প্রতিকূলতা পেরিয়ে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে লেখক
১৪ অক্টোবর দুপুরে আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য—এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে! সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,৩৬৪ মিটার (১৭,৫৯৮ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত এই বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পথটি ছিল বেশ কঠিন। চারপাশের পাথুরে রুক্ষ পাহাড়, খাড়া চড়াই আর হাড়কাঁপানো তীব্র বাতাসের সঙ্গে লড়তে হয়েছে।
সেখানকার পরিবেশ অনুকূল ছিল না, শরীর যেন আর এক পাও এগোতে চাচ্ছিল না। একটি মাত্র পা সামনে বাড়িয়ে একটু জিরিয়ে নিয়ে, তবেই পরবর্তী পা ফেলতে হচ্ছিল। এর ওপর আবার সকাল থেকে ছিল চরম ক্ষুধামন্দা; পর্যাপ্ত খাবার খাওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত এবং সহযাত্রী ও গাইডদের আন্তরিক সহযোগিতায় সমস্ত বাধা পেরিয়ে ঠিকই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছি।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পা রেখে যখন আমাদের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দিলাম, তখন গত কয়েক বছরের স্বপ্ন আর বিগত ৯ দিনের এই বিরামহীন হাড়ভাঙা পরিশ্রম সার্থক বলে মনে হলো। চোখের পলকে সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে-মুছে এক স্বর্গীয় আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল মনে।
বেস ক্যাম্পের রোমাঞ্চকর মুহূর্ত শেষে আমরা ধীরে ধীরে আবার ফিরে আসি লাবুচেতে। শারীরিক ধকল এতটাই বেশি ছিল যে, এর আগের টানা তিন রাত বিছানায় শুয়ে থেকেও চোখে এক ফোঁটাও ঘুম আসেনি; কেবল ছটফট করে রাত কেটেছে। তবে আল্লাহর দরবারে অশেষ শুকরিয়া যে, এত বড় একটি অভিযাত্রা আমরা সুস্থভাবে শেষ করতে পেরেছি।
আমার এই অভিযানের পেছনে রয়েছে অনেকের অনুপ্রেরণা ও দোয়া। পরম কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পরিবারের সব সদস্যের প্রতি, যাদের ভালোবাসা ও উৎসাহ আমাকে প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস জুগিয়েছে। ধন্যবাদ জানাই আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনাইটেড ফরেন ট্রেড’-এর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীদের, যারা আমার অনুপস্থিতিতেও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
বিশেষ করে, ‘বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশন’-এর এক বছর পূর্তি উদযাপনের এই বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই মূলত আমার এই এভারেস্ট বেস ক্যাম্প যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে; বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশনের উত্তোত্তর সাফল্য ও এর সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা। সেই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি 'আগামীর সময়' পত্রিকা কে। আমার অভিযানটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।
আগামী ১৮ তারিখ আমার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থাকার কারণে, আমরা এখন লাবুচে থেকে পেরিচের দিকে নেমে যাব। এটি ৮ থেকে ৯ ঘন্টার হাঁটা পথ। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে যাব লুকলা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে আমাদের নির্ধারিত ফ্লাইটে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। লুকলা ফ্লাইট সঠিক সময় ছেড়ে যাওয়াটা অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। হাতে একটা দিন সময় নিয়েছি।
পাহাড়ের চূড়া থেকে শুরু করে বেস ক্যাম্প পর্যন্ত এই দুর্গম পথচলা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে চরম প্রতিকূলতার মাঝেও হার না মেনে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।





