Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
অবহেলিত প্রবীণদের ঠিকানা সাজুর বৃদ্ধাশ্রম
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাহিত্য

নীলিমা ইব্রাহিম

মৃত্যুহীন এক জ্বলন্ত সাহসের নাম

শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
agamir somoy
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৯
মৃত্যুহীন এক জ্বলন্ত সাহসের নাম

ড. নীলিমা ইব্রাহিম (১১ অক্টোবর ১৯২১ — ১৮ জুন ২০০২)

নীলিমা ইব্রাহিম—বাংলার নারীজাগরণের এক অগ্নিস্নাত পথিকৃৎ, যিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমাজকর্মী, নাট্যকর্মী এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক প্রামাণ্য দলিল ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’র রচয়িতা। তাঁর জীবন ও কর্মের ব্যাপ্তি এতটাই বিশাল যে একক কোনো পরিচয়ে তাঁকে বাঁধা যায় না। তিনি ছিলেন সেই বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি শাদাকে শাদা আর কালোকে কালো বলার সৎসাহস রাখতেন, যিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপস করেননি, যিনি অবলীলায় ফিরিয়ে দিতে পেরেছিলেন মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব— কারণ তিনি জানতেন তিনি একজন শিক্ষক, সে পরিচয়ই ছিল তাঁর অহংকার।

নীলিমা ইব্রাহিমের জন্ম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামে। তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিল নীলিমা রায় চৌধুরী। পিতা প্রফুল্ল কুমার রায় চৌধুরী ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং খুলনা নাট্য মন্দিরের সম্পাদক। মাতা কুসুম কুমারী দেবী—যাঁর মূল নাম ছিল প্রফুল্লবালা, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর নাম এক হয়ে যাওয়ায় শ্বশুরকুল তাঁর নতুন নাম রাখেন কুসুম কুমারী। প্রফুল্লকুমার ছিলেন মূলঘর বৈদ্য-চৌধুরী বংশের অধস্তন পুরুষ। ওই বংশের এক পূর্বপুরুষ শ্রীনাথ ইংরেজ সরকার কর্তৃক রাজা উপাধি পেয়েছিলেন। নীলিমার পিতামহ ছিলেন যোগেশচন্দ্র রায় চৌধুরী এবং পিতামহী স্বর্ণময়ী রায় চৌধুরী। এই জমিদার বংশ পুরুষানুক্রমিকভাবেই ছিল প্রবল প্রতাপশালী।
নিজের পাঁচকন্যার সঙ্গে নীলিমা ও ইব্রাহিম দম্পতি
শৈশব-কৈশোরে নীলিমা ছিলেন দুরন্ত ও ডানপিটে স্বভাবের। মাঠে ভাইদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছেন, ছেলেদের সঙ্গে রাস্তায় ঘুরেছেন, অভিনয় করেছেন শখের থিয়েটারে। নিজের শৈশব-জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের জীবনটা ছিল অনেকখানি খোলা-মেলা। বারো-তেরো বছর বয়স পর্যন্ত মাঠে ভাইদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছি। মায়ের কাছে নালিশ আসত কিন্তু একেবারেই গেছো ছিলাম বলে মাও হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন’।

মেয়ের গায়ের রং নিয়ে চিন্তিত ছিলেন মা কুসুম কুমারী। সকল ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র নীলিমাই ছিলেন কৃষ্ণবর্ণা। সম্ভবত এজন্যই মায়ের কাছ থেকে কিছুটা অবহেলা তিনি পেয়েছিলেন। আর সেটা পুষিয়ে দিতেন তাঁর বাবা। বলতেন, “আমার এই মেয়ের আমি বিয়ে দিব না। শ্বশুরবাড়ীতে লোকেরা মুখের কাপড় তুলে বলবে ‘এমা এ বউ কালো’ সে আমি সইতে পারব না’’। বাবার এই ভালোবাসা ও প্রেরণাই তাঁকে আজীবন পথ চলার সাহস দিয়েছে, শিক্ষাজীবনে নীলিমা ছিলেন বরাবরই মেধাবী।

