রোমাঞ্চকর অভিযাত্রার শুরু
অপেক্ষার প্রহর শেষে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের পথে

৫ তারিখ ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করি। রাতেই কাঠমান্ডুতে পৌঁছে থমেল থেকে কিছু ট্রেকিং গিয়ার কিনে নিই। পরদিন ভোর ৫:০০ টায় কাঠমান্ডু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে যাই। আমাদের গন্তব্য এভারেস্টের প্রবেশদ্বার—লুকলা বিমানবন্দর। বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিমানে গিয়ে চড়ে বসি। বিমানের ইঞ্জিনও স্টার্ট নিয়ে নিয়েছে; কিন্তু ঠিক টেক অফের আগ মুহূর্তে আমাদের জানানো হলো—খারাপ আবহাওয়ার কারণে লুকলা বিমানবন্দরের অপারেশন সাময়িক বন্ধ রয়েছে। আমাদের ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হলো।
আমরা বিমানের ভেতরেই বসে রইলাম। ২০ মিনিট গড়িয়ে হলো ২ ঘণ্টা, ৪ ঘণ্টা, এভাবে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর সন্ধ্যা ৬টায় নিরাশ হয়ে বিমানবন্দর থেকে আবার হোটেলে ফিরে আসতে হলো। রাতে এজেন্সি থেকে আমাদের জানানো হলো, অতিরিক্ত বিমানজট ও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং এর নিকটবর্তী রামেসাপ এয়ারপোর্ট থেকে লুকলার ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী পরদিন ভোর ৫:০০ টায় কাঠমান্ডু থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করে রামেসাপ বিমানবন্দরে পৌঁছাই সকাল ১০:৩০ টায়। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অপেক্ষা ও চেক-ইন কাজ শেষ করে ফ্লাইটের প্রস্তুতি নিলেও সেদিন আবহাওয়া খারাপ থাকায় রামেসাপ বিমানবন্দর এলাকাতেই আরেকটি রাত কাটাতে হয়।
অবশেষে আজ ৭ তারিখ সকালবেলা আবহাওয়া অনুকূলে আসায় রামেসাপ থেকে লুকলার উদ্দেশ্যে উড়াল দিই। আজ সকাল ৮:০০ টায় আমরা সফলভাবে লুকলা বিমানবন্দরে অবতরণ করি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমাদের কাঙ্ক্ষিত এই অভিযাত্রা শুরু হলো।
উল্লেখ্য, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯,৩৩৪ ফুট (২,৮৪৫ মিটার) উচ্চতায় অবস্থিত তেনজিং-হিলারি বিমানবন্দর বা লুকলা বিমানবন্দরকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে গণ্য করা হয়—যেখানে সনাতন এভিয়েশন নিয়মের চেয়ে মূলত প্রকৃতির খামখেয়ালি মিজাজই বেশি প্রভাব ফেলে। এছাড়া কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক সংযোগস্থল হলেও, ট্রাফিক ও আবহাওয়া সামাল দিতে বর্তমানে পিক-সিজনে এভারেস্ট অঞ্চলের ফ্লাইটগুলোর প্রধান বিকল্প ও ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে রামেসাপ বিমানবন্দর।
লুকলায় পৌঁছানোর মাধ্যমেই আমাদের মূল ট্রেকিং যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। ইনশাআল্লাহ, এই ট্রেকিংয়ের প্রতিদিনের খুঁটিনাটি ও আপডেট পাঠকদের সঙ্গে নিয়মিত ভাগ করে নেব।
আপাতত দীর্ঘ ও অনিশ্চিত অপেক্ষা পেরিয়ে অবশেষে আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করতে পেরেছি। আজকের গন্তব্য ফারদিন (ফাকডিং), সেখানেই আজ রাত কাটাবো। কাল সকালেই আবার নতুন করে পথচলা শুরু হবে। আজ থেকে আগামী ১২ দিন আমাদের একমাত্র বাহন হবে নিজেদের দুই পা, আর গন্তব্য এভারেস্ট বেস ক্যাম্প।
আমাদের এবারের এই ১২ জনের আন্তর্জাতিক দলে দুই জন বাংলাদেশী বাদে বাকিরা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চিলি ও ইউক্রেনের নাগরিক। আমাদের এই দুর্গম ও রোমাঞ্চকর পথচলার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।
লেখক : নন প্রফেশনাল ট্রেকার






