কোন রোগীর জন্য শাক বিষ?

সংগৃহীত ছবি
মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কিডনি। সামগ্রিক সুস্থতার জন্য কিডনির ভূমিকা সব থেকে বেশি। আমাদের কিডনি বর্জ্য পরিশোধন, তরল ভারসাম্য এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মতো প্রয়োজনীয় কাজ করে।
মানবদেহে যা কিছু অতিরিক্ত, অপ্রয়োজনীয়, কিডনি তা রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। তাই কিডনির অসুখ হলে বা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে দেখা যায় নানা ধরণের জটিলতা।
কিডনির সমস্যা যখন অনেক বেড়ে যায় এবং রোগীকে ডায়ালিসিস করাতে হয়, তখন তার খাওয়াদাওয়ায় চলে আসে বেশ কড়াকড়ি। সাধারণত সোডিয়াম, পটাশিয়াম বা ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদানগুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই দরকারি।
কিন্তু অসুস্থ কিডনি এই খনিজগুলোকে রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে ঠিকমতো বের করতে পারে না। ফলে এগুলো রক্তের মধ্যেই জমা হতে শুরু করে, যা শরীরের জন্য বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আর এই কারণেই ডায়ালিসিস রোগীদের সুস্থ রাখতে তাদের খাবারে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসযুক্ত খাবারের পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বাঙালি হিসেবে আমাদের খাবারের প্রথম পাতে শাক থাকেই। পুঁই, পালং, কলমি— শাকের বৈচিত্র অনেক। তবে কিডনির রোগীরা কি শাক খেতে পারেন? এই প্রশ্ন আমাদের অনেকের মনেই থাকে।
পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তী বলেছেন, ‘কিডনির রোগীদের শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজের ভারসাম্য বিগড়ে যায়। কিডনির রোগ কোন মাত্রায় রয়েছে তার উপর আপনার শাক খাওয়া নির্ভর করবে। কিডনির রোগীর রক্তপরীক্ষায় সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মাত্রা খুব বেশি হলে শাক একেবারেই খাওয়া যাবে না। সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে মাঝেমধ্যে শাক খাওয়া যেতে পারে।’
বেশি শাক খেলেই কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর বড় কারণ হলো শাকের মধ্যে থাকা ‘অক্সালেট’ নামের একটি উপাদান। বিশেষ করে যাদের কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা আছে, তারা বেশি শাক খেলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।
তাই কিডনি সুস্থ রাখতে এবং পাথর জমার ঝুঁকি এড়াতে শাক খাওয়ার ব্যাপারে সবারই সতর্ক থাকা উচিত।





