আহমেদ স্বপন মাহমুদের কবিতা ‘সেসব সুন্দরতার দিন’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
১
এ এক প্রকাশ্য বাসনা
যদি মরে যাই—
পুষ্পবৃষ্টি হয়ে পুনরুত্থানে
জেগে উঠে, যদি
তোমাদের বুলেট ও জ্যোৎস্নার গল্প বলি—
পূর্বপুরুষের ত্যাগের মহিমা—
নদী বেয়ে যত রক্ত বয়েছিল
মায়ার চোখে জ্বলেছিল হিম
হারানোর বেদনায়
তখনো কি তোমরা স্বীকার করবে না
আদি পুরুষ ও প্রকৃতির দানের কথা!
২
যদি হতে পারো
প্রাণ ও প্রকৃতির প্রণয় হয়ে
উদার সন্ধ্যা বেয়ে চলে এসো।
রাত্রির গায়ে শুয়ে
সুপ্রাচীন ইতিহাসে ঘুরে এসে
পুনরায় দেখব সাত আসমানে
রূপ ও অরূপ
কী করে নিরাকার হয়ে
আমাদের অন্তরে গেঁথে আছে
প্রণয় বাসনা—
বাসনাহীনায়।
৩
দাঁড়াবার কোনো জায়গা না থাকলে
সেখানেই দাঁড়িয়ে যেতে হয়।
বুকের চওড়ার সমান কিছু নাই আর
জমিনে।
আসমান, সে-ও শূন্যতার হাহাকার নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে।
দাঁড়াবার কৌশলই
জানাবে শিকল ভাঙার গান
কীভাবে গেয়ে জাগাতে হয়
শরীর ও প্রণোদনা।
দাঁড়াতে জানলেই কেবল দৌড়ানো যায়
পায়ের কসরত এতটুকু শুধু।
বাকি সব স্বপ্ন, অথবা সমাধি।
না হয়, মানুষ কেবল
হাত-পা বিশিষ্ট সুচতুর পতঙ্গ সমান।
৪
সেসব সুন্দরতার দিন
মলিন বিবসনা আজ
জমে আছে স্তূপাকারে
অবহেলায়—
নির্মমতার কোনো স্থানকালপাত্র নেই।
বন্দুকের নিশানা যেকোনো সময়
বদলাতে পারে দিক
দিগ্বিদিক যারা ওড়াচ্ছে অবলীলায়
হিংসা ও ঘৃণার গরিমা
তারাও বিলীন হবে পলে
কেবল ভালোবাসা জারি হলে
সৌন্দর্য জেগে ওঠে
স্বপ্ন ও সমুদ্রের গান গায়।
তখন সকল কালি ও কালিমা
নীলিমায় বিলীন হয়ে
দেখাবে আলোর মুখ।
প্রেম ও সৌন্দর্য কখনো থাকে না গোপন।
৫
নরম তুলতুলে পশমের একটা গুলি
আমার বুক ভেদ করে চলে যাবার পর
বুক থেকে রক্ত ঝরছিল।
তার চেয়ে বেশি অনুরক্ত ছিল প্রাণ
সাধে ও সাধনায়
দুনিয়ার রীতি এই
মরিবার কোনো কারণ লাগে না।
ঈশ্বরেরা যেকোনো অজুহাতে
বন্দুক হাতে দাঁড়াতে পারেন সামনে
আসমান জমিন লম্বা ক্ষমতার
প্রমাণ লাগে না আর
কেবলই বুকে রক্ত ঝরে
কেবলই জাতীয় অন্ধকার
ক্রসফায়ার।