৫ বছর বয়সে, ১৯২৬ সালে খুলনার করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ডবল-প্রমোশনের কারণে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সেই প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৫ সালে চারটি বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পাস করেন। ফল প্রকাশের পরদিন পুরো স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছিল তাঁর সম্মানার্থে। এরপর পিতা তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন কলকাতার অভিজাত কলেজ ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনে। ১৯৩৭ সালে প্রথম বিভাগে আইএ পাস করেন। অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক সম্মান কোর্সে ভর্তি হন এবং ১৯৩৯ সালে অনার্সসহ দ্বিতীয় শ্রেণীতে স্নাতক পাস করেন। পরের বছর অর্থনীতি বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু মা কুসুম কুমারী দেবীর আকস্মিক অসুস্থতার কারণে এমএ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারেননি। এ সময় অনেকটা জেদের বশবর্তী হয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে বিটি ক্লাসে ভর্তি হন এবং ১৯৪২ সালে প্রথম শ্রেণীতে বিটি পাস করেন। এরপর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তটিনীর প্রেরণায় বাংলায় এমএ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন এবং মাত্র ছয় মাসের প্রস্তুতিতে ১৯৪৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় প্রথম শ্রেণীতে এমএ পাস করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মহিলাদের মধ্যে প্রথম বিহারীলাল মিত্র গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন। নাটক নিয়ে গবেষণাকর্ম শুরু করলেও ব্যক্তিগত জীবনের নানা জটিলতায় তা শেষ করতে পারেননি।
নীলিমা ইব্রাহিমের ফাইল ফটো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি থেকে
নীলিমার শিক্ষাজীবনে প্রতিবারই প্রতিকূলতা এসেছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বসে থেকে তাঁর কোনো পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। গুরুতর অসুখ নিয়ে বার্লি খেয়ে, আক্কেল দাঁতের অপারেশন নিয়ে দিয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। কোরামিন ইনজেকশন নিয়ে বিএ পরীক্ষা, আর মুখে একটা গোটা ইরিসিপ্লাস নিয়ে দিয়েছেন বিটি পরীক্ষা। এমএ-তেও তার ব্যতিক্রম হয়নি— সে সময় হয় ডেঙ্গুজ্বর। পরীক্ষার আট মাস আগে স্ট্রোক হওয়াতে অর্থনীতিতে অনার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণী লাভ করেন। এছাড়া সবগুলোতেই ছিলেন প্রথম বিভাগে। অসুস্থতার কারণে সব পরীক্ষা তাঁকে 'সিক বেড'-এ শুয়ে দিতে হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে কাটিয়ে উঠেছেন সব প্রতিকূলতা।

১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইন্ডিয়ান আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপ্টেন ডাক্তার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর নীলিমা রায় চৌধুরী হয়ে যান, নীলিমা ইব্রাহিম। ১৯৪৬ সালে স্বামীর সঙ্গে ঢাকা চলে আসেন নীলিমা। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্যজীবনে তিনি মধুর সম্পর্ক উপভোগ করেছেন। ডা. ইব্রাহিম প্রকৃত অর্থেই ছিলেন একজন পত্নীপ্রেমিক স্বামী। নীলিমা ইব্রাহিমের গৌরবময় কীর্তির পিছনে ডা. ইব্রাহিমের ত্যাগ, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার কথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। নীলিমা নিজেই লিখেছেন, ‘ডা. ইব্রাহিম নাউ রানিং এইটটি টু। আমি অসুস্থ থাকি, সবকিছু তিনি করেন। তিনি এতকিছু দেখেন, যেটা কোনো সমাজ কোনো নারী স্বামীর কাছে আশা করতে পারেন না’’। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্যজীবন শেষেও তিনি আনন্দের সঙ্গে বলতে পারেন— “সারাদিন সেও কাজ করে, আমিও কাজ করি, সন্ধ্যা বেলাটা খুব প্লেজার। ঐ সময়টায় কখনো টেলিভিশন দেখি, কখনও অতীত স্মৃতি রোমন্থন করি, কখনো দেশের পলিটিক্যাল সিচুয়েশন নিয়ে ডিসকাস করি”। নীলিমা ছিলেন পাঁচ কন্যাসন্তানের জননী—খুকু (মঞ্জুরা), ডলি, পলি, বাবলি ও ইতি। কন্যারা প্রত্যেকেই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এদের মধ্যে এমিরেটাস অধ্যাপক হাজেরা মাহতাব, অভিনেত্রী ডলি আনোয়ার, অধ্যাপক কিশোয়ারা আজাদ নাম যশ করেছেন। কিশোয়ারা আজাদের স্বামী একে আজাদ খানও জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এবং জাতীয় অধ্যাপক, বারডেম হাসপাতাল এখনো তার সুযোগ্য নেতৃত্বে গণস্বাস্থ্যসেবায় অবদান রেখে চলেছে।

