পানি পানের সঠিক নিয়ম ও সময় জানেন তো?

সংগৃহীত ছবি
সুস্থ ও সতেজ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই, এ কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু সারা দিনে কতটা পানি পান করছেন? শুধু তাতেই কি আপনার শরীর সুস্থ থাকছে?
আয়ুর্বেদ চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পানির পরিমাণ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই জরুরি পানি পানের সঠিক সময় ও নিয়ম। আমরা অনেকেই না বুঝে খাবারের মাঝখানে ঢকঢক করে পানি খেয়ে ফেলি, কিংবা সকালে উঠেই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাই।
বিখ্যাত আয়ুর্বেদিক হেলথ কোচ ডিম্পল জাংদা পানি পানের এমন কিছু বিস্ময়কর ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম শেয়ার করেছেন, যা আমাদের চিরাচরিত ধারণাকে বদলে দিতে পারে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক আয়ুর্বেদ মতে পানি পানের সঠিক নিয়মগুলো:
১. দিনের শুরু হোক উষ্ণ পানিতে
সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা-কফি বা ঠান্ডা পানির বদলে অন্তত ২০০ মিলি কুসুম গরম পানি পানের অভ্যাস করুন। আয়ুর্বেদ মতে, সকালে খালি পেটে ঠান্ডা পানি খেলে তা আমাদের পেটের পরিপাক শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া আরও বাড়াতে এই হালকা গরম পানির সঙ্গে সামান্য আদা, রক সল্ট এবং এক চিমটি দারুচিনি মিশিয়ে নিতে পারেন।
২. গোসলের আগে এক গ্লাস পানি
শুনতে অবাক লাগলেও গোসল করার ঠিক আগে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করা উচিত। ডিম্পল জাংদা জানান, এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং গোসলের সময় হঠাৎ রক্তচাপ কমে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
৩. খাবারের মাঝে পানি পানের ভুল নয়
বাঙালিদের অনেকেরই অভ্যাস থাকে ভাত বা ভারী খাবার খাওয়ার সময় পাতে পানির গ্লাস রাখা। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার খাওয়ার সময় পানি খেলে তা আমাদের পেটের পাচক রস ও এনজাইমগুলোকে পাতলা করে দেয়। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না এবং এসিডিটি বা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। তাই নিয়ম হলো, খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস এবং খাবার শেষ করার ঠিক ১ ঘণ্টা পর আরেক গ্লাস পানি পান করা।
৪. ঢকঢক করে নয়, চুমুক দিয়ে পানি খান
তেষ্টা পেলেই এক নিঃশ্বাসে পুরো এক বোতল পানি খালি করে ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করুন। একবারে অনেক পানি খেলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এর বদলে সারা দিন ধরে অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে পানি পান করুন।
৫. বিকাল ৪টার পর পানি পানের বিশেষ নিয়ম
দিনের প্রথমভাগে পানির চাহিদা মেটানো সবচেয়ে ভালো। দুপুরের পর থেকে পানি পানের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা উচিত। বিকাল ৪টার মধ্যে দৈনিক চাহিদার অন্তত দেড় লিটার এবং সূর্যাস্তের আগে আরও আধা লিটার পানি পান শেষ করুন। সূর্যাস্তের পর বা রাতে তৃষ্ণা পেলে শুধু গলা ভেজানোর মতো ছোট ছোট চুমুকে পানি পান করা উচিত।
৬. ঘুমানোর আগে মাত্র আধ গ্লাস
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লিটার লিটার পানি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা আজই বর্জন করুন। এতে মাঝরাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ পেয়ে ঘুম ভেঙে যেতে পারে, যা আপনার ঘুমের চক্র নষ্ট করে। তাই ঘুমানোর ঠিক আগে সর্বোচ্চ আধ গ্লাস পানি পান করাই যথেষ্ট।
পানির অপর নাম জীবন, তবে তা নিয়ম মেনে পান করলেই শুধু অমৃতের মতো কাজ করবে। তাই আজ থেকেই পানি পানের এই সহজ ও বৈজ্ঞানিক নিয়মগুলো মেনে চলুন এবং সুস্থ ও সতেজ থাকুন।





