পৃথিবীর জন্য হুমকি স্পেস ডেটা সেন্টার

মহাকাশে বিশাল প্রযুক্তির ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ও জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মারাত্মক মাত্রায় দূষণ ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মহাকাশ গবেষক ও পরিবেশবাদীরা। এই প্রকল্পের নেতিবাচক প্রভাব মূল্যায়নের দাবিতে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) কাছে একটি নতুন পিটিশন দাখিল করেছে ‘পিয়ার’, ‘আর্থজাস্টিস’ এবং ‘ডার্কস্কাই ইন্টারন্যাশনাল’ নামে তিনটি অলাভজনক সংস্থা।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো লাখ লাখ ‘অরবিটাল ডেটা সেন্টার’ স্থাপনের জন্য এফসিসির অনুমোদনের চেষ্টা করছে। স্যাটেলাইট ও রকেট যখন পুনরায় বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে যায়, তখন তা স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ব্ল্যাক সুট, বিরল ধাতু ও অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান জমা করে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই দূষণ ওজোন স্তর ধ্বংস করতে পারে, অতিবেগুনি রশ্মির বিকিরণ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং জলবায়ু সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। এর ফলে কোটি কোটি কৃত্রিম উপগ্রহের কারণে আকাশ মারাত্মকভাবে আলোদূষণের শিকার হবে, যা নিশাচর প্রাণী ও পোকামাকড়ের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
২০১৫ সালে সক্রিয় স্যাটেলাইটের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১৫ হাজারে পৌঁছেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক বাদ দিয়েই এই সংখ্যা এক লাখে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। স্যাটেলাইটগুলো যখন উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ৫ থেকে ১৫ বছর পর যখন এগুলো অকেজো হয়ে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যায়, তখন স্ট্রাটোস্ফিয়ারের সংবেদনশীল ব্যবস্থায় ভারী ধাতু ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত হয়। স্ট্রাটোস্ফিয়ারের সালফিউরিক অ্যাসিড অ্যারোসলের সঙ্গে এই মহাকাশ বর্জ্য কীভাবে বিক্রিয়া করে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীদের ধারণা এখনো অত্যন্ত সীমিত।
এফসিসিতে জমা দেওয়া পিটিশনে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো তাদের পরিকল্পনাকে যুগান্তকারী হিসেবে প্রচার করলেও পরিবেশ, বিজ্ঞান বা অর্থনীতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল পলিসি অ্যাক্ট (নেপা) অনুযায়ী, এ ধরনের যেকোনো প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ‘কাউবয় স্পেস করপোরেশন’ বা ‘স্পেসএক্স’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স আবেদনে পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়েছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, কোটি কোটি স্যাটেলাইট ও মহাকাশ ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান ধ্বংসাবশেষ মানবজাতি ও পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই নতুন লাইসেন্স দেওয়ার আগে এই ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর গভীর ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি।




