৯ দিন পর কক্সবাজার সৈকতে সূর্যাস্তের দেখা

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে দেখা মিলেছে বহুল প্রতীক্ষিত সূর্যাস্তের। ছবি: আগামীর সময়
টানা ৯ দিনের অপেক্ষার পর অবশেষে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে দেখা মিলেছে বহুল প্রতীক্ষিত সূর্যাস্তের। টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৪ জুলাইয়ের পর আর সূর্যাস্ত দেখা যায়নি।
সোমবার বিকেলে আকাশ পরিষ্কার হতেই লাল আভায় সাগরের বুকে ডুবে যাওয়া সূর্যের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে সৈকতে ভিড় করেন হাজারো পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থী।
বিকেল গড়াতেই কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কেউ বালুচরে হেঁটেছেন, কেউ সৈকতের ছাতা-চেয়ারে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করেছেন। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখেন। কয়েক দিনের দুর্যোগের পর প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর রূপ ফিরে পাওয়ায় পর্যটকদের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ৪ জুলাই শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিপাত ১১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ১২ জুলাই দুপুরে কিছু সময় বৃষ্টি হলেও এরপর থেকে সোমবার পর্যন্ত আর উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরিষ্কার আকাশে সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মেহেদী হাসান বলেন, কক্সবাজারে এসে টানা কয়েকদিন শুধু বৃষ্টি দেখেছি। মনে হচ্ছিল সূর্যাস্ত আর দেখা হবে না। আজ বিকেলে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার পর এমন সুন্দর সূর্যাস্ত দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক সাবিহা রহমানের ভাষ্য, সূর্য যখন ধীরে ধীরে সাগরের বুকে হারিয়ে যাচ্ছিল, সেই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এতদিনের অপেক্ষা আজ সার্থক হয়েছে। অনেক ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছি।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সৈকত প্রায় ফাঁকা ছিল। আজ আবার মানুষের কোলাহল ফিরে এসেছে। সবাই আনন্দ নিয়ে সূর্যাস্ত দেখছে। এটি আমাদের জন্যও স্বস্তির।
তবে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সমুদ্রে এখনো ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন স্থানে লাল পতাকা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন লাইফগার্ড সদস্যরা।
সিনিয়র লাইফগার্ড সদস্য রশিদ আহমেদ বলেন, সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি হয়নি। এ কারণে সৈকতে পর্যটকের সমাগম বেড়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পর্যটকদের নিরাপদে থাকতে সতর্ক করছি।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আপাতত টানা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার এক থেকে দুই দিন বৃষ্টি হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের বন্যা পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে কক্সবাজারে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ৯২৪ মিলিমিটার। তবে ৪ থেকে ১২ জুলাই, মাত্র নয় দিনেই ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। অস্বাভাবিক এই বর্ষণ এবং উজানের ঢলে জেলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।




