সন্তানদের অবিরাম স্ক্রল করার অভ্যাস কমানোর ৫ উপায়

সংগৃহীত ছবি
আজকালকার দিনে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের স্ক্রিন থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখা যেন বাবা-মায়ের জন্য এক মস্ত বড় যুদ্ধ। গেম খেলা, টিকটক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখতে দেখতে দিন-রাত পার করে দিচ্ছে নতুন প্রজন্ম। সন্তানদের এই অবিরাম স্ক্রল করার আসক্তি এবং মনোযোগের অভাব নিয়ে বিশ্বজুড়েই অভিভাবকেরা বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের রাতের বেলা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে লাগাম টানতে একটি ‘নৈশকালীন নিষেধাজ্ঞা’ বা কারফিউ জারির পরিকল্পনা করছে। যেখানে আসক্তি সৃষ্টিকারী ‘অটো-প্লে’ এবং টানা স্ক্রল করার মতো ফিচারগুলো বন্ধ রাখা হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার তো তাদের মতো চেষ্টা করছে, কিন্তু ঘরে বসে আপনি কীভাবে সন্তানের এই ফোনের আসক্তি কমাবেন? এই বিষয়ে শিশু মনস্তত্ত্ববিদ ও প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞরা ৫টি দারুণ ও সহজ উপায়ের কথা জানিয়েছেন।
১. শুরুটা হোক ছোট ছোট পদক্ষেপে
বাচ্চার হাত থেকে এক ঝটকায় ফোন কেড়ে নেওয়া বা সেটি লুকিয়ে ফেলা কখনোই ভালো সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ক্রিন টাইম নিয়ে বাচ্চার সাথে যখন ঝগড়া হচ্ছে, সেই রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। যখন বাচ্চার মন শান্ত থাকবে, তখন তাকে বুঝিয়ে বলুন।
সহজ সমাধান হিসেবে ঘরের একটা নির্দিষ্ট জায়গায় যেমন, কোনো ড্রয়ার বা আলমারির ভেতরে ফোন বা ট্যাবলেটের চার্জার রাখুন। নিয়ম করুন, ফোন ব্যবহারের সময় শেষ হলে ওখানেই চার্জে বসিয়ে দিতে হবে এবং এরপর আর ফোন ধরা যাবে না।
২. জোর না করে বন্ধু হোন
টিনএজারদের ওপর জোর করে নিয়ম চাপিয়ে দিলে তারা উল্টো রেগে যায়। তাই তাদের সাথে আচরণ করতে হয় বন্ধুর মতো। সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের সাথে যুক্ত থাকার যে সামাজিক চাপ বা ট্রেন্ড তাদের ওপর থাকে, সেটি আগে মেনে নিন। তাদের বলুন, আমি বুঝি বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখতে তোমার ফোন দরকার। কিন্তু চলো, আমরা এমন একটা সময় ঠিক করি যখন ফোন ছাড়াই আমরা দারুণ কিছু সময় কাটাব।
৩. স্ক্রিন টাইমকে বানিয়ে ফেলুন শেখার মাধ্যম
বাচ্চারা ইন্টারনেটে কী দেখছে, তা নিয়ে বিরক্ত না হয়ে বরং তাদের সাথে খোলামেলা কথা বলুন। তাদের অ্যাপগুলোর কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন, তুমি কি জানো এই অ্যাপগুলো এমনভাবে তৈরি যাতে তুমি সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকো? মানুষ যত বেশি সময় এখানে কাটায়, কোম্পানিগুলো তত বেশি টাকা আয় করে। এতে বাচ্চার মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে। এছাড়া ইন্টারনেটের কোনো তথ্য সত্যি নাকি ভুয়া, তা কীভাবে যাচাই করতে হয়, তাও তাকে শেখাতে পারেন।
বাচ্চারা সবসময় তার মা-বাবাকে দেখেই শেখে। তাই বাচ্চাকে ফোন রাখতে বলার আগে নিজেদের অভ্যাসটা দেখতে হবে। বাচ্চার সামনে নিজেরাও একটু ফোন কম ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে বাচ্চার সাথে একটু মজা করে নিজের ভুল স্বীকার করুন, যেমন— আসলে আমরা সবাই ফোনের ওপর বেশি নির্ভর হয়ে পড়েছি, আমার নিজেরও এই অভ্যাস কমানো দরকার।
এছাড়া বাচ্চারা যখন বলে ‘আমার কিছু করার নেই’ বা ‘বোরিং লাগছে’, তখন তাদের জোর করে কোনো কাজে না পাঠিয়ে অলস সময় বা শূন্যে তাকিয়ে থাকতে দিন। এই অলস সময় মানুষের ভেতরে সৃজনশীলতা ও নতুন চিন্তার জন্ম দেয়।
৫. অতিরিক্ত আতঙ্কিত হবেন না
চারপাশে এত স্ক্রিন দেখে অভিভাবক হিসেবে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিডিয়ার অতিরিক্ত আতঙ্ক দেখে ভাববেন না যে আপনার বাচ্চার মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের মস্তিষ্কের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বড়দের চেয়ে অনেক বেশি।
সোশ্যাল মিডিয়া মনোযোগ নষ্ট করে না, বরং মনোযোগটাকে বিজ্ঞাপনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। তাই ভয় না পেয়ে বাচ্চাকে প্রযুক্তির ভালো ও ইতিবাচক ব্যবহার শেখান, যা তাদের পড়ালেখা ও নতুন কিছু শিখতে সাহায্য করবে।
সন্তানের ফোন আসক্তি কমাতে আজ থেকেই এই সহজ টিপসগুলো মেনে দেখতে পারেন। ধৈর্য ধরুন এবং ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে সন্তানকে একটি সুস্থ জীবন উপহার দিন।