স্বামী ড. মুহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে নীলিমা ইব্রাহিম
কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। তারপর দু’বছর (১৯৪৪-৪৫) ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনের লেকচারার ছিলেন। নিজ কলেজে যোগ দেওয়া নিয়ে তিনি কিছুটা বিব্রত ছিলেন। শিক্ষকদের কমনরুমে বসতে পারতেন না, কারণ সবাই ছিলেন তাঁর শিক্ষক। চেয়ারে বসে ক্লাস নিতে পারতেন না, কারণ সে সময় শ্রদ্ধা ও ভক্তির কারণে শিক্ষকের চেয়ারে ছাত্রছাত্রীরা বসত না। ১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল 'সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভূমিকায় ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নাটক'। তিনিই প্রথম বাঙালি নারী, যিনি বাংলায় ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। একই বছর ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেস থেকে ইন্টারমিডিয়েট ইন ফ্রেঞ্চে ডিপ্লোমা করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৭২ সালে ‘অধ্যাপক’ পদে উন্নীত হন। তিনি বাংলা বিভাগের প্রধান (১৯৭১-৭৫), বাংলা একাডেমির অবৈতনিক মহাপরিচালক (১৯৭৪-৭৫) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ (১৯৭১-৭৭)-এর দায়িত্বও পালন করেন।

নীলিমা ইব্রাহিমের সাহিত্যচর্চার শুরু নাটক দিয়ে। বাবার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকেই তাঁর ভালোবাসা জন্মে এই বিষয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি অধ্যাপক নুরুল মোমেন, আসকার ইবনে শাইখ, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়েন নাট্যচর্চায়। শুরু হয়েছিল ছাত্রী হলের বাত্সরিক নাট্যোৎসব দিয়ে। পরবর্তীতে নবগঠিত বুলবুল একাডেমিতে ক্লাস নিয়েছেন নাটকের উপর, নাটক লিখেছেন। তাঁর লেখা প্রথম নাটক 'মনোনীতা' মঞ্চস্থ হয় বুলবুল একাডেমির শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এই নাটক করার সময় একটি মজার ঘটনা ঘটে— নাটকের নায়ক রামেন্দু মজুমদার, কিন্তু নায়িকা পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক বলে কয়ে এক জনকে রাজি করানো গেল, তিনি পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেত্রী মতিয়া চৌধুরী। কিন্তু তারপর থেকে নায়ক পলাতক। পরে নায়ককে পাকড়াও করা হলে রামেন্দু মজুমদার তাঁর স্বভাবজাত বিনয়ে বললেন, ‘ওকে দেখলে আমার ভয় করে, মনে হয় স্লোগান দিয়ে উঠবে’। পরে অবশ্য রোজী মজিদ নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৬২-৬৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘রঙ্গম’ নামের একটি নাট্য সংস্থা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুনীর চৌধুরী, রণেন কুশারী, কবি হাবিবুর রহমান প্রমুখ। তাঁর নিজের দলের জন্য তিনি শরৎচন্দ্রের 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন। এ সময় তিনি রেডিও টেলিভিশনের জন্য প্রচুর নাটক লিখেছেন। টিএসসিতে তাঁর পরিচালনায় মুনীর চৌধুরী রচিত 'চিঠি' নাটকটির মাধ্যমে নীলিমা ইব্রাহিম নাট্যমঞ্চ থেকে পূর্বঘোষণা দিয়ে বিদায় নেন।

