Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
২১০০ কবর খুঁড়েছেন জাকির
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কাজললেখা

অনতিক্রান্ত

ওয়াসি আহমেদ
agamir somoy
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৮
অনতিক্রান্ত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

এই মার্চের শুরুতেই বাতাসে গরমের ভাপ দিন দিন বাড়তে থাকলে ঘরের ভেতরে সুরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে এসি না লাগিয়ে কী করা!

ঠিক এভাবে না বললেও জাহেদ যখন কথাটা কিছুটা অজুহাতের কায়দায় বলেছিল, আলী আমজাদের তেমন কিছু মনে হয়নি। টাকা-পয়সা তো সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য। বাবা হিসেবে তিনি ছেলেমেয়ের জন্য যতটা পেরেছেন করেছেন, এখন তাদের আয়-রোজগারের সঙ্গে তাল রেখে তারা যদি স্বাচ্ছন্দ্যের সীমানা বাড়াতে চায়, আপত্তির তো কিছু নেই, বরং তা সুখকর হওয়াই উচিত। বড় ছেলে এই জাহেদ কাজ করে ব্যাংকে। ব্যাংক থেকে লোন দিয়ে ঢাকায় ফ্ল্যাট নিয়েছে মাস ছয়েক হলো। এলাকাটাকে উচ্চমধ্যবিত্ত পাড়া বলা যায়। বাড়িঘর বলতে প্রায় সবই উঁচু উঁচু অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং, যারা থাকে তারা যথেষ্ট সচ্ছল সন্দেহ নেই, অনেকেরই গাড়ি আছে, জাহেদ নাকি গাড়ির লোনও পাবে। আলী আমজাদ অবশ্য বলে রেখেছেন গাড়ির জন্য টাকা লাগলে তিনি কিছু দিতে পারবেন— অন্তত আধাআধি, এতে লোনের চাপ কিছুটা কমবে। জাহেদ হ্যাঁ-না কিছু বলেনি। এখানেও সেই স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপার, গাড়ি হলে জাহেদের দুই ছেলেমেয়ের স্কুলে যেতে-আসতে সুবিধা, তাদের স্বামী-স্ত্রীর সময় অনেক বাঁচবে, ঝামেলাও কমবে।

নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার পর বাবা-মাকে ঢাকায় কিছুদিন তাদের সঙ্গে থাকার জন্য জাহেদ তাগাদা দিয়ে যাচ্ছিল। আসব আসব করে দিন পনেরো আগে স্ত্রী নুরজাহান বানুকে নিয়ে আলী আমজাদ পল্লবীর এই ফ্ল্যাটে এসে উঠেছেন, সপ্তাহ দুয়েক বা বড়জোর মাসখানেক থাকার ইচ্ছা। মনে মনে পুষে রাখা ইচ্ছাটা জানাজানি হতে জাহেদ হুঁশিয়ার করে বলেছে, তিন-চার মাস তো যাক, পরে দেখা যাবে। যুক্তিও দেখিয়েছে, আলী আমজাদ ও নুরজাহান দুজনেরই নানা রোগবালাই, থরো চেকআপ করিয়ে ডাক্তারের নির্দেশ মেনে চলতে সময় লাগবে। কিছুটা বিরক্তিও ছিল তার কথায়, আসতে না আসতে যাই যাই! সেই সঙ্গে এও যোগ করেছে, বাড়িতে তোমাদের কী কাজ! আমেনার মা রয়েছে, ওই সব দেখেশুনে রাখতে পারবে, গত বছর হজে গেলে, বাড়ির দেখভাল তো ওই করেছে, ভালোই করেছে।

এসি যেদিন লাগানো হলো, আলী আমজাদের মনে কীসের যেন উশখুশ? ফ্ল্যাটের তিন বেডরুমের প্রতিটিতেই স্পিল্ট এসি, ড্রইং-কাম ডাইনিংয়ে এখনো লাগেনি, সাপ্লায়ার জানিয়েছে তিন টনের ভালো মেশিন স্টকে আপাতত নেই, আসামাত্র লাগিয়ে দেবে। তেমন ঝুটঝামেলা ছাড়া, নির্বিঘ্নে কাজটা হয়ে যাবে আলী আমজাদের ধারণায় ছিল না। মিস্ত্রিরা যস্ত্রপাতি নিয়ে এ-ঘর ও-ঘর করছে, দেয়ালে ড্রিল করছে, সুইচ-প্লাগ পয়েন্ট বদলে দিচ্ছে বা নতুন লাগাচ্ছে— সবকিছুই যেন আগেভাগে ঠিক করা, কেউ কারও সঙ্গে বড় একটা কথা বলার দরকার মনে করছে না। মিস্ত্রিদের আসার খবর পেয়ে জাহেদ ব্যাংক থেকে এসে ওদের সঙ্গে কিছু কেজো কথাবার্তা সেরে চলে গেছে। তার বউ স্বর্ণা বাচ্চাদের স্কুল থেকে আনতে গিয়ে মনে হয় তার মায়ের বাসা শ্যামলী হয়ে আসবে। ঘরে আলী আমজাদ ও নুরজাহান। বছর বারো-তেরোর কাজের মেয়েটা মাঝে মাঝে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাচ্ছে, একসময় সে চা বানিয়ে মিস্ত্রিদের খাইয়েছে। ওরা চেয়েছে, না নিজে বুদ্ধি করে বানিয়েছে কে জানে!

