ত্বকের যত্নে যে ভুল অভ্যাস

ছবি: পিন্টারেস্ট
ত্বকের যত্ন নেওয়া অনেকের জন্যই একটি দৈনন্দিন উদ্বেগের বিষয়। কারণ ত্বক প্রতিনিয়ত ধুলোবালি, দূষণ এবং পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়। সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক আত্মবিশ্বাস ও সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। তবে এটি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন। ত্বকের সমস্যার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান হয় না।
গত ১১ এপ্রিল ভারতের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং কসমেটোলজিস্ট ডা. সুরভি বালানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে নিজের ত্বক সুরক্ষায় কোন কোন অভ্যাস এড়িয়ে চলেন তা উল্লেখ করেছেন তিনি। পোস্টে আটটি সাধারণ অভ্যাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
তিনি জানান, সুস্থ ত্বক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছোট কিন্তু নিয়মিত সিদ্ধান্তগুলোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে সেই ভুল আটটি অভ্যাস কী কী তা তুলে ধরা হলো-
১. সানস্ক্রিনকে ঐচ্ছিক মনে করা
নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি অকাল বার্ধক্য, ত্বকে কালচে দাগ এবং স্কিন ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
এমনকি মেঘলা দিনেও। প্রতিদিন এসপিএফ ব্যবহার করা হলো ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার এবং সুরক্ষার সবচেয়ে সহজ উপায়।
২. ত্বকে লেবু, টুথপেস্ট বা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করা
ত্বক চর্চার বিষয়ে সচেতনতা অব্যাহত থাকলেও ত্বকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ঘরোয়া এসব উপাদান ব্যবহার করা যেন খুবই সাধারণ বিষয়। লেবু আপনার ত্বক পুড়িয়ে ফেলতে পারে এবং কালচে দাগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। টুথপেস্ট ত্বকের প্রাকৃতিক স্তর নষ্ট করে এবং ঘরোয়া টোটকাগুলো অনেক সময় উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। বিশেষ করে ব্রণ ওঠা ত্বক বা সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি এসব উপাদান মোটেও ব্যবহার করা উচিত নয়।
৩. সমস্যার সমাধানের জন্য ভাইরাল স্কিনকেয়ার হ্যাকের ওপর নির্ভর করা
বেশিরভাগ ভাইরাল পদ্ধতিই অপরীক্ষিত, অতি সরলীকৃত বা অনেকাংশেই অনিরাপদ। ত্বকের ব্রণ, হাইপারপিগমেন্টেশন বা একজিমার মতো সমস্যার জন্য ঘরোয়া শর্টকাট নয়, বরং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা প্রয়োজন।
৪. ঘাড়, বুক ও হাতের যত্ন না নেওয়া
মুখের চেয়ে এই অংশগুলোতে বয়সের ছাপ দ্রুত পড়ে! ত্বকের রং এবং গঠন ঠিক রাখতে চোয়ালের নিচের অংশগুলোতেও আপনার স্কিনকেয়ার পণ্য, বিশেষ করে এসপিএফ এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি।
৫. মুখ অতিরিক্ত পরিষ্কার করা বা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা
মুখ ধোয়ার পর যে টানটান পরিষ্কার অনুভূতি হয়, তা আসলে ত্বকের সুরক্ষাকারী স্তরের ক্ষতির লক্ষণ। অতিরিক্ত মুখ ধোয়া বা কড়া সাবান ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং আরও বেশি ব্রণ হতে পারে। ত্বক আলতোভাবে পরিষ্কার করাই ভালো।
৬. ভেজা ত্বকে অসতর্কভাবে অ্যাকটিভস ব্যবহার করা
শুনতে নিরীহ মনে হলেও, ভেজা ত্বকে পণ্যগুলো আরও গভীরে প্রবেশ করে, যা ত্বক জ্বালাপোড়ার ঝুঁকি বাড়ায় । বিশেষ করে রেটিনল বা এক্সফোলিয়েটিং অ্যাসিড যুক্ত সিরামের মতো অ্যাকটিভগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে হবে। সব সময় সচেতনভাবে অ্যাকটিভস ব্যবহার করা ভালো।
৭. তোয়ালে দিয়ে মুখ ঘষা
আমরা সব সময় আলতোভাবে চেপে ত্বক শুকিয়ে নিই। তোয়ালের ঘর্ষণ ত্বকে সূক্ষ্ম প্রদাহ এবং কালচে দাগের ঝুঁকি তৈরি করে।
৮. ত্বকের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া সরাসরি শক্তিশালী অ্যাকটিভস শুরু করা
ধীরে ধীরে অল্পমাত্রায় ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের সহনশীলতা তৈরি করা উচিত। সরাসরি খুব শক্তিশালী পণ্য ব্যবহার শুরু করলে ত্বক জ্বালাপোড়া এবং ত্বকের সুরক্ষাকারী স্তরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