বিখ্যাত বই- আমি বীরাঙ্গনা বলছি
নীলিমা ইব্রাহিমের লেখা নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি হলো—দুয়ে দুয়ে চার (১৯৬৪), যে অরণ্যে আলো নেই (১৯৭৪), রোদ জ্বলা বিকাল (১৯৭৩) এবং সূর্যাস্তের পর (১৯৭৪)। 'দুয়ে দুয়ে চার' এবং 'রোদ জ্বলা বিকাল'-এর মূল আলোচ্য বিষয় ছিল সামাজিক বৈষম্য। 'যে অরণ্যে আলো নেই' ছিল একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক যেখানে নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে দেখা করতে আসলে মুক্তিযুদ্ধের সময় যৌন নির্যাতনের শিকার সেই নারী নিজের পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। নীলিমার লেখা উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ শতকের মেয়ে (১৯৫৮), এক পথ দুই বাঁক (১৯৫৮), কেয়াবন সঞ্চারিণী (১৯৬২) এবং বহ্নিবলয় (১৯৮৫)। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন এবং কিছু বিদেশি বই অনুবাদও করেছেন। তাঁর গবেষণাগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—শরৎ প্রতিভা (১৯৬০), বাংলার কবি মধুসূদন (১৯৬১), ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি সমাজ ও বাংলা নাটক (১৯৬৪), বাংলা নাটক: উৎস ও ধারা (১৯৭২), বেগম রোকেয়া (১৯৭৪), বাঙালি মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৮৭) এবং সাহিত্য সংস্কৃতির নানা প্রসঙ্গ (১৯৯১)। 'বাংলা নাটক: উৎস ও ধারা' বইটি লেখা হয় বাংলা সাহিত্যের ৮১ জন নাট্যকারের কাজের উপর ভিত্তি করে। লেখার ভালো মান এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের একমাত্র সংকলন হওয়ার কারণে আজও বইটি সাহিত্যের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিকট প্রযোজনীয় এবং নির্ভরযোগ্য একটি তথ্যসূত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তাঁর আত্মজীবনী 'বিন্দু-বিসর্গ' (১৯৯১) এবং ভ্রমণকাহিনী 'শাহী এলাকার পথে পথে' (১৯৬৩), 'বস্টনের পথে' (১৯৬৯) উল্লেখযোগ্য।

নীলিমা ইব্রাহিমের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কালজয়ী গ্রন্থ হলো 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের নারীরা উপর যে অমানবিক ও পাশবিক নির্যাতন করা হয় সেসবের একটি প্রামাণ্য দলিল এই বই। পাকিস্তানিদের বর্বরতার শিকার হয়ে, আবার বিভিন্ন সময়ে নিজ দেশের রক্ষণশীল সমাজের মানুষদের কাছে নিগৃহীত হতে হয় অনেক বীরাঙ্গনাকে। নীলিমা ইব্রাহিম সমাজের পরোয়া না করে বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতনের শিকার এসকল নারীর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নারকীয়, বর্বর অভিজ্ঞতা টুকে রাখতেন দিনপঞ্জীতে। জনসমাজে এসকল বীরাঙ্গনার মন-মানসিকতা, নিপীড়ন এবং নির্যাতনের বাস্তব কাহিনী তুলে ধরার প্রচেষ্টায় প্রকাশ করেন এই গ্রন্থ। বইটির ভূমিকায় লেখিকা শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন: ১৯৭২ সাল যুদ্ধ জয়ের পর যখন পাকিস্তানি বন্দীরা ভারতের উদ্দেশে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ত্যাগ করে, তখন তিনি জানতে পারেন প্রায় ৩০-৪০ জন ধর্ষিতা নারী এ বন্দীদের সঙ্গে দেশ ত্যাগ করছেন। অবিলম্বে তিনি ভারতীয় দূতাবাসের সামরিক অফিসার ব্রিগেডিয়ার অশোক ডোরা এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে নিযুক্ত নুরুল মোমেন খানের শরণাপন্ন হন। উভয়েই একান্ত সহানুভূতির মনোভাব নিয়ে এসব মেয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ করে দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নওসাবা শরাফী, ড. শরীফা খাতুন ও তিনি সেনানিবাসে যান এবং মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা লাভ করেন। পরে নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে নারকীয় বর্বরতার কাহিনি জানতে পারেন। 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' মূলত ১৯৯৬ এবং ১৯৯৭ সালে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এই দুটি খণ্ড নিয়ে একটি অখণ্ড বই প্রকাশ করা হয়। বীরাঙ্গনাদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা রক্ষার্থে নীলিমা ইব্রাহিম কাল্পনিক নাম ব্যবহার করেছেন।