গেস্টরুম বলে যে ঘরটায় আলী আমজান ও নুরজাহান বানুর ঠাঁই হয়েছে, সেটার লাগোয়া ছোট ব্যালকনি। করার কিছু না পেয়ে আলী আমজাদ একটা বেতের মোড়া টেনে ব্যালকনিতে বসতেই টের পেলেন উশখুশ বলে যা ভেবেছিলেন তা আসলে এক ধরনের ছটফটানি, যা তাকে সুস্থির হতে দিচ্ছে না। কেন এমন হচ্ছে বুঝতে পারছেন না, শারীরিক কোনো অসুবিধার লক্ষণ তো টের পাচ্ছেন না। বসে বসে ঝিমুনি এসে গিয়েছিল। হঠাৎ চোখ তুলে সামনে গলির রাস্তায় তাকাতে কী হয়ে গেল, আলী আমজাদ চমকালেনই না, মনে হলো তিনি যেখানে বসে তা এই ফ্ল্যাটবাড়ির গ্রিলমোড়া ব্যালকনি নয়। তিনি বসে বা দাঁড়িয়ে বছর তিরিশেক আগে তার নবীনগরের বাড়িতে। সামনে তিরিশ বছর আগের একটা চনমনে দিন। সেদিন তার বাড়িতে প্রথমবারের মতো গ্যাস সিলিন্ডার ঢুকেছিল। তিরিশ বছর আগের দিনটা স্মরণীয় হলেও এত বছর পর হঠাৎ কেন জাগরূক হবে, ভাবতে গিয়ে আশ্চর্য হলেন।

আশ্চর্যের আরও বাকি ছিল যখন দেখলেন তিরিশ বছর আগের দিনটা যেন এখন, এই মুহূর্তে চোখের সামনে কলি ফুটিয়ে পাপড়ি-টাপড়ি মেলে গড়ে উঠছে। ভোরে আকাশে মেঘ জমেছিল, ফোঁটায় ফোঁটায় কিছু ঝরেও ছিল, তবে বেলা বাড়তে আশ্বিনের মেঘলা হাওয়াকে হটিয়ে চওড়া রোদ উঠেছিল। নির্ভার রোদ-চিকচিক আকাশ-বাতাস। চৌচালা টিনের ঘর, গোলগাল উঠানে হাঁস-মুরগির হুটোপাটি, উঠানের পশ্চিম কোণে বাতাবিলেবু গাছের পাশে খুঁটিবাঁধা লাল গাইয়ের ওলান থেকে প্লাস্টিকের নীল বালতিতে তীরের মতো ছিটকানো দুধ— এক এক করে সবই যেন আড়মোড়া ভেঙে জাগছে। রোজ রোজ ঠিক এভাবে না হলেও বছরব্যাপী দিনগুলোর শুরুটা মোটামুটি এরকমই। তারপরও সেই দিনটার সঙ্গে তুলনা চলে না। তার নিজের মনের ও ঘরের ভেতরের চাঞ্চল্য মিলিমিশে সে এক আশ্চর্য অস্থিরতা। এমন অস্থিরতারও তুলনা হয় না— উদ্বেগ নেই, দুশ্চিন্তা নেই, শুধু একটা কিছু ঘটবার অপেক্ষায় সুস্থির হতে না পারার মধুর বিড়ম্বনা আলী আমজাদ যেমন টের পাচ্ছিলেন, নুরজাহান বানু ও ছেলেমেয়েদেরও তা পেয়ে বসেছিল।

