কাজেম গারিবাবাদি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা নেই ইরানের
- অস্ত্র উৎপাদন আগের চেয়ে বেশি — মাজিদ ইবনে আল-রেজা
- ইরানের সঙ্গে ইউক্রেনের ‘খোলামেলা’ ও ‘সরাসরি’ টেলিফোন আলাপ — আন্দ্রি সিবিহা

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তবে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে চলছে ধাপে ধাপে। একই সময়ে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ ইবনে আল-রেজা দাবি করেছেন, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সক্রিয় হয়েছে এবং আরও উন্নত হয়েছে সামরিক প্রযুক্তি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসব বলেছেন কাজেম গারিবাবাদি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন ইচ্ছা যুদ্ধ করবে, আবার যখন ইচ্ছা আলোচনার টেবিলে বসবে, এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে দেওয়া উচিত নয়।’ তার দাবি, সংঘাত বন্ধের জন্য বার্তা পাঠিয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রই। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় পথকে ইরান স্বীকৃতি দেবে না এবং ওই অঞ্চলে মাইন অপসারণের দায়িত্ব শুধু ইরানের।
এদিকে দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মাজিদ ইবনে আল-রেজা জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যার মাধ্যমে তারা ‘শত্রুর চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে’ থাকতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়ার দাবি করলেও তা নাকচ করে দেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘অস্ত্র উৎপাদনের লাইন আগের চেয়ে আরও সক্রিয়, প্রযুক্তি আরও উন্নত এবং দেশের প্রতিরক্ষা ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ইরানি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সংকল্প আরও শক্তিশালী হয়েছে।’
অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে তার। ওই আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন যে, একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলা ‘অনিচ্ছাকৃত’ ছিল এবং ইউক্রেন উত্তেজনা বাড়াতে চায় না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘ইরানও উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে আমাদের নাগরিক বা স্বার্থের ওপর যেকোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষয়ক্ষতির জন্য অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
এর আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া টেলিফোন আলাপকে ‘খোলামেলা’ ও ‘সরাসরি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা।




