শৈশবে হিমায়িত অণ্ডকোষ টিস্যু যৌবনে ফিরল শুক্রাণু উৎপাদনে

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি
কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি বহু শিশুর জীবন বাঁচিয়েছে। তবে এই চিকিৎসার একটি বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি। বিশেষ করে শৈশবে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের মতো শক্তিশালী চিকিৎসা নেওয়া অনেক ছেলের শরীরে পরে আর কার্যকর শুক্রাণু তৈরি হয় না।
এবার প্রথমবারের মতো এমন এক ব্যক্তির শরীরে আবারও শুক্রাণু উৎপাদন ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অফ ব্রাসেলস ও ফ্রাইয়ে ইউনিভেরসিটেইট ব্রাসেল -এর গবেষকেরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, রোগীর শৈশবে সংরক্ষণ করে রাখা তার নিজের অণ্ডকোষের টিস্যু প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে আবার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর সেই টিস্যু থেকেই পরিণত ও সচল শুক্রাণু তৈরি হতে শুরু করে।
রোগী জন্মগতভাবে ‘সিকল সেল এনিমিয়া’ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এর চিকিৎসায় অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন ও কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়। ২০০৮ সালে, যখন তার বয়স প্রায় ১০ বছর, তখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবারের সম্মতিতে তার একটি অণ্ডকোষ অপসারণ করে হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়।
বহু বছর পর, ২০২২ সালে তিনি সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে চিকিৎসকদের কাছে ফিরে আসেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার শরীরে কোনো কার্যকর শুক্রাণু নেই। তখন তিনি শৈশবে সংরক্ষিত টিস্যু পুনরায় প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
২০২৫ সালে পরীক্ষামূলক চিকিৎসার অংশ হিসেবে চিকিৎসকেরা তার অণ্ডকোষ ও অণ্ডথলির বিভিন্ন অংশে সেই টিস্যু প্রতিস্থাপন করেন। এক বছর পর দেখা যায়, প্রতিস্থাপিত কিছু টিস্যু থেকে আবারও শুক্রাণু তৈরি হচ্ছে।
যদিও এই শুক্রাণু এখনো স্বাভাবিকভাবে বীর্যে পৌঁছাতে পারছে না, কারণ প্রতিস্থাপিত অংশগুলো শুক্রনালির সঙ্গে যুক্ত নয়। ফলে ভবিষ্যতে সন্তান নিতে চাইলে তাকে সম্ভবত আইভিএফের মতো বিশেষ চিকিৎসার সহায়তা নিতে হবে। তবুও আগে যেখানে বাবা হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না, সেখানে এখন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা। মাত্র একজন রোগীর ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া গেছে বলে পুরো পদ্ধতিকে নিশ্চিতভাবে কার্যকর বলা যাচ্ছে না। তবে এই ঘটনা প্রমাণের আশা দেখাচ্ছে যে, শিশু বয়সে সংরক্ষণ করা অণ্ডকোষের টিস্যু ভবিষ্যতে প্রজননক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।
গবেষকেরা এখন ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি ক্যানসার বা রক্তরোগে আক্রান্ত বহু শিশুর জন্য নতুন আশার দ্বার খুলে দিতে পারে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট




