প্রিয় ৫ বই
- দন কিহোতে— মিগুয়েল দে সার্ভেন্তেস
- দ্য ব্রাদার্স কারমাজভ— ফিওদর দস্তয়েভস্কি
- দ্য পিলারস অব দ্য আর্থ— কেন ফলেট
- সঞ্চয়িতা— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- সেই সময়— সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয় বই তো অজস্র। কোনো বই নির্ঘুম রাত জাগিয়ে রেখেছিল, কোনোটি মনের মধ্যে ঝড় তুলেছে দিনের পর দিন। এত এত প্রিয় বইয়ের ভাণ্ডার থেকে মাত্র পাঁচটি বেছে নেওয়া সাগর সেচে মুক্তো আহরণের মতোই। তবু চেষ্টা করছি।
প্রথমেই যে বইটির কথা বলতে হবে সেটি কিশোর বয়সে পড়া, তাও সংক্ষেপিত অনুবাদ। পরে অবশ্য পুরো বইটাই পড়েছি, তাও অনুবাদেই। বইয়ের নাম ডন কুইক্সোট, সঠিক উচ্চারণ সম্ভবত ‘দন কিহোতে’। খ্যাপাটে এক স্পেনীয় ভদ্রলোক একদিন প্রিয় শিষ্য সাঙ্কো পাঞ্জাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন দুনিয়া ঘুরে আসার জন্য। তারপর যা হলো তা এক এপিক। উইন্ডমিলকে দানব ভেবে যুদ্ধ শুরু করাসহ অদ্ভুতুড়ে সব কাহিনি। সারভান্তেসের লেখা অমর এ উপন্যাস একবার হাতে না নিলে শেষ না করে উপায় নেই।
এরপর বলব ‘দ্য ব্রাদার্স কারমাজভ’ বইটির কথা। লিখেছেন ফিওদর দস্তয়েভস্কি। দস্তয়েভস্কির বই বলতে সবাই ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’-এর কথাই বলবে। আমি বলব ব্রাদার্সের কথা। ফিওদর কারামাজভ নামে এক ধনী লোকের হত্যাকাণ্ড এবং এজন্য তার পুত্র দিমিত্রিকে দোষী সাব্যস্ত করাকে ঘিরেই বইয়ের কাহিনি। মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব আর আত্মশুদ্ধির অসাধারণ শিল্পিত প্রকাশ ঘটিয়েছেন দস্তয়েভস্কি। আমার কাছে একটি ‘মাস্ট রিড’ বই।
আমার তৃতীয় প্রিয় বই ‘দ্য পিলারস অব দ্য আর্থ’। লিখেছেন কেন ফলেট। ‘আই অব দ্য নিডল’ লিখে বিশ্বখ্যাত হওয়া ফলেটের সম্ভবত সেরা বই এটি। দ্বাদশ শতকের ইংল্যান্ডে কিংসব্রিজ নামে কাল্পনিক এক শহরে একটি গির্জা তৈরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি সাজিয়েছেন ফলেট। প্রেম, ঘৃণা, ক্ষমতার লোভ, সামাজিক বৈষম্যের অসাধারণ এক গাথা। ইংরেজিতে ‘আনপুটডাউনেবল’ যেসব বইকে বলে সেরকম। শুরু করলে শেষ করতেই হবে।
চতুর্থ প্রিয় বই রবীন্দ্রনাথের ‘সঞ্চয়িতা’। পৃথিবীতে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে বড় কবি বা গীতিকার আছে বলে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না। রবীন্দ্রনাথের কবিতা আর গান মানেই অলৌকিকের স্পর্শ। তৃষ্ণার শান্তি। যেহেতু প্রতিটি কবিতা ও গান তিনি নিজে বেছে নিয়েছেন, প্রতিটিই অনন্য। কত হাজারবার যে ‘সঞ্চয়িতা’ পড়েছি ইয়ত্তা নেই। কখনো কয়েক মুহূর্তের জন্য, কখনো সারা দিন ধরে পড়েছি। মানুষের সৃজনশীল প্রতিভার শ্রেষ্ঠতম বহিঃপ্রকাশ এ বই, যেটি সুখে-দুঃখে-আনন্দ-বিষাদে আমার চিরসঙ্গী।
তালিকার শেষ বই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেই সময়’। বছর ত্রিশেক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে পড়েছিলাম বইটি। একটা ঘোরের মধ্যে পড়া শেষ করেছি এবং সেই ঘোর বহুদিন কাটেনি। মধ্য উনিশ শতকের বদলে যাওয়া বঙ্গদেশের অসাধারণ এক রূপায়ণ এ বই। সে সময়ের বাবু-সংস্কৃতি, অভিজাত সমাজের ভণ্ডামি আর বিলাসিতা, সাধারণ মানুষের দুর্দশা চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সুনীল। আমার চোখে শুধু সুনীলেরই নয়, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা উপন্যাস।