আশপাশের কয়েকজন পড়শি এসে যোগ দিয়েছিল, সঙ্গে বাচ্চারাও ছিল, তবে তাদের মধ্যে অধীরতার চেয়ে কৌতূহলই বেশি। একসময় অপেক্ষা, অধীরতা, কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে ঘটনাটা ঘটতে শুরু করেছিল। চার চাকার প্যাডেল ভ্যানটা ততক্ষণে উঠানে এসে থেমেছে, রোদটা তো আগেই ছিল— চওড়া, নির্ভার— এবার যেন একঝলক তেজি রশ্মি ছুড়ে দিতে ভ্যানে শোয়ানো টুকটুকে লাল গ্যাস সিলিন্ডারের গা থেকে ফোয়ারা মতো রঙ ছলকে উঠল। সেই দৃশ্য, হুবহু সেই দৃশ্যটা এত বছর পরও তাকে চমকে দিতে তৈরি, এর মতো আশ্চর্যের কী হতে পারে!

বেশি ভাবাভাবিতে না গিয়ে সোজাসাপ্টা যা মনে এলো তা এরকম— জাহেদের এই ফ্ল্যাটে তিন-তিনটা এসি লাগানো হলো, লাগানো পর্যন্তই; কোনো কলরোল নেই, উদযাপন নেই, বলতে গেলে সামান্যতম হেলদোলও না। তেমন কিছু ঘটার সুযোগইবা কোথায়! ঘরের মূল বাসিন্দাদের কেউই আশপাশে নেই। অন্যদিকে মাত্র একটা গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কী কাণ্ডই না ঘটেছিল তিরিশ বছর আগের সেই দিনে!

আলী আমজাদের তখন যুবক বয়স, চল্লিশও হয়নি, সংসার চালাতে খাটাখাটনি করতে হতো, তবে অভাব-অনটনে বড় একটা পড়তে হয়নি। বাপ-দাদার রেখে যাওয়া জমা-জমি ছিল, তাতে হেসেখেলে বছর-খোরাকি হয়ে যেত। এ ছাড়া তার ছিল একটা রাইস মিল। ক্যাশ যা আসত ওই মিল থেকে। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মন্দ কাটছিল না। গ্রামের হিসেবে সম্পন্ন গৃহস্থই বলা যেত তাকে।

বাড়িতে ছিল বাবার আমলের একটা বড়সড় টিনের চৌচালা, লাগোয়া ভাঁড়ার ঘর, রান্নার জায়গা, গোয়াল আর পরিপাটি উঠান। রান্নার জায়গাটা ছিল খোলা, বৃষ্টি-বাদলায় খুব কষ্ট হতো নুরজাহানের। অবশ্য তখন আশপাশের সব বাড়িতেই রান্নার ব্যবস্থা খোলা জায়গায়। খোলা জায়গায় রান্নার ব্যাপারটা যে আলী আমজাদকে খোঁচাত, তা মুখে প্রকাশ না করলেও তক্কে তক্কে ছিলেন কবে নুরজাহানের জন্য একটা ইটের দেয়ালওয়ালা রান্নাঘর করে দেবেন। সেই সঙ্গে অন্য যে বিষয়টা সুযোগ পেলেই তাকে উসকে দিত, তা গ্যাসের সিলিন্ডার। খড়ির চুলার নানা দুর্ভোগ থেকে নুরজাহানকে মুক্তি দেবেন, এ যেন একটা সংকল্পের মতো মাথায় গেড়ে বসেছিল। প্রথমে রান্নার জায়গায় পুরোদস্তুর ঘর উঠবে, তাও ইটের গাঁথনিতে। ব্যাপারটা নুরজাহানের কাছে কিছুটা আজগুবি লেগেছিল। খোলা জায়গায় অসুবিধা যেমন, সুবিধাও কিছু রয়েছে। বিশেষ করে ধোঁয়াটা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এদিক-ওদিক চলতে ফিরতে পারে। দেয়াল-বন্ধ ঘরে ধোঁয়া বেরোনোর পথ কোথায়? আলী আমজাদের মুখে তখন মুচকি হাসি। হাসিটাকে মাটি না করে তিনি পাল্টা প্রশ্নে নুরজাহানকে ধঁাধায় ফেলেছিলেন, ধোঁয়া? পরে যখন রহস্য ভেঙে সিলিন্ডারের কথা শুনিয়েছিলেন, সেই সঙ্গে এও— পরিকল্পনাটা তার বেশ কিছুদিনের, নুরজাহান হতভম্ব মুখে কয়েক সেকেন্ড স্বামীর দিকে তাকিয়ে কী ভেবেছিলেন সে খবর আজও জানা হয়নি।

