প্রচণ্ড গরমের সময় কী খাবেন, কী বাদ দেবেন

প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশ জুড়ে বাড়ছে ডায়রিয়া ও পেটের নানা সমস্যার প্রকোপ। চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়ে অসুস্থতার একটি বড় কারণ হলো আমাদের রোজকার খাবারে গণ্ডগোল।
এই তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা ও সুস্থ রাখতে আমাদের কী খাওয়া উচিত আর কী বর্জন করা উচিত, তা নিয়ে আজকের আলোচনা।
গরমের দিনে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
কিছু খাবার হজম হতে অনেক বেশি সময় নেয়, যা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং পানিশূন্যতা তৈরি করে। এই গরমে নিচের খাবারগুলো যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো:
অতিরিক্ত মশলা ও চর্বিযুক্ত খাবার: ভুনা মাছ-মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি বা তেহারির মতো ভারী খাবার এখন না খাওয়াই ভালো। এগুলো হজম হতে সময় নেয় এবং শরীরকে ভেতর থেকে আরও গরম করে তোলে।
ডুবো তেলে ভাজা ও ফাস্টফুড: বার্গার, পিৎজা, ফ্রাইড চিকেন কিংবা সিঙাড়া-পুরির মতো ভাজাপোড়া খাবার শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করে এবং প্রদাহ বাড়ায়।
আইসক্রিম ও কোমল পানীয়: আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে ঠান্ডা মনে হলেও, অতিরিক্ত চিনি থাকার কারণে এগুলো খাওয়ার পরপরই শরীর আরও বেশি তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে এবং পানিশূন্যতা দেখা দেয়।
অতিরিক্ত চা ও কফি: চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
বাইরের খোলা খাবার ও মেয়নেজ: গরমে দুগ্ধজাত খাবার এবং ঠিকমতো সেদ্ধ না হওয়া মাংসে যেমন স্টেক ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত ছড়ায়। তাই বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন।
ডিম ও লাল মাংস: যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল আছে, তারা এই গরমে ডিম ও চর্বিযুক্ত মাংস কিছুটা এড়িয়ে চলতে পারেন। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মুরগি বা মাছ বেছে নেওয়া ভালো।
অতিরিক্ত চিনি ও লবণ: প্রসেসড বা প্যাকেটজাত খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ ও চিনি শরীরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়। তাই এগুলো বর্জন করুন।
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে যেসব খাবার
এই সময়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত যা সহজে হজম হয় এবং শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি: একজন সুস্থ মানুষের দিনে অন্তত ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার (১২-১৩ গ্লাস) পানি পান করা উচিত। কারণ ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বের হয়ে যায়।
হালকা ও কম মসলার খাবার: খাবারে মসলার ব্যবহার কমিয়ে দিন। লাউ, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, চালকুমড়া ও সজনেডাঁটার মতো সবজি পাতলা ঝোল করে রান্না করে খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে।
ডাবের পানি ও স্যালাইন: শরীরের ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখতে ডাবের পানি দারুণ কাজ করে। তবে ডাব কেনা সম্ভব না হলে বিকল্প হিসেবে ওরস্যালাইনের পানি পান করতে পারেন।
লেবুর শরবত ও কাঁচা আম: সাধারণ পানিতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ক্লান্তি দূর হয়। এ ছাড়া মরিচ ছাড়া কাঁচা আমের শরবত ভিটামিন-সির চাহিদা মেটায় ও গরম কমাতে সাহায্য করে।
তরমুজ ও মৌসুমি ফল: গরমে তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে উপকারী, কারণ এতে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ পানি থাকে। এ ছাড়া শসা, জাম বা স্ট্রবেরি খাওয়া যেতে পারে।
টক দই: পাকস্থলী সুস্থ রাখতে প্রতিদিন টক দই খান। এটি খালি কিংবা পানি ও শসা দিয়ে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
পাতলা সবজি স্যুপ ও ডিটক্স ওয়াটার: পাতলা ভেজিটেবল স্যুপ শরীরের জন্য খুব উপকারী। এ ছাড়া পানিতে লেবু, শসা ও পুদিনা পাতা ভিজিয়ে রেখে তৈরি ‘ডিটক্স ওয়াটার’ ভারী খাবার খাওয়ার পর শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, একজনের জন্য যে খাবারটি ভালো, তা সবার জন্য নাও হতে পারে। যেমন কারও কারও শসা খেলে গ্যাসের সমস্যা হয়। তাই নিজের শরীরের উপযোগিতা বুঝে খাবার তালিকা তৈরি করুন এবং সুস্থ থাকুন।





