মাথায় খুশকি নাকি চিটচিটে স্ক্যাল্প? চুলের আসল শত্রু চিনুন সহজেই

সংগৃহীত ছবি
গরমের এই কাঠফাটা রোদে আমাদের সাধের চুলের বারোটা বাজতে একদমই সময় লাগে না। অতিরিক্ত ঘাম, চিটচিটে আর্দ্রতা আর রাস্তার ধুলোবালির কারণে চুলের বারোটা বেজে মানুষের মাথার ত্বক চুলকাতে শুরু করে। অনেকে আবার মাথার চুলকানি আর মরা চামড়া ওঠার যন্ত্রণায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর অঙ্কুর সারিন এই বিষয়ে এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলছেন, মাথার সব খুশকি কিন্তু এক জাতের নয়, বরং আমাদের চুলে তৈলাক্ত আর শুষ্ক নামের দুই ধরণের ভিন্ন খুশকি বাসা বাঁধে। এই দুই শত্রুর স্বভাব আর চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় তাদের তাড়ানোর ওষুধও কিন্তু বাজারে আলাদা।
আমাদের মাথার চামড়ায় ‘ম্যালাসেসিয়া’ নামের এক ধরণের প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া ফাঙ্গাস বা ছত্রাক সবসময় বাস করে। মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল বা সিবাম খেয়েই মূলত এই ছত্রাকটি বেঁচে থাকে। অনেকের মাথায় এই ফাঙ্গাসটি অতিরিক্ত তেল পেয়ে বংশবৃদ্ধি করতে করতে চুলের চামড়া দ্রুত খসিয়ে ফেলে।
বংশগত কারণ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা সস্তা প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে এই ফাঙ্গাসের তাণ্ডব মাথায় আরও বেড়ে যায়। মাথার ত্বকে তেলের কম-বেশির ওপর ভিত্তি করেই মূলত খুশকি নিজের রূপ বদল করে কখনো তৈলাক্ত আবার কখনো শুষ্ক আকার ধারণ করে।
হলদে বা কালচে রঙের একটু আঠালো ও চটচটে খুশকিকে চিকিৎসকেরা সাধারণত তৈলাক্ত খুশকি বলে থাকেন। এই খুশকিগুলো সহজে বাতাসে ওড়ে না বরং মাথার ত্বকে কিংবা নখের কোণায় ময়লার মতো জমে থাকে। শ্যাম্পু করার মাত্র এক-দুই দিনের মধ্যেই পুরো মাথা যেন তেলের খনিতে রূপ নেয়। অতিরিক্ত গরম, চড়া আর্দ্রতা, মাথায় সারাদিন হেলমেট পরা কিংবা নিয়মিত চুল পরিষ্কার না করার অভ্যাসে এই তৈলাক্ত খুশকি আরও জাঁকিয়ে বসে। সাধারণ কসমেটিক শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুলে উপরিভাগের তেল সাময়িক কমলেও ভেতরের ফাঙ্গাস না মরায় খুশকি আবার খুব দ্রুত ফিরে আসে।
অন্যদিকে সাদা পাউডারের মতো মিহি গুঁড়ো খুশকিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা শুষ্ক খুশকি হিসেবে চিনে থাকেন। এই খুশকিগুলো একটুখানি মাথা চুলকালেই তুষারপাতের মতো ঝুরঝুর করে কালো কাপড়ের ওপর এসে পড়ে। মাথাটা সবসময় বড্ড শুকনো আর টানটান লাগলেও চুলকানি কিন্তু তৈলাক্ত খুশকির চেয়ে কিছুটা কমই হয়।
শীতের আমেজ কিংবা কড়া শ্যাম্পু ব্যবহারের কারণে মাথা শুকিয়ে এই সমস্যাটি তৈরি হয় বলে অনেকে ভুল ভাবেন। মাথায় অতিরিক্ত তেল মাখলে সাময়িক আরাম মিললেও ফাঙ্গাসের আসল চিকিৎসা না হওয়ায় এই সাদা গুঁড়ো পড়া কোনোভাবেই বন্ধ হয় না।
সত্যিই কি দাঁতে পোকা হয়?
০৬ মে ২০২৬
তৈলাক্ত ও শুষ্ক খুশকির এই ভিন্ন মেজাজের কারণে তাদের যত্নেও একটু বুদ্ধি খাটিয়ে ভিন্নতা আনতে হবে। তৈলাক্ত খুশকির জন্য ফাঙ্গাস মারার পাশাপাশি মাথার অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করা বড্ড প্রয়োজন। আবার শুষ্ক খুশকির ক্ষেত্রে মাথার চামড়া অতিরিক্ত রুক্ষ না করে ফাঙ্গাসের বংশবৃদ্ধি টেনে ধরা জরুরি। বাজারের সাধারণ শ্যাম্পুগুলো কেবল চুলের উপরিভাগের ময়লা পরিষ্কার করলেও ভেতরের ফাঙ্গাসের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে একদমই পারে না। এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ‘পিরোকটন ওলামাইন’ নামক এক বিশেষ ফাঙ্গাসনাশক উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত। এই জাদুকরী উপাদানটি মাথার চামড়াকে নরম রাখার পাশাপাশি সব ধরণের আবহাওয়াতেই খুশকির জীবাণু ধ্বংস করতে দারুণ কাজ করে।
আপনার মাথায় কোন জাতের খুশকি উঁকি দিচ্ছে, তা একটি সহজ ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি নিজেই ধরে ফেলতে পারেন। মাথার সিঁথির ওপর ছোট এক টুকরো বাটার পেপার বা ব্লটিং পেপার কিছুক্ষণ চেপে ধরলে যদি কাগজে তেলের দাগ ফুটে ওঠে, তবে বুঝবেন আপনার মাথায় তৈলাক্ত খুশকি বাসা বেঁধেছে। আন্দাজে নানা শ্যাম্পু চুলে মেখে পয়সা নষ্ট না করে উপাদানের তালিকা দেখে আসল শ্যাম্পু চেনাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
খুশকি যেহেতু একবার তাড়ালেই চিরতরে পালায় না, তাই মাথা পরিষ্কার রাখার এই অভ্যাসটি আপনাকে আজীবন ধরে রাখতে হবে।











