দেশে প্রথম অপারেটর হিসেবে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ড চালু করল গ্রামীণফোন

সংগৃহীত ছবি
ডিজিটাল সংযোগের অগ্রগতি এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করল দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন।
দেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যান্ড চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রবিবার ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।
এই স্পেকট্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্কের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক কভারেজ, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোয় আরও শক্তিশালী হবে। ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের 'লো-ব্যান্ড' বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিটি বেস স্টেশন সাইট থেকে আরও বিস্তৃত এলাকায় কাভারেজ দেওয়া সম্ভব হবে, যা দ্রুত এবং সাশ্রয়ী উপায়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সহায়তার মাধ্যমে ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে ভূমিকা রাখবে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গ্রামীণফোনকে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয় বিটিআরসি। এই স্পেকট্রাম ১৩ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রামীণফোন নির্ধারিত মেয়াদে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের ব্যবহার দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শহর ও গ্রাম— উভয় অঞ্চলেই উচ্চমানের সংযোগের সম্প্রসারণ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ করতে সাহায্য করবে।’
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানালেন, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এবং ডিজিটাল সেবাগুলোয় সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে একটি বড় ভূমিকা রাখবে। লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম হিসেবে এটি বিশেষ করে ভবনের ভেতরে এবং দেশের সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোয় কভারেজের গুণগত মান উন্নত করবে। এর ফলে দেশ জুড়ে ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে গ্রাহকরা আরও নির্ভরযোগ্য সংযোগ, উন্নত ভয়েস ও ডেটা পারফরম্যান্স এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবাগুলো সহজে উপভোগ করতে পারবেন।
গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, ‘এই স্পেকট্রাম দেশ জুড়ে গ্রাহকদের সেরা নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের নিরন্তর প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। এটি ফোরজির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখবে এবং উচ্চতর ডেটা স্পিড, কম ল্যাটেন্সি ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশে উন্নত গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ-উপযোগী প্রযুক্তি যেমন ফাইভজি, এআই ও আইওটির জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।’
তিনি এই স্পেকট্রাম বরাদ্দ দিয়ে একটি ভবিষ্যৎ-উপযোগী টেলকো ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়তা করার জন্য বিটিআরসি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।