আলোচিত বই
নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন রাজনীতি-সচেতন শিক্ষক। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬১ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী পালনকে পূর্ব পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করলে তিনি এর বিরোধিতা করেন। ১৯৬৪ সালে দাঙ্গায় নিপীড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। বিহারিরা পুরান ঢাকার বিভিন্ন মহল্লায় হানা দিয়ে অনেক হিন্দুকে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বি.সি. রায় থাকতেন পুরান ঢাকায়। তাঁর বাড়িটা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নীলিমা ইব্রাহিম ছুটে যান। পুলিশ এবং মিলিটারির সঙ্গে অনেক ঝক্কিঝামেলা শেষে চার দিন পর জগন্নাথ কলেজের শরণার্থীশিবির থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন। ষাটের দশকে তাঁর ১৮-ডি ফুলার রোডের বাসা ছিল ছোট খাট একটি লঙ্গরখানা। আকস্মিক কার্ফু জারি হলে তাঁর বাড়ির বাইরের ঘরের মেঝের কার্পেটে ৮-১০ জন এক সাথে শুয়ে থাকত।

একদিনের ঘটনা—কঠিন কার্ফু চলছে, সংবাদপত্রের লোক কিংবা গাড়ি পর্যন্ত বেরোতে পারবে না। জনা দশেক ছেলে আশ্রয় নিয়েছে তাঁর বাসায়। হঠাৎ একজন বললো, "আমাদের এখানে এভাবে পেলে খালাম্মাকে লিঞ্চ করে পোড়াবে। আমরা ভাগাভাগি হয়ে যাই।" এর উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “তোমাদের একজনের জন্য আমার যে শাস্তি হবে, দশজনের জন্যও তাই। তাছাড়া এ রাতে তোমাদের জায়গা দেবে কে?” এমনই মমতাময়ী ছিলেন নীলিমা ইব্রাহিম। ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীরা আপা আর বাইরে খালাম্মা নামেই সবাই তাঁকে ডাকত।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই ছিলেন। তাই প্রত্যক্ষ করেন নরঘাতক পাকিস্তানি সেনাদের তাণ্ডব। ২৭ তারিখ ক্যাম্পাস ছেড়ে নারিন্দায় গেলেন, ৩০ মার্চ ঢাকা ছাড়লেন। গ্রামে একেক দিন একেক বাড়িতে থেকেছেন। অনেক সময় খাবার, পানি কিছুই পাওয়া যায়নি। তাঁর বড় নাতনী ইলোরা তখন ছোট। তাকে নিয়ে চরম দুর্দশায় কেটেছে সেই দুর্বিষহ দিনগুলো। আবার আগস্টে ফিরেছেন ক্যাম্পাসে। এসময় টিক্কা খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে তাঁর অন্তর্ঘাতী কর্মকাণ্ডের জন্য কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়। ১৮ই ডিসেম্বর সকালে তাঁর তিন সহকর্মী বিমর্ষ মুখে এসে তাঁকে বললেন, "আপা, আপনি বোধহয় জানেন না, অনেক শিক্ষককে রাজাকাররা ধরে নিয়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, মুনীর চৌধুরীও আছেন। আপনি গিয়ে চেষ্টা করলে তাঁদেরকে ছেড়ে দিতে পারে।" ওই তিনজনকে গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়ে কন্যা বাবলিকে নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন মীরপুরের উদ্দেশ্যে। এমন সময় দেখা হয়েছিল আত্মীয় ড. মুজিবুল হকের সাথে। তিনি সব শুনে বাবলিকে গাড়ি গ্যারেজে তোলার নির্দেশ দিয়ে ওনার তিন সহকর্মীকে জানান, “আমি খালাম্মাকে নিয়ে যাচ্ছি”। সেদিন গম্ভীর মুখে ওই তিনজন বিদায় নিয়েছিল। পরে জানা গিয়েছিল, এরাই ড. মুর্তজাকে শেষ বিদায় দিয়েছিল।