শুরু করার পর মাত্র দিন সাতেকে দেয়ালের ঘের দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। কাজ তখনো অনেক বাকি— ছাদ ঢালাই, পলেস্তারা লাগানো, কাঠের কাজ, দেয়ালে তাক বসানো, পানি ধরে রাখতে কংক্রিটের হাউজ। কাজ যত এগোচ্ছিল, আলী আমজাদের অধীরতা বাড়ছিল। কবে শেষ হবে, কবে তার সংকল্প পূরণ হবে। ততদিনে তার অধীরতা তার নিজের থাকেনি, নুরজাহানকেও পুরোমাত্রায় দখল করে ফেলেছিল। ছেলেমেয়েরা ছোট, তবু তারা বুঝতে পারছিল ঘটনা একটা ঘটতে যাচ্ছে। সিলিন্ডারের নাম তারা এর-ওর মুখে শুনতে পাচ্ছে, কিন্তু সেটা কী জিনিস, চোখে না দেখা পর্যন্ত বোঝার উপায় নেই। লাকড়ি লাগবে না, চোঙ ফুঁকতে হবে না, এমনি এমনি আগুন জ্বলবে— ব্যাপারটা গোলমেলে বৈকি! সব কৌতূহল, অধীরতার যবনিকা টেনে ভ্যান থেকে যখন সিলিন্ডারটা দুই-তিনজন অতি সাবধানী হাতের বেড়ে নামাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল লোহার তৈরি বেঢপ জিনিসটা লাল কাঁথা মোড়ানো একটা তুলতুলে শিশু, অসাবধানে হাত ফস্কে পড়ে গেলে মহা অঘটন ঘটে যাবে। তারপর সদ্য তৈরি কংক্রিট স্ল্যাবে বসানো দুই বার্নারের চুলার সঙ্গে সিলিন্ডারের নল জুড়ে দিয়ে যেই চাবি ঘোরানো হলো, ধোঁয়াহীন নীলচে আগুনে কৌতূহলী অনেকের হতবুদ্ধি হওয়ার পালা। খুঁটিনাটি ঘটনাগুলো ও উঠানভর্তি মানুষের কলোরলে আলী আমজাদের মনে হচ্ছিল দিনটা স্মরণীয়, এমন দিন কদাচিৎ আসে। নুরজাহান বানুর সঙ্গে পরামর্শ করে রেখেছিলেন গ্যাসের চুলায় প্রথমেই যা রান্না হবে, তা পায়েস। জোগাড়যন্ত্র আগেই করে রাখা ছিল; দুধ, আতপ চাল, পাটালি গুড়, কিশমিশ, পেস্তা-বাদাম কিছুই বাদ যায়নি। বড় হাড়িতে দুধ জ্বাল দিতে দিতে নুরজাহান বানু নিশ্চয়ই তার মতোই ভেবে থাকবেন, এমন দিন কদাচিৎ আসে। পায়েস দিয়ে পড়শিদের আপ্যায়ন দুপুর গড়িয়ে বিকাল পর্যন্ত চালু ছিল। বসে বসে কতক্ষণ কেটেছে খেয়াল ছিল না, ধাতস্থ হলেন নুরজাহান বানুর সাড়া পেয়ে। হাতে চায়ের কাপ ধরিয়ে বললেন, ঘামছ তো, কী রইদ বাইরে, ভিতরে আসো, এসির ঠান্ডা খাও।

আলী আমজাদ জবাব দিলেন না, চায়ের কাপে চুমুক দেবেন বলে মুখের কাছে নিয়েও নামিয়ে নিলেন। চা তার খুব প্রিয়, কোনোদিন আট-দশ কাপও হয়ে যায়— তাও দুধ-চিনির চা। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, ডায়াবেটিস হওয়ার বয়স অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছেন। নুরজাহান অবশ্য ভুগছেন, রাতে সতেরো, সকালে দশ ইউনিট ইনসুলিন নেন। চায়ের নেশা এককালে তারও ছিল, চিনি ছেড়ে দিতে তিনি মন খারাপ করে চাও ছেড়েছেন।

— কী মনে অয়?

হঠাৎ এ পশ্নে নুরজাহান ভ্যাবাচেকা মুখে তাকালে আলী আমজাদ ধীরে কাপে ঠোঁট ছোঁয়ালেন। নুরজাহান ঠিকই বলেছেন, গরম লাগছে, বাইরের তাতানো রোদ-গরম যেন এই চিলতে ব্যালকনিকে বাগে পেয়ে জেঁকে ধরেছে। পরনের ফতুয়ার বুক-পিঠ ঘামে ভেজা, মাথায় একটা চিনচিনে যন্ত্রণাও হচ্ছে। গরমে গরম কাটে কথাটা মনে করেই কি না তিনি দু-তিনটা লম্বা চুমুকে চা শেষ করে খালি কাপ নুরজাহনের দিকে না বাড়িয়ে কোলে নিয়ে বসে থাকলেন।

— কী জানি বললা?

