এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পথে পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিন
পর্বতের বুকে এক টুকরো জনপদ

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পথে লেখক
রবিবার সন্ধ্যায় আমরা এসে পৌঁছেছি ডিংবোচেতে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৪১০ মিটার (১৪,৪৭৮ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়ি জনপদটি খুম্বু উপত্যকার এক চমৎকার ও সুন্দর প্রান্তর। এখানে পৌঁছানোর পর হিমশীতল ঠান্ডা আর চারপাশের রুক্ষ পাহাড়ের সৌন্দর্য আমাদের ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দিয়েছিল।
সোমবার ছিল আমাদের উচ্চতার সাথে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার বা ‘অক্লিমাটাইজেশন’ (Acclimatization)-এর দিন। অর্থাৎ ১১ তারিখে ডিংবোচেতে পৌঁছানোর পর, ১২ অক্টোবর সারাদিন আমরা এই উচ্চতার কম অক্সিজেনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য ছোটখাটো হাইকিং ও প্রস্তুতি নিই। সকালের মিষ্টি রোদে এখানকার চারপাশের বরফাবৃত সুবিশাল পর্বতমালাগুলোর রূপ এক কথায় জাদুকরি মনে হচ্ছিল।
ডিংবোচের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সুদূর হিমালয়ের কোলে দুর্গম এক জনপদ হওয়া সত্ত্বেও এখানে পর্যটকদের জন্য মোটামুটি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই পাওয়া যায়— থাকার জন্য সুন্দর টি-হাউজ, উষ্ণ খাবার ও কফি শপ। তবে পাহাড়ি উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি পণ্যের পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় এখানকার জিনিসপত্রের দামও বেশ চড়া।
আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ তারিখ ডিংবোচেই আমাদের বিশ্রাম ও প্রস্তুতি পর্ব শেষ হচ্ছে। ১৩ অক্টোবর সকালবেলা আমাদের পরবর্তী গন্তব্য লাবুচের উদ্দেশে নতুন করে পথচলা শুরু হবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৯৪০ মিটার (১৬,২১০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত লাবুচের এই পথটি আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।
প্রকৃতির নানা রূপ, চরম ঠান্ডা আর প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের এই অভিযান এগিয়ে চলেছে। আমাদের সবার সুস্থতা ও সফলতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।





