরিষ্কার করে নেয় এবং পাঠিয়ে দেয় শেষ সন্ধ্যার আবহাওয়ায়। আমি লেলিহান রাজ্যের দস্যু বহনে নিয়ে চলব। যখন ব্যর্থ হবে লোহার পাত— নিছক বৃশ্চিকরাশির জাতকে স্তব্ধবন।
কোনো রূপ নেই গয়নার বাক্সে— কিছুটা লাল হওয়া একটি আলোর দিকে— যেখানে অস্ত্রাগার দেখেছি ভেজা প্রাণের ভিতর। আজ দীর্ঘকাল মেঘনা স্রোত লুকিয়ে রাখো তুমি। কোথায় তার নিশ্বাস? কোথায় শোভাযাত্রার প্রাচীরে ছাতিম ফুলের সমান ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় অরণ্য? এই দারুণ সংবেদনশীল একক সীমানা উপরে চলেছি তোমাকে দেখে— যেভাবে পুনরায় সাঁকো পায় হয়ে যেতে হয় শৈলকূপায় কিংবা বালুনদীর অসংলগ্ন সেলাইমেশিনে...
সুর আর প্রীতি জমে থাক— ঘন্টা খুলে—চিহ্ন খুলে—উদ্ধত হবে দীঘি; এখন পরিতৃপ্ত পাতার মর্মে উঠানামা করবে দক্ষিণ মেরুর বোর্ড, রানী মৌমাছির নির্মোহ চোখ।
আবারও কিনারে যায় মাছরাঙাপাখির বোঝাপড়া
কিছু দুষ্প্রাপ্য রাস্তা দূরবর্তী হওয়া ভালো। নিজের কাছে। তুমি তার দিকে তাকিয়ে হেঁটে গেছো ধাতুরূপ, বিশেষণ ফলকের বিবেচিত ভিড়। উদগ্রীব ঘনিষ্ঠতা আমার। লালমুনিয়ায় বোঝাপড়ার আগে নিরাপত্তা করি শ্রমক্ষেত্র। এবং অর্ধপরিচিত নাম যদি ডাকে কার দিকে যাবো— ছন্দবিদ্যা নাকি যৌনবিদ্যা? সান্নিধ্যে তোলো এখন— ফিরিয়ে নিতে হবে নৌকার স্মৃতি— এই সমষ্টিগত প্রবাল মনে রাখতে গিয়ে ভিতরে আসে বয়ঃসন্ধির নিমজ্জিত খাজনাবন। পাশে একাকী স্রোত— লুকিয়ে তামার নক্ষত্র গণনা করি।
তাবৎ স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ মিশ্রিত আমার সমাচার। এই তো অপ্রচলিত শব্দে জানা গেলো, নির্জনতা— বাইরের বিচ্ছুরিত পায়রায় ছুটতে থাকা। প্রতিউজ্জ্বল পূর্ব আলো, শুধুমাত্র পর্বের ব্যবচ্ছেদ আরও নিচে দিতে পারি। যে বৃষ্টিশব্দ পড়ে গেছে—তাকে যদি আরোহীর কাছাকাছি মাছরাঙাপাখি করা যায়।



