আমীরুল ভাই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম ২৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। ২৬ না, ৬২ বছর বয়সে। ভুলে ২৬ লিখে ফেলেছি। তবে খুব ভুল কি লিখেছি? সেটা তো না। আমীরুল ভাই থাকলে কী বলতেন? ‘কীয়ের ভুল মিয়া? ৬২ আর ২৬ একই। ২ আর ৬।’
শিশুসাহিত্যিক। আমীরুল ভাই ছিল ‘পিওর’ শিশুসাহিত্যিক; গড়পড়তা আর দশজনের মতো না। আলাদা একজন। প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর মানুষ। বিচিত্র বিষয়ে আগ্রহ ছিল তার। বিচিত্র বিষয় নিয়ে লিখেছেন। বইয়ের সংখ্যা আমার অনুমান তিনশর বেশি তো হবেই। একটা ছাড়া আর সব বইয়েরই বিষয় নির্ভেজাল শিশুসাহিত্য। গল্প, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, ভ্রমণ, রূপকথা, স্মৃতিগদ্য, বিজ্ঞান, গণিত, খেলাধুলা, নাটক— শিশুসাহিত্যের এমন কোনো শাখা সম্ভবত নেই, আমীরুল ভাই লিখে যাননি। সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে একবার, পরে আরও পাঁচবার অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন। শিশুসাহিত্যে সার্বিক অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। পুরস্কারের ঝুলি ভর্তি।
ছোটরা তার লেখা পড়ে। নবীন লেখক জারাদ ত্রিস্তানের একটা লেখা মাত্র পড়লাম, আমীরুল ভাইয়ের গল্প পড়ে তার মুগ্ধতার কথা লিখেছে সে। ভালো লাগল। ভাবি, বহু বছর আগে আমিও এক জারাদ ত্রিস্তানই ছিলাম হয়তো। পত্রপত্রিকায় আমীরুল ইসলামের গল্প পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। পরে দেখা হলো, এত সখ্য হলো, শৈশবের সেই মুগ্ধতা কাটে নাই আর। সখ্য কি, আমীরুল ভাইয়ের সঙ্গে আমি রাগ করতে পারতাম; প্রচণ্ড রাগ করতে পারতাম, যা মনে আসে তা বলে দিতে পারতাম। পৃথিবীতে আর এক বুলবুল (বুলবুল চৌধুরী) ভাইয়ের সঙ্গে আমার এই সম্পর্ক ছিল।
মন ভারি না করি। আমীরুল ভাইয়ের কিছু বইয়ের নাম বলি— ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই’, ‘রাজিনের উড়ন্ত সাইকেল’, ‘আকাশ ভরা রূপকথা’, ‘অচিন জাদুকর’, ‘তুমি আমাদের পিতা’, ‘ছড়া কি দূরের দুপুর, মাটির গাড়ি’, ‘গদ্যছড়া’, ‘ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড’ (অনুবাদ), ‘রেড ইন্ডিয়ান রূপকথা’ (অনুবাদ), ‘ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল’, ‘রুমঝুমপুর’। তিন শতাধিক বইয়ের কথা বলেছি, তার মধ্যে আড়াই শতাধিক বইয়ের প্রচ্ছদ আমি করেছি। প্রথম ‘আমাদের গোয়েন্দাগিরি’ বইয়ের কিছু অলংকরণ করেছিলাম। প্রথম প্রচ্ছদ করি যে বইয়ের ‘আরব্য রজনীর গল্প’, সেটি ছিল আমীরুল ভাই ও মাযহার (আহমাদ মাযহার) ভাইয়ের যৌথ রচনা। পরে ‘অমি ওয়ান অমি টু’ করলাম। আমীরুল ভাইয়ের কিশোর উপন্যাস। বই ছাপা হলো, বই দেখলাম। আমীরুল ভাই আগে কিছু বলেন নাই। , ! , - , , , - ‘ ’ ? -
শেষ করি একটা ‘উৎসর্গ’ দিয়ে। আমি সিলেটি, সুনামগঞ্জের সন্তান; আমার একটা ছড়ার বই আছে, ‘সিলেটী ছড়া ফাইন্নে ভরা’। সিলেটি ভাষায় লেখা ছড়ার বই। আমীরুল ভাইকে উৎসর্গ করেছি—
‘আমীরুল ভাই
ইলাখান
মানুষ আর নাই।’
নাই-ই তো!



