পটুয়াখালী
সাংবাদিকের ওপর হাতুড়ি হামলা, গ্রেপ্তার ২

সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি। ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অব্যাহত রয়েছে অভিযান।
আহত সাংবাদিকের স্ত্রী রুমা আক্তার ২৭ জুলাই মহিপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর সোমবার রাতে কুয়াকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার জানান, ‘মামলা হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
এর আগে ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকতসংলগ্ন এলাকায় দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি কে এম বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একদল দুর্বৃত্ত তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তার মাথা ও দুই পায়ে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক কে এম বাচ্চু। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি জমির গাছ কাটার অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অভিযুক্তরা তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নারীসংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর পরও তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
মামলায় কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বায়েজিদ শিকদার রানা, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহীদ শিকদার, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লিসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় সাংবাদিক কে এম বাচ্চু একাই ছিলেন।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




