আসিমভের তিন নিয়মেই সুরক্ষা!

আইজ্যাক আসিমভ— নামটি শুনলেই কল্পবিজ্ঞানের এক মায়াবী জগতের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আর সেই জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক অদ্ভুত সৃষ্টি, যাকে আমরা বলি ‘রোবট’। বিজ্ঞান কল্পকাহিনির ইতিহাসে রোবটকে কেবল যান্ত্রিক দাস থেকে এক অনন্য দার্শনিক মাত্রায় উন্নীত করার মূল কারিগর আসিমভ। ১৯৪২ সালে প্রকাশিত তার ‘রানঅ্যারাউন্ড’ ছোটগল্পে তিনি প্রথম প্রবর্তন করেন এক যুগান্তকারী ধারণা, যা আজ ‘রোবটিকসের তিন নিয়ম’ বা ‘থ্রি লজ অব রোবটিকস’ নামে বিশ্বখ্যাত।
আসিমভের এই তিন নিয়ম কেবল সায়েন্স ফিকশনের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট বিজ্ঞানের নৈতিকতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।
আসিমভের প্রথম নিয়মটি মানুষের নিরাপত্তার কথা বলে। এই নিয়ম অনুযায়ী, একটি রোবট কখনো কোনো মানুষের ক্ষতি করতে পারবে না কিংবা নিষ্ক্রিয় থেকে কোনো মানুষের ক্ষতি হতে দিতে পারবে না। এটি এক পরম সুরক্ষাকবচ, যা যন্ত্রকে মানুষের রক্ষক হিসেবে দাঁড় করায়। কিন্তু ক্ষতি না করাই তো শেষ কথা নয়; মানুষের আদেশ মানার বিষয়টিও জড়িয়ে থাকে। তাই আসে দ্বিতীয় নিয়ম। যেখানে বলা হয়েছে, প্রথম নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে একটি রোবটকে অবশ্যই মানুষের দেওয়া সব আদেশ মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ, মানুষের আদেশ শিরোধার্য। তবে সেই আদেশ যদি অন্য কোনো মানুষের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে প্রথম নিয়মের খাতিরে রোবট সেই আদেশ অমান্য করতে বাধ্য। চূড়ান্ত নিয়মটি রোবটের নিজের অস্তিত্ব রক্ষার কথা বলে। তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে একটি রোবট সর্বদা নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করবে। অর্থাৎ, মানুষের নিরাপত্তা ও মানুষের আদেশের পরই কেবল রোবট নিজের সুরক্ষার কথা ভাবতে পারবে।
আসিমভের বলা প্রতিটি নিয়ম মানুষের নিরাপত্তার কথাই বলে
তবে এই নিয়মগুলো যতটা সরল মনে হয়, বাস্তবে ততটাই জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক। আসিমভ নিজেই তার বিভিন্ন গল্পে এই নিয়মগুলোর ভেতরের ফাঁকফোকর এবং নৈতিক দ্বন্দ্বগুলো চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। যেমন—‘ক্ষতি’ বলতে ঠিক কী বোঝায়? শুধু কি শারীরিক আঘাত, নাকি মানসিক কষ্ট বা অর্থনৈতিক ক্ষতিও এর অন্তর্ভুক্ত? যদি একটি রোবটকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে একজনকে বাঁচাতে গেলে অন্যজনের ক্ষতি অনিবার্য, তখন রোবটের মস্তিষ্ক কোন নিয়মকে প্রাধান্য দেবে? এ ধরনের জটিলতার সমাধান করতে গিয়েই আসিমভ পরে ‘শূন্যতম নিয়ম’ বা ‘জিরোথ ল’ যুক্ত করেছিলেন, যা বলে— একটি রোবট মানবতার ক্ষতি করতে পারবে না বা নিষ্ক্রিয় থেকে মানবতার ক্ষতি হতে দিতে পারবে না। অর্থাৎ, ব্যক্তির চেয়ে মানবজাতির কল্যাণ এখানে বড় হয়ে ওঠে।
আজকের দিনে আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চালকবিহীন গাড়ি এবং স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধাস্ত্রের যুগে প্রবেশ করছি, তখন আসিমভের দূরদর্শিতা আমাদের বিস্মিত করে।বিজ্ঞান + প্রযুক্তি ডেস্ক
