নির্বাচিত কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গোলাম কিবরিয়া পিনু
পুঁচকে ইঁদুর
পুঁচকে ইঁদুরদের উৎপাত এতটা বেড়েছে
পাহাড়ের পাদদেশে,
পাহাড়ও অবাক!
ইঁদুরগুলো আজ কোন বেশে?
নুড়ি পাথর সরাতে পারছে না,
সরাবে পাহাড়!
পাহাড়কে ঠোকরায়—
ঠোকরানোর শব্দে শুধু বিরক্তি উৎপাদন করছে,
আর কোনো উৎপাদনের শক্তি নেই!
গিরিচূড়ায় ওঠার সাহস নেই—
গিরিশৃঙ্গে উঠে অয়নবায়ুতে থাকার মুরোদ নেই!
নিজের শক্তি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই
তারপরও ভাবে—
পাহাড়কে ঠোকরাতে ঠোকরাতে ফেলে দেবে!
ইঁদুরগুলো সারা জীবন ব্যয় করলেও—
পাহাড়ের বিশালত্ব অনুধাবন করতে পারবে না!
তারা আজ চারণভূমিতে না থেকে
শিলা ও উপলখণ্ডের ভেতর ঢুকে পড়েছে,
কখন যে গণ্ডকূপে পড়ে যাবে!
ফরহাদ নাইয়া
তারা
দুনিয়ায় কতকিছু ঘটতেছে,
তুমি ঘটতেছ নয়ন তারায়।
ওড়ার কৌশল ভুলে পানিতে নামি, বুক সমান চাঁদ নড়ে ওঠে, আর যা ছোট ছোট নক্ষত্র, জীবনানন্দের অদ্ভুত আঁধারের মরিচায়। তবুও তো বলছি নক্ষত্র আছে।
ডুব দিয়ে এখনো ধরা যাচ্ছে মাটির ভেতরে লুকিয়ে থাকা গ্রহাণু। আমাদের পরিচিত এক বন্ধু ইট। তার বউ কুড়িয়ে পাওয়া পাথর, তার পুত্র জন্মায়নি, তবে শুনেছি তাদের কন্যা ফায়ার সার্ভিসের লাল গাড়ি।
তার পেট ভর্তি পানির কথা ভাবলেই আমার তৃষ্ণা পায়, সে আগুন নেভানোর জন্য ছোটাছুটি করে। আগুন নেভে না কেবল আগুনের দৃশ্য ভিজে যায়। ইটের ভেতরের সেই ভেজা লালে বুক সমান চাঁদ নড়ে ওঠে। আমি রক্তের ভেতর ডুব দিই, আগুনের ভেতর চলে আসি।
আগুনের ভেতর ডুব মারি, পাথরের ভেতর চলে আসি। পাথরের ভেতর ডুব দিয়ে আর কোথাও যাইতে পারি না। সমুদ্রের অর্ধেক লেজে তার চিৎকার শুনি।
কাটা বাতাসের কষে আজ সারারাত তার ঘুম লেগে আছে।
মাশরুরা লাকী
ব্লেইম-গেইম
শ্বাসরুদ্ধ অগ্নিকূপ ছিল নাকি—
সেদিনের যৌথতা, দ্বিপক্ষযাপনা
পুরনো গ্লাসে বিষফেনিল রেশটুকু
ঠোঁটে, অবশিষ্ট রয়ে গেছে, স্থির!
কাঠফলকে পোড়া চিহ্নাবলি
প্রতিটি কথা ছিল জ্বলন্ত অঙ্গার
চোখভর্তি ছিল ভদকা-গভীর
আগুন, অন্ধকার প্রদীপ মাত্র?
যে হাসি জড়িয়ে ছিল মুখশ্রীতে
ভেল্কি ছিল নাকি কুহকাবৃত?
ক্রিস্টাল, বিষ প্রলেপনে!
ভঙ্গুরতায় আঙুল ডোবানো
অনাদরের ধারালো স্ক্যালপেল
রক্তশূন্য করতো বর্ণিল অর্থসমূহ
গ্লোবাল নেটওয়ার্কে তারই জিহ্বা
ছিল নাকি জ্বলন্ত লালবাতি
নৈর্ব্যক্তিক ক্রুশের ওপরে
ভাষাতাপে ফুলে উঠত তার
ডিজিটাল রাজদণ্ডখানা
এই জরায়ুতে আগুনের ঘ্রাণপুঞ্জ
ভস্মীভূত সম্ভাবনার প্রত্নস্তর?
ব্যথানাশক খুঁজি কালক্রমিক—
ছিল নাকি এ-জীবন, প্রত্ননথি
ছাই-চাপা আগুনের পোস্টমর্টেম
রিপোর্টের নীরবতা ফিসফিস কানে
ফিজিক্যাল ব্যারিয়ার টানা—
দেহের মানচিত্রে আঁকা ছিল
অদৃশ্য কারাগারের ব্লুপ্রিন্ট।
তাসলিমা রুবি
মেঘবালিকা
আকাশে টাঙানো রোদ— নীল চোখে নীরব হাসি,
অকপট বাতাস বয়ে যায় কাশফুলের ঘ্রাণে
খোলা চরের বুকে আজ মেঘবালিকার ছায়া,
শাদা ফিতে দোলে দূর দিগন্তের গানে।
হাঁসের পায়ের ছাপ মুছে যায় জোয়ারহীন জলে,
ঝিনুক পড়ে থাকে বালুর অন্তরালে
ঘাসের কঙ্কাল যেন মোহনার মুগ্ধতায়
আটকে আছে কোনো বিস্মৃত বর্ষার জালে।
এই বুঝি নতুন জোয়ার— এই বুঝি আসে জল,
সাদাকালো যাযাবর মেঘ নামে চর জুড়ে
রেশম-তন্তুর মতো মুগ্ধতা উড়ে যায়,
নিরুপমার শাড়ির গন্ধ বাতাসের সুরে।
তারপর মেঘগুলো ফেরে আকাশের বাড়ি—
ঝিরিঝিরি ঝরে শুধু শূন্যতার শাড়ি।



