দেশে দেশে ফুটবল

২০২৩ সালে প্রায় এক মাস মেক্সিকো ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। বিশাল এই দেশ ঘুরে আমার মনে হয়েছিল, অন্তত ছয় মাস সময় পেলেও হয়তো পুরোপুরি দেখা শেষ করা যেত না। লাতিন আমেরিকার প্রায় সব দেশের মতো মেক্সিকোতেও ফুটবল মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শহরের অলিগলি ঘুরে সবচেয়ে বেশি যেটা চোখে পড়েছিল, তা হলো ফুটবলভিত্তিক অসংখ্য গ্রাফিতি।
মেক্সিকো থেকে ব্রাজিলের সাও পাওলো, তারপর রিও ডি জেনেইরো গিয়েছিলাম। রিওতে দূর থেকে দেখেছি কিংবদন্তির মারাকানা স্টেডিয়াম। তখন কোনো ম্যাচ চলছিল না, তাই মাঠের ভেতরে খেলা দেখার সুযোগ হয়নি। তবে সাও পাওলোর ফুটবল জাদুঘর আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছিল। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাস, বিশ্বকাপজয়ী দলের স্মারক, কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের জার্সি, ছবি, ট্রফি— সবকিছু সুন্দরভাবে সাজানো।
২০০৫ সালে প্রায় তিন মাস লাতিন আমেরিকা ভ্রমণ করেছিলাম। সে সময় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও চিলি ঘুরেছি। ছোটবেলায় পাঠ্যবইয়ে পেলের জীবনী পড়ে ব্রাজিলের সমর্থক হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু আর্জেন্টিনায় গিয়ে বুঝলাম, সেখানে ডিয়েগো ম্যারাডোনা শুধু একজন ফুটবলার নন; অনেকের কাছে তিনি প্রায় দেবতুল্য এক চরিত্র। বুয়েনস এইরেসে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ও বোকা জুনিয়র্সের একটি ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়েছিল। মূল ম্যাচের আগে তাদের জুনিয়র বা ছোটদের দলের ছোট একটি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে অবাক করেছিল গ্যালারির কিছু সমর্থক। পুরো ম্যাচে তারা মাঠের খেলা দেখার চেয়ে দর্শকদের গান গাওয়ানো, উল্লাসে মাতিয়ে রাখার কাজেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন।
একবার ইস্তাম্বুল থেকে আঙ্কারা যাওয়ার পথে তুরস্কে জাতীয় দলের একটি বড় জয়ের মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিলাম। ম্যাচ শেষ হতেই রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ। গাড়ির হর্ন, পতাকা, গান আর উল্লাসে পুরো শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। ইতালিতে থাকাকালে ফুটবল ঘিরে অনেক মজার গল্প শুনেছি। প্রচলিত একটি রসিকতা হলো, স্বামী ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় স্ত্রী যদি টিভির চ্যানেল বদলে দেন, তাহলে নাকি সংসার ভাঙতেও পারে! বাস্তব নয়, তবে ফুটবলপ্রেমের তীব্রতা বোঝাতে ইতালিয়ানদের মুখে এমন গল্প প্রায়ই শোনা যায়।