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান সরকার নারী পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করলে নীলিমা ইব্রাহিম একজন সম্মানিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হন। বিচারপতি কে এম সোবহান ছিলেন প্রধান দায়িত্বে। নীলিমা ইব্রাহিমের এই কাজের বিশাল অভিজ্ঞতার খানিকটা ফসল আমরা পেয়েছি তাঁর অমূল্য গ্রন্থ 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'-এর মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন। বাংলা একাডেমিতে চলছিল অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা। মকবুল নামে এক ভণ্ড খাদেম বাংলা একাডেমির চত্বর দখল করেছিল। প্রথমে ছিল একটি কবর এবং তার পাশে মাত্র ৪ শতক জায়গা। মকবুলের হাতের কারসাজিতে তা বেড়ে হয়ে গেল একশ চুয়াল্লিশ শতক। প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে দৃঢ় হাতে মকবুলকে উচ্ছেদ করতে পেরেছিলেন সেদিন। মকবুলের কাছে পাওয়া গিয়েছিল ১৪২টি চাঁদা আদায়ের বাক্স। শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং শহরের বাইরেও এই বাক্সগুলো রক্ষিত ছিল। এর তত্ত্বাবধান করত এক সুসংগঠিত দল। কিন্তু মকবুলের অবৈধ ব্যবসা ভেঙে দেওয়ার পর এই বাক্সের তালা আর সে খুলতে পারেনি। এ কাজের জন্য তিনি বেতন কিংবা সম্মানী হিসেবে একটি পয়সাও নেননি। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের মর্মান্তিক মৃত্যুর আগেই নীলিমা ইব্রাহিম চাকরি ছেড়ে দেন। বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, “আপনি আপনার কথার খেলাপ করেছেন। এই নিন আমার পদত্যাগপত্র”। বঙ্গবন্ধুর আমলেই তার বিরুদ্ধাচরণের এই উদাহরণ একই সাথে তার ইস্পাতকঠিন চরিত্রকেই তুলে ধরে।

১৯৭২ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভাপতি ছিলেন। এ সময় থেকে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল চালিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন মহিলা সমিতি মিলনায়তন। তাঁর উৎসাহে এই মিলনায়তন মঞ্চে নিয়মিত নাটক উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে তিনি এ দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও বিরাট অবদান রেখেছিলেন। পরে মহিলা সমিতি ভবনের ওপর তলায় একটি সেমিনার কক্ষ চালু করেছেন। নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়নসংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির ফেলো, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি, বাংলাদেশ রেডক্রস সমিতি ও বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির জীবন সদস্য। এছাড়া বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী এবং কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি প্ল্যানিং-এর বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারপার্সন হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব উইমেন-এর সভানেত্রী এবং অ্যাসোসিয়েটেড কান্ট্রি উইমেন অব দি ওয়ার্ল্ড-এর সাউথ ও সেন্ট্রাল এশিয়ার এরিয়া প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি বার্লিন, মিউনিখ ও ফ্রাংকফুর্টে অনুষ্ঠিত 'আন্তর্জাতিক বিশ্বসমবায় সম্মেলন'-এ পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৭৩-এ নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত 'আন্তর্জাতিক ওয়ান এশীয় সম্মেলন'-এ অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৪-এ তিনি মস্কোয় অনুষ্ঠিত 'বিশ্বশান্তি কংগ্রেস', হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত 'বিশ্বনারী বর্ষ' এবং ১৯৭৫-এ মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত 'বিশ্বনারী সম্মেলন'-এ যোগ দেন। এছাড়া তিনি World Women's Federation-এর South Asian Zone-এর আমৃত্যু Vice President ছিলেন।

জীবনের একবারে শেষ প্রান্তে এসে জাতীয় দৈনিকে উপ-সম্পাদকীয় লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালে আজকের কাগজে 'মাগো আমি কোথায় যাবো' শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয় লিখে সে সময়ের সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা রুজু করা হয়। অসুস্থ শরীরে কন্যার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে পুলিশের গ্রেপ্তারের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। পালিয়ে থাকা অবস্থায় হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করেন। মামলাটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ভাষা সৈনিক এডভোকেট গাজিউল হক। কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যাত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিম্ন আদালতে হাজির হলে নিম্ন আদালতের হাজার হাজার আইনজীবী আদালত কক্ষে জমায়েত হন এবং তাঁকে জামিন দেওয়া না হলে তাঁরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করবেন না বলে জানান। শেষ পর্যন্ত নিম্ন আদালত তাঁকে জামিন দিতে বাধ্য হয়।

নীলিমা ইব্রাহিম ১৯৯৩ সালের ২৫শে ডিসেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার জাতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ই মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মত বেসরকারিভাবে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তিনি ছিলেন ফুটবলের একনিষ্ঠ ভক্ত। ছোটবেলায় তিনি নিজেই খেলেছেন। একটু বড় হয়ে কলকাতায় খেলা দেখা শুরু করেন। ঢাকায় এসেও তিনি সেটা ধরে রেখেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এবং দেশে পেশাদার লীগ শুরু হলে তিনি প্রায় নিয়মিতই টিকিট কেটে ফুটবল খেলা উপভোগ করতেন।

