ক্রাইম থ্রিলার
ব্ল্যাকআউট

প্রযুক্তির উৎকর্ষ যত বাড়ছে, অপরাধের ধরনও ততই বদলে যাচ্ছে। চুরি, ডাকাতি কিংবা প্রচলিত সন্ত্রাসের গণ্ডি পেরিয়ে এখন কোড, অ্যালগরিদম আর সাইবার কৌশলের নিপুণ কারসাজিতেই কাঁপিয়ে দেওয়া সম্ভব গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থা। প্রযুক্তিনির্ভর এই ভয়ংকর বাস্তবতারই এক শিহরণ-জাগানো চিত্র তুলে ধরেছেন অস্ট্রিয়ান লেখক মার্ক এলসবার্গ তার বিখ্যাত টেকনো-থ্রিলার উপন্যাস ‘ব্ল্যাকআউট’-এ। উপন্যাসটির মূল জার্মান সংস্করণ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯ মার্চ ২০১২ সালে, জার্মান প্রকাশনা সংস্থা ব্ল্যানভালেট থেকে।
উপন্যাসের গল্প আবর্তিত হয়েছে আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ সবচেয়ে ভঙ্গুর অবকাঠামো বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে ঘিরে। এক ঠান্ডা রাতে ইতালির মিলান শহরে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি বলেই মনে হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক ইউরোপীয় দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হতে শুরু করে। সুইডেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ডুবে যায় অন্ধকারে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যোগাযোগ, পরিবহন, খাদ্য, পানি সরবরাহসহ নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব ব্যবস্থা।
পরিস্থিতি দ্রুত রূপ নেয় ভয়াবহ সংকটে। হাসপাতাল থেকে শুরু করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র— সবখানেই দেখা দেয় বিপর্যয়ের আশঙ্কা। মানুষ যখন বুঝে ওঠার চেষ্টা করছে কী ঘটেছে, তখনই সামনে আসে আরও ভয়ংকর শঙ্কা— এটি কোনো নিছক প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত সাইবার হামলা।
এলসবার্গের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, তিনি প্রযুক্তির জটিল বিষয়গুলো নিছক কারিগরি আলোচনায় আটকে রাখেননি; বরং একটি সফটওয়্যার, বিদ্যুৎ গ্রিড কিংবা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক কীভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে, তা গল্পের গতির মধ্য দিয়েই দেখিয়েছেন। ফলে উপন্যাসের প্রতিটি সংকট শুধু প্রযুক্তিগত বিপর্যয় হিসেবে নয়, বরং মানবসভ্যতার অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবেও ধরা দেয়।
তবে ‘ব্ল্যাকআউট’ শুধু সাইবার হামলা কিংবা প্রযুক্তিগত ষড়যন্ত্রের গল্প নয়। এর ভেতরে রয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সভ্যতার নৈতিক সংকটও।




