পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কি না, বুঝবেন যেসব লক্ষণে

প্রতীকী ছবি
শরীর সুস্থ রাখতে পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, খাবার হজম, পুষ্টি উপাদান পরিবহন, জয়েন্ট সচল রাখা এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে পানি ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করছেন, সেটি শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট কি না, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে কিছু সাধারণ লক্ষণ প্রকাশ পায়। সেগুলো চিনতে পারলে আগেই সতর্ক হওয়া সম্ভব।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়
প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া: শরীরে পানির ঘাটতি বোঝার সহজ উপায়গুলোর একটি হলো প্রস্রাবের রং লক্ষ করা। সাধারণত হালকা হলুদ বা খড়ের মতো রং স্বাভাবিক। অন্যদিকে গাঢ় হলুদ প্রস্রাব পানির ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে কিছু ওষুধ ও ভিটামিনের কারণেও প্রস্রাবের রং বদলাতে পারে।
বারবার তৃষ্ণা পাওয়া: ঘন ঘন পানি পান করতে ইচ্ছা করা শরীরের পানির প্রয়োজনের সংকেত। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া, ব্যায়াম কিংবা অতিরিক্ত ঘামের পর এমনটা হতে পারে।
মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া: শরীরে পানির ঘাটতি হলে মুখের ভেতর, জিহ্বা ও ঠোঁট শুকিয়ে যেতে পারে। মুখে লালা কমে যাওয়ায় অস্বস্তিও তৈরি হয়।
মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা: পানিশূন্যতার কারণে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা বা শরীরচর্চার পর এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্লান্ত লাগা, কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা শরীর দুর্বল মনে হওয়া পানির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া: স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া বা দীর্ঘ সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব না করাও পানিশূন্যতার ইঙ্গিত।
কোষ্ঠকাঠিন্য: শরীরে পর্যাপ্ত তরল না থাকলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে মলত্যাগে অসুবিধা দেখা দেয়।
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন?
সবার পানির চাহিদা এক নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া ও শারীরিক অবস্থার ওপর তা নির্ভর করে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) সাধারণভাবে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ গ্লাস তরল পান করার পরামর্শ দেয়। গরম আবহাওয়া, ব্যায়াম কিংবা অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে আরও বেশি তরল প্রয়োজন হতে পারে। পানির পাশাপাশি ফল, সবজি ও অন্যান্য পানীয় থেকেও শরীর তরল পায়।
পানির ঘাটতি এড়াতে দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে পানি পান করুন। বাইরে বের হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। তরমুজ, শসা ও কমলার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাব প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
শরীরের পানির চাহিদা পূরণে তৃষ্ণার সংকেতের পাশাপাশি প্রস্রাবের রং ও শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর রাখা জরুরি।
তথ্যসূত্র: এনএইচএস, মায়ো ক্লিনিক, মেডলাইনপ্লাস, সিডিসি