আইজ্যাক আসিমভ— নামটি শুনলেই কল্পবিজ্ঞানের এক মায়াবী জগতের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আর সেই জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক অদ্ভুত সৃষ্টি, যাকে আমরা বলি ‘রোবট’। বিজ্ঞান কল্পকাহিনির ইতিহাসে রোবটকে কেবল যান্ত্রিক দাস থেকে এক অনন্য দার্শনিক মাত্রায় উন্নীত করার মূল কারিগর আসিমভ। ১৯৪২ সালে প্রকাশিত তার ‘রানঅ্যারাউন্ড’ ছোটগল্পে তিনি প্রথম প্রবর্তন করেন এক যুগান্তকারী ধারণা, যা আজ ‘রোবটিকসের তিন নিয়ম’ বা ‘থ্রি লজ অব রোবটিকস’ নামে বিশ্বখ্যাত।
আসিমভের এই তিন নিয়ম কেবল সায়েন্স ফিকশনের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট বিজ্ঞানের নৈতিকতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।
আসিমভের প্রথম নিয়মটি মানুষের নিরাপত্তার কথা বলে। এই নিয়ম অনুযায়ী, একটি রোবট কখনো কোনো মানুষের ক্ষতি করতে পারবে না কিংবা নিষ্ক্রিয় থেকে কোনো মানুষের ক্ষতি হতে দিতে পারবে না। এটি এক পরম সুরক্ষাকবচ, যা যন্ত্রকে মানুষের রক্ষক হিসেবে দাঁড় করায়। কিন্তু ক্ষতি না করাই তো শেষ কথা নয়; মানুষের আদেশ মানার বিষয়টিও জড়িয়ে থাকে। তাই আসে দ্বিতীয় নিয়ম। যেখানে বলা হয়েছে, প্রথম নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে একটি রোবটকে অবশ্যই মানুষের দেওয়া সব আদেশ মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ, মানুষের আদেশ শিরোধার্য। তবে সেই আদেশ যদি অন্য কোনো মানুষের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে প্রথম নিয়মের খাতিরে রোবট সেই আদেশ অমান্য করতে বাধ্য। চূড়ান্ত নিয়মটি রোবটের নিজের অস্তিত্ব রক্ষার কথা বলে। তৃতীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে একটি রোবট সর্বদা নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করবে। অর্থাৎ, মানুষের নিরাপত্তা ও মানুষের আদেশের পরই কেবল রোবট নিজের সুরক্ষার কথা ভাবতে পারবে।
তবে এই নিয়মগুলো যতটা সরল মনে হয়, বাস্তবে ততটাই জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক। আসিমভ নিজেই তার বিভিন্ন গল্পে এই নিয়মগুলোর ভেতরের ফাঁকফোকর এবং নৈতিক দ্বন্দ্বগুলো চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। যেমন—‘ক্ষতি’ বলতে ঠিক কী বোঝায়? শুধু কি শারীরিক আঘাত, নাকি মানসিক কষ্ট বা অর্থনৈতিক ক্ষতিও এর অন্তর্ভুক্ত? যদি একটি রোবটকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে একজনকে বাঁচাতে গেলে অন্যজনের ক্ষতি অনিবার্য, তখন রোবটের মস্তিষ্ক কোন নিয়মকে প্রাধান্য দেবে? এ ধরনের জটিলতার সমাধান করতে গিয়েই আসিমভ পরে ‘শূন্যতম নিয়ম’ বা ‘জিরোথ ল’ যুক্ত করেছিলেন, যা বলে— একটি রোবট মানবতার ক্ষতি করতে পারবে না বা নিষ্ক্রিয় থেকে মানবতার ক্ষতি হতে দিতে পারবে না। অর্থাৎ, ব্যক্তির চেয়ে মানবজাতির কল্যাণ এখানে বড় হয়ে ওঠে।
আজকের দিনে আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চালকবিহীন গাড়ি এবং স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধাস্ত্রের যুগে প্রবেশ করছি, তখন আসিমভের দূরদর্শিতা আমাদের বিস্মিত করে।




