জ্বর হলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
জ্বর এলেই শরীর যেন হঠাৎ তার স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলে। তখন অনেকেই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করেন। কেউ আবার দ্রুত শক্তি ফেরানোর আশায় বেশি করে ভারী খাবার, মিষ্টি বা বিভিন্ন পানীয় খেতে শুরু করেন।
কিন্তু জ্বরের সময় শরীরকে সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে খাবার ও পানীয়ের দিকেও নজর রাখা জরুরি। এই সময়ে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরে পর্যাপ্ত পানি, প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি জোগানো। ক্ষুধা কম থাকলে একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া যেতে পারে।
প্রথমেই নজর দিন পানির দিকে
জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি ঘাম হতে পারে। এর সঙ্গে বমি বা ডায়রিয়া থাকলে শরীর থেকে আরও বেশি পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই জ্বর হলে নিয়মিত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে অনেকটা পানি পান করতে কষ্ট হলে অল্প অল্প করে বারবার পান করা যেতে পারে। পাতলা স্যুপ বা ডাবের পানিও তরলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। বমি বা ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস নেওয়া যেতে পারে।
ভাত-খিচুড়ি হতে পারে সহজ সমাধান
জ্বরে ক্ষুধা কমে গেলে খাবার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। নরম ভাত, পাতলা খিচুড়ি, ডাল, সেদ্ধ আলু বা নরম করে রান্না করা সবজি খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার তুলনামূলক সহজে খাওয়া যায় এবং শরীরে শক্তিও জোগায়।
খাবারে অতিরিক্ত তেল, ঝাল বা মশলা না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি বা ডায়রিয়া থাকলে হালকা খাবার বেশি আরামদায়ক হতে পারে।
শুধু ভাত নয়, প্রোটিনও চাই
জ্বরের সময় শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে প্রোটিনও গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাবারের সঙ্গে ডিম, মাছ বা ডালের মতো প্রোটিনের উৎস রাখা যেতে পারে।
ক্ষুধা খুব কম থাকলে বড় প্লেট খাবার খাওয়ার চেষ্টা না করে অল্প পরিমাণে ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে ডিম কিংবা মাছ খাওয়া যেতে পারে। ক্ষুধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাবারের পরিমাণে ফেরা যায়।
ফল খাবেন, তবে গোটা ফল
জ্বরের সময় ফল খাওয়া যেতে পারে। পেয়ারা, কমলা, কলা, আপেলসহ সহজে খাওয়া যায় এমন ফল বেছে নেওয়া যায়। তবে ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস ভালো।
ফলের রসে অনেক সময় বাড়তি চিনি যোগ করা হয় এবং গোটা ফলের মতো আঁশ পাওয়া যায় না। অবশ্য ডায়রিয়া বা অন্য কোনো পেটের সমস্যা থাকলে ফল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির উপসর্গ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার নয়
জ্বরের সময় মুখের স্বাদ বদলে যেতে পারে। তখন ঝাল, ভাজাপোড়া বা মুখরোচক খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলেও এগুলো পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, খুব বেশি মিষ্টি খাবার এবং কোমল পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো। জ্বর হয়েছে বলে জোর করে বেশি খাবার খাওয়ারও প্রয়োজন নেই। শরীর যতটা নিতে পারছে, ততটাই অল্প অল্প করে খাওয়াই আরামদায়ক।
জ্বরে খাবারের সহজ তালিকা
পানি: নিয়মিত পানি পান
তরল: পাতলা স্যুপ, প্রয়োজন হলে ওরস্যালাইন
মূল খাবার: নরম ভাত, খিচুড়ি
প্রোটিন: ডিম, মাছ, ডাল
সবজি: নরম করে রান্না করা সবজি
ফল: সহনীয় গোটা ফল
তবে জ্বর কোনো একটি রোগের নাম নয়; এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, পানিশূন্যতার লক্ষণ, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: এনএইচএস, মেডলিন প্লাস, মায়ো ক্লিনিক





