প্রচণ্ড দাবদাহে সুস্থ থাকতে যা করবেন

সংগৃহীত ছবি
দেশ জুড়ে প্রচণ্ড দাবদাহ বা হিটওয়েভের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। অতিরিক্ত গরমে ডিহাইড্রেশন, হিট এক্সহসশন ও হিটস্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস ও সতর্কতা মেনে চললে এই চরম গরমেও নিজেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
হিটওয়েভে শরীর সুস্থ রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। তৃষ্ণা লাগার জন্য অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি ওআরএস বা খাবার স্যালাইন এবং ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় শরীরের পানিশূন্যতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন
গরমের সময় হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক সবচেয়ে উপযোগী। এসব পোশাক শরীরে বাতাস চলাচল সহজ করে এবং ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। গাঢ় রঙের, টাইট বা ভারী কাপড়ের পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো।
প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের হবেন না
সাধারণত বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময়ে বাইরে যাওয়া সীমিত রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি, সানস্ক্রিন বা স্কার্ফ ব্যবহার করা উচিত।
ঘর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন
ঘরের জানালায় পর্দা ব্যবহার, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং ফ্যান চালু রাখলে ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো যায়। ঠান্ডা পানিতে গোসল বা ভেজা কাপড় ব্যবহারও শরীরকে দ্রুত শীতল করতে সাহায্য করে। অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখলেও ঘরের অতিরিক্ত গরম কমে।
গাছপালা বাড়ান
বাড়ির আশপাশে গাছ লাগানো এবং ছাদবাগান তৈরি করা তাপমাত্রা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে অ্যালোভেরা, অ্যারেকা পাম, স্নেক প্ল্যান্ট বা পিস লিলির মতো গাছ রাখলে পরিবেশ আরও আরামদায়ক হয়।
ছাদে পানি ও অস্থায়ী শেড ব্যবহার
প্রচণ্ড গরমের দিনে ছাদে পানি ছিটানো অনেক পরিবারের পরিচিত একটি পদ্ধতি। এতে ছাদের তাপমাত্রা কমে এবং ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। পাশাপাশি ছাদে বা বারান্দায় অস্থায়ী শেড ব্যবহার করলে সরাসরি রোদ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
গরমের সময় হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। তরমুজ, শসা, কমলা ও অন্যান্য পানিসমৃদ্ধ ফল শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশু ও বয়স্কদের দিকে বাড়তি নজর দিন
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা গরমে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাদের নিয়মিত পানি পান, বিশ্রাম এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন?
কেউ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে নিতে হবে। আঁটসাঁট পোশাক ঢিলে করে দিতে হবে এবং জ্ঞান থাকলে পানি পান করাতে হবে। ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করতে হবে। অবস্থার উন্নতি না হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
সামাজিক সচেতনতাও জরুরি
দাবদাহের সময়ে একা থাকা বয়স্ক ব্যক্তি বা অসুস্থ প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা উচিত। সম্মিলিত সচেতনতা অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচণ্ড গরমে ছোট ছোট সতর্কতাই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। নিয়মিত পানি পান, সঠিক পোশাক নির্বাচন, গরমে বাইরে চলাচল কমানো এবং ঘর ঠান্ডা রাখার মতো অভ্যাসগুলো মেনে চললে হিটওয়েভের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।







