বসতিপূর্ণ এলাকায় ফের ইটভাটার অপচেষ্টা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের নুরুল্লাহপুর গ্রামে প্রায় আট বছর আগে স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে বন্ধ হয়ে যায় একটি ইটভাটা। কিন্তু সেটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশ, কৃষিজমি ও বসতিপূর্ণ এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জমির মালিক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা ‘সোনালী’ ইটভাটাটি দীর্ঘদিন আগে পরিচালিত হতো। ভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ, কৃষিজমির ক্ষতি এবং ভারী যানবাহনের কারণে এলাকার সড়ক নষ্ট হওয়ায় স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে প্রায় আট বছর আগে বন্ধ হয়ে যায় এটি। এরপর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠে সবুজ পরিবেশ। বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে সেখানে কাশফুলে ছেয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ওই জায়গায় আবারও ইটভাটা স্থাপনের চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। যদিও এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন জমির কয়েকজন মালিক।
স্থানীয় এক শিক্ষক বলেছেন, জমি ইজারা নিয়ে নতুন করে ইটভাটা স্থাপনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু চারপাশে ঘনবসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কৃষিজমি থাকায় ভাটা চালু হলে বিরূপ প্রভাব পড়বে পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই জমির একটি অংশের মালিক ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ এবং অন্য অংশের মালিক সবুজ নামে এক ব্যক্তি। সেখানে ইটভাটা স্থাপনের বিরোধিতা করছেন তারা দুজনই।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মঞ্জু ও মিল্লাত হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কফিল উদ্দিনের দাবি, আগে ইটভাটা চালু থাকায় এলাকার পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ভাটাটি আবার চালু হলে সেই পরিস্থিতি ফিরে আসবে।
লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠানের স্পষ্ট জবাব, বসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের সুযোগ নেই। অনুমোদন ছাড়া কেউ ইটভাটা স্থাপনের চেষ্টা করলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




