সোনার খোঁজে ছিলেন তারা, পেলেন আরও মূল্যবান কিছু

সংগৃহীত ছবি
মাটির নিচ থেকে সোনা খুঁজে বের করাই ছিল তাদের কাজ। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমিতে সোনা খুঁজতে গিয়ে ভূতাত্ত্বিকরা (যারা মাটি ও পাথর নিয়ে গবেষণা করেন) এমন এক গুপ্তধন পেয়ে গেলেন, যা সোনার চেয়েও অনেক বেশি দামি এবং বিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ!
সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ওড়া বান্দা নামের একটি সোনার খনিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ভূতাত্ত্বিক গবেষক দলের যন্ত্রে মাটির নিচে চার কিলোমিটার চওড়া একটি বিশাল গোল আকৃতির অদ্ভুত জিনিস ধরা পড়ে। এরপর মাটির গভীর থেকে পাথর তুলে এনে পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে এক চরম সত্য।
আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে সেখানে মহাকাশ থেকে এক বিশাল উল্কাপিণ্ড (মেটিওরাইট) আছড়ে পড়েছিল। সেই ধাক্কা এতটাই ভয়ানক ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে মাটির শক্ত পাথর গলে গিয়েছিল এবং মাটির নিচে থাকা সোনা বাতাসে ছিটকে গিয়ে আবার সেই গর্তেই জমাট বেঁধে গিয়েছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি, বাতাস আর ধুলোবালির কারণে সেই বিশাল গর্তটি ওপর থেকে পুরোপুরি ভরাট হয়ে সমান হয়ে যায়। ফলে বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায়ই ছিল না যে মাটির নিচে এত বড় একটি ইতিহাস লুকিয়ে আছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে ছুটে আসা এই উল্কাপিণ্ডটি ছিল লোহায় ভরপুর। মাটিতে আছড়ে পড়ার সময় এটি যে তীব্র কম্পন বা শকওয়েভ তৈরি করেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে পাথরের গায়ে। প্রচণ্ড চাপে এখানকার পাথরগুলো ভেঙে খাঁজকাটা মোচড় বা কোণ আকৃতির রূপ নিয়েছে, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘শ্যাটার কোণ’।
এ ছাড়া মাটির নিচের পাথরে মিলেছে নিকেল, কোবাল্ট, প্ল্যাটিনাম আর ইরিডিয়ামের মতো মূল্যবান ধাতু, যা সাধারণত পৃথিবীর মাটিতে এত বেশি থাকে না, কিন্তু উল্কাপিণ্ডে প্রচুর পরিমাণে থাকে।
বিজ্ঞানীদের কাছে এই আবিষ্কারটি কেন এত মূল্যবান?
কারণ, এই উল্কাপিণ্ডটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শিলা স্তর ‘গ্রিনস্টোন’-এর ওপর আঘাত করেছিল। পৃথিবীতে এমন ঘটনা ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো নিশ্চিত হওয়া গেল। কোটি কোটি বছর আগে যখন আমাদের পৃথিবী একদম নতুন ছিল, তখন কীভাবে একের পর এক উল্কাপাত আমাদের গ্রহের চেহারা বদলে দিয়েছিল এবং কীভাবে পৃথিবীতে পানি ও জীবনের উপাদান এসেছিল, তা বুঝতে এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের দারুণ সাহায্য করবে।
এমনকি আমাদের প্রতিবেশী গ্রহ মঙ্গলের মাটির রহস্য বুঝতেও এটি কাজে লাগবে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা যদি সেখানে সোনা খুঁজতে না যেতেন, তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটির নিচের এই এক্স-রে বা পরীক্ষা করা হতো না এবং পৃথিবীর এই প্রাচীন ক্ষতটির কথাও কোনো দিন জানা যেত না। সোনা খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা তাই প্রকৃতির তৈরি ইতিহাসের এক অনন্য খনি আবিষ্কার করে ফেললেন।