আলী আমজাদ ফাঁকা দৃষ্টিতে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মনে করতে চাইলেন কী বলেছিলেন। না, কিছুই বলেননি।

— খামাখা গরমে বইসা রইছো, ভিতরে লও। মুখ বেকা কইরা আছ ক্যান? জাহেদ কামের কাম করছে, গরম আর এই ফেলাটে ঢুকার পথ পাইব না। তুমি খুশি হও নাই?

নুরজাহান আরও কীসব বললেন, আলী আমজাদ ঠিক ধরতে পারলেন না। তার মনে হলো এখনো নবীনগরের বাড়ির উঠান লোকজনের হাঁটাচলায় মুখর আর পায়েসের সুগন্ধ-সৌরভে মাতোয়ারা বাতাস। সেই ঘ্রাণটা অবিকল নাকে পাচ্ছেন। নুরজাহানকে কি মনে করিয়ে দেবেন দিনটার কথা? তার কেন জানি সন্দেহ হলো নুরজাহান হয়তো ঠিকমতো মনে করতে পারবেন না। সিলিন্ডারের ঘটনা মনে করতে পারলেও সেই ঘটনা ঘিরে সেদিন যা যা ঘটেছিল, তা কি তার মতো মাথায় গোছগাছ করে তুলে রেখেছেন? কে জানে, এতদিনের পুরনো ঘটনা। তার চেয়ে এই কি ভালো না— তিনি একাই তিরিশ বছর উজিয়ে উঠান-ভরা উৎসুক নারী-পুরুষ ও শিশুদের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন, ভ্যান থেকে পরম যত্নে-মমতায় সিলিন্ডার নামানোর কৌতুককর দৃশ্যটা উপভোগ করেন, চুলায় নীলাভ শিখার পুষ্পিত শিহরনে নিজেও শিহরিত হন আর নাক-ভরা সুগন্ধ-সুবাস যতটা সম্ভব টেনে বুক ভরে ফেলেন!

গরমের ভাপসুরক্ষাঅজুহাতস্বাচ্ছন্দ্যঅ্যাপার্টমেন্ট
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ১৯ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    ফ্রান্স
    ০
    ইংল্যান্ড
    ০
    ২০ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    আর্জেন্টিনা
    ০
    স্পেন
    ০
    advertisement
    advertisement
    বিছানায় স্বামীর মরদেহ ও রক্তাক্ত সন্তান, পাশেই ফোনে মগ্ন স্ত্রী

    বিছানায় স্বামীর মরদেহ ও রক্তাক্ত সন্তান, পাশেই ফোনে মগ্ন স্ত্রী

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০০:২৪

    গাইবান্ধায় এনসিপির সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, এলাকায় তোলপাড়

    গাইবান্ধায় এনসিপির সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, এলাকায় তোলপাড়

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮

    শুরুর ভুলে থমকে কাজ

    শুরুর ভুলে থমকে কাজ

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:২৩

    সংস্কার না হলে প্রবৃদ্ধি  নামবে ৩ শতাংশে

    সংস্কার না হলে প্রবৃদ্ধি নামবে ৩ শতাংশে

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮

    এনবিআরের চিঠি ৫ মন্ত্রণালয় ও সংস্থায়

    এনবিআরের চিঠি ৫ মন্ত্রণালয় ও সংস্থায়

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪

    সরকারকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে

    সরকারকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৫

    বিস্ময়ের শতবর্ষী কাইজেলিয়া

    বিস্ময়ের শতবর্ষী কাইজেলিয়া

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২

    আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ কমাতে এক্সিট পলিসি

    আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ কমাতে এক্সিট পলিসি

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১২

    এফটিজেডে আমদানিতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক

    এফটিজেডে আমদানিতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৭

    একদিন তোমাদের শহরও হবে ডাস্টবিন

    একদিন তোমাদের শহরও হবে ডাস্টবিন

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১২

    দেখা যাক

    দেখা যাক

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩

    সুতরাং

    সুতরাং

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২১

    পতনের ধারায় ইইউতে পোশাক রপ্তানি

    পতনের ধারায় ইইউতে পোশাক রপ্তানি

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১১

    প্রশাসনিক দাদাগিরি

    প্রশাসনিক দাদাগিরি

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১

    নতুন অস্ত্র ক্রিয়েটিভ ইকোনমি

    নতুন অস্ত্র ক্রিয়েটিভ ইকোনমি

    ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১

    advertiseadvertise