রহস্য উন্মোচন
দলের স্বার্থে ইচ্ছে করে কার্ড দেখেন লোপেজ!

আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপের সেই টানটান উত্তেজনার কোয়ার্টার ফাইনাল। হুলিয়ান আলভারেজের গোলের পর পুরো স্টেডিয়াম যখন আনন্দে ভাসছে, ঠিক তখনই রেফারির পকেট থেকে বের হলো হলুদ কার্ড। কার্ডটি দেখলেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার ফ্লাকো লোপেজ। কিন্তু কেন? গোল করার পর কোনো ঝগড়া বা ফাউল তো ছিল না! মাঠে উপস্থিত দর্শক কিংবা মূল সম্প্রচারেও ধরা পড়েনি সেই অপরাধ।
অবশেষে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্মোচন করেছে সেই গোপন রহস্য। বিবিসির থ্রিডি অ্যানালিটিক্যাল সফটওয়্যার, যা মূলত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাতেই ধরা পড়ে লোপেজের সেই রহস্যময় কারসাজি। গোল হওয়ার পর সুইজারল্যান্ড দ্রুত খেলা শুরু করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা তখনো নিজেদের অর্ধে গুছিয়ে উঠতে পারেননি। ঠিক সেই মুহূর্তেই লোপেজ বলের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকার সাথে তার শুরু হয় এক অদৃশ্য লড়াই। জাকা যখন বল নিয়ে খেলা শুরুর তাড়া দিচ্ছিলেন, লোপেজ অকারণে শরীর দিয়ে বলের গতিপথ আটকে রাখেন। বাধা পেয়ে জাকা রেগেমেগে তাকে ধাক্কা দেন। রেফারি এই ঘটনাকে খেলা বিলম্বিত করা বা সময় নষ্ট করার কৌশল হিসেবে দেখেন। সেই অপরাধেই লোপেজকে দেখতে হয় হলুদ কার্ড। লোপেজের এই কার্ডটি ছিল মূলত আর্জেন্টিনার জন্য এক কৌশলগত জয়। সেই কয়েক সেকেন্ডের সময় নষ্ট করার বিনিময়ে আর্জেন্টিনা তাদের রক্ষণভাগ গুছিয়ে নেওয়ার মোক্ষম সময় পেয়ে গিয়েছিল। যদিও লোপেজ কার্ডের শাস্তি পেয়েছেন, কিন্তু দলের স্বার্থে তার এই ‘বলিদান’ ছিল অপরিহার্য। এমবোলোর বহিষ্কার আর রেফারির বিতর্কিত সব সিদ্ধান্তের মাঝেও ফ্লাকো লোপেজের এই ছোট একটি বুদ্ধিদীপ্ত চাল আর্জেন্টিনাকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সহায়তা করেছিল।
ম্যাচ শেষে অবশ্য সেই কার্ডের আর কোনো প্রভাব নেই, কারণ সেমিফাইনালের আগে সব কার্ড বাতিল হয়ে গেছে। আগামী বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাযুদ্ধের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে মরিয়া স্কালোনি শিষ্যরা। ছিয়াশির বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই হাত দিয়ে গোল করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। এবারও কি দেখা যাবে নতুন কোনো বিতর্ক?