নীলিমা ইব্রাহিম সমাজকর্ম ও সাহিত্যে অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য বহু পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (১৯৮৭), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯), বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্মৃতি পদক (১৯৯০), অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৬), বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬), শেরে বাংলা পুরস্কার (১৯৯৭), থিয়েটার সম্মাননা পদক (১৯৯৮), একুশে পদক (২০০০) এবং মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১১) উল্লেখযোগ্য। ২০০২ সালের ১৮ জুন ৮১ বছর বয়সে ঢাকায় নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন নীলিমা ইব্রাহিম। মৃত্যুর পর তাঁকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

নীলিমা ইব্রাহিম আজীবন মানুষের শুভ ও কল্যাণ চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন। তিনি সর্বংসহা ধরিত্রীকে স্বর্গের চেয়েও সুন্দর ও কাঙ্ক্ষিত মনে করতেন এবং অধিকতর আস্থাশীল ছিলেন দেবত্বের চেয়ে মানবত্বে। তাঁর বাবা তাঁকে বলেছিলেন, “মানুষকে বিশ্বাস করো, বিশ্বাস করে ঠকাও ভালো, কিন্তু অবিশ্বাসীর জ্বালার শেষ নেই”। সারাজীবন নীলিমা ইব্রাহিম সেটিই বিশ্বাস করে গেছেন। তিনি রেখে গেছেন এক অফুরন্ত জ্ঞানভান্ডার, যে জ্ঞানভান্ডারে প্রবেশ করলে আমরা দেখতে পাই তিনি আমাদের মনের মণিকোঠায় থেকেই সাহস দিয়ে যাচ্ছেন অবিরত।

ড. নীলিমা ইব্রাহিমকথাসাহিত্যিক
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ভালোবাসার টানে সরিষাবাড়ীতে ফিনল্যান্ডের যুবক

    ভালোবাসার টানে সরিষাবাড়ীতে ফিনল্যান্ডের যুবক

    গণি রোড থেকে সরছে সচিবালয়, বসবে আদালত

    গণি রোড থেকে সরছে সচিবালয়, বসবে আদালত

    বেতন নাকি শেখার সুযোগ— কোনটি বেছে নেবেন

    বেতন নাকি শেখার সুযোগ— কোনটি বেছে নেবেন

    উঠানে খেলছিল দুই শিশু, নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেল পুকুরে

    উঠানে খেলছিল দুই শিশু, নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেল পুকুরে

    মামলা না করার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেন বীথির স্বামী

    মামলা না করার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেন বীথির স্বামী

    চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্বে বহিষ্কৃত ৫ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্বে বহিষ্কৃত ৫ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

    বিএনপির এমপির সুপারিশে মাদ্রাসার সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

    বিএনপির এমপির সুপারিশে মাদ্রাসার সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

    অটোরিকশাচালক সুমন ধর্ষণের পর হত্যা করে তাজমিনকে, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

    অটোরিকশাচালক সুমন ধর্ষণের পর হত্যা করে তাজমিনকে, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

    কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের পর চাকায় ত্রুটি, ঢাকায় বিমানের জরুরি অবতরণ

    কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের পর চাকায় ত্রুটি, ঢাকায় বিমানের জরুরি অবতরণ

    ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন মারা গেছেন

    ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন মারা গেছেন

    আপনাদের ভয় নাই, আপনারা প্রকাশ্যে নির্বাচন করবেন: আ. লীগ নেতাকর্মীদের বিএনপি নেতা

    আপনাদের ভয় নাই, আপনারা প্রকাশ্যে নির্বাচন করবেন: আ. লীগ নেতাকর্মীদের বিএনপি নেতা

    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

    রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালিমা লেপন করলে কী ঘটে?

    রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালিমা লেপন করলে কী ঘটে?

    শেয়ার কারসাজিতে ইউনাইটেড গ্রুপের দুই শীর্ষ ব্যক্তি, তদন্তে বিএসইসি

    শেয়ার কারসাজিতে ইউনাইটেড গ্রুপের দুই শীর্ষ ব্যক্তি, তদন্তে বিএসইসি

    দিল্লিতে বাড়ির সামনে থেকে আটক মমতা

    দিল্লিতে বাড়ির সামনে থেকে আটক মমতা