সিরাকিউজের যমজ হাতি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অক্টোবর ২৪, ২০২২। আমেরিকার নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর সিরাকিউজে ঘটে তাক লাগানো এক ঘটনা। সেখানকার রোজামন্ড গিফোর্ড চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয় যমজ হাতির বাচ্চা। পুরো উত্তর আমেরিকায় আলোড়ন তোলে বিষয়টি। কারণ, হাতির একসঙ্গে দুই বাচ্চা দেওয়া বিরল এক ঘটনা।
প্রাণীপ্রেমী হওয়ার সুবাদে গত চার বছরে দুবার এ চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা হয়েছে আমার। বছরখানেক আগে একদিন হঠাৎ করে ঠিক করি সিরাকিউজে বেড়াতে যাব। সে সময় কানাডায় শরৎ। অল্প অল্প ঠান্ডায় আর চারপাশের রঙবেরঙের ঝরাপাতার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে করতে চলে যাই সিরাকিউজে। এমনিতে খুব বেশি সময় লাগার কথা না থাকলেও মাঝে ইমিগ্রেশনের লম্বা লাইন পার হতে হতেই দুই ঘণ্টা নষ্ট হলো। আমরা ভোরবেলাতেই রওনা দিয়েছিলাম। কারণ, সাড়ে ৪টা বাজতে না বাজতেই চিড়িয়াখানা বন্ধ হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে চিড়িয়াখানায় পৌঁছাতে বেজে গেল প্রায় ২টা। বারবার মনে হচ্ছিল, এতদূর থেকে গেলাম আর হাতে আছে মাত্র আড়াই ঘণ্টা। মন ভার করে চিড়িয়াখানায় ঢুকে চারপাশটা ঘুরে দেখা শুরু করলাম। এবার বড় চমক ছিল আমার জন্য। দেখি, এক জায়গায় দুটো হাতির বাচ্চার ছবি দিয়ে এক পোস্টার টাঙানো। কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে গেলাম কী লেখা আছে পোস্টারে। পোস্টার দেখে তো অবাক! চিড়িয়াখানায় নাকি দুই বছর বয়সী যমজ হাতি রাখা হয়েছে। দেখলাম, এক জায়গায় মানুষ একজোট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে যাওয়ার পর বুঝলাম, এই সেই যমজ হাতিদের বিচরণ কেন্দ্র।
বিশাল ঘের দেওয়া এক জায়গায় রাখা হয়েছে সব হাতিকে। বেশ কয়েকটা বড় হাতির সঙ্গে আনন্দে ঘুরে বেড়চ্ছে হাতির বাচ্চা দুটো। খেলাচ্ছলে একবার এই প্রান্ত, আরেকবার অন্য প্রান্তে দৌড়ে বেড়াচ্ছিল। দেখে একদম মানুষের কোনো দুষ্টু বাচ্চার মতই যেন মনে হচ্ছিল বাচ্চা দুটোকে।
দুটো হাতিই পুরুষ। মা হাতি মালি কোনো সমস্যা ছাড়াই প্রথম বাচ্চাটাকে জন্ম দেয় রাত ২টার দিকে। দ্বিতীয় বাচ্চাটা জন্ম নেয় এরও ১০ ঘণ্টা পর, সকাল ১১টার ৫০ নাগাদ। প্রথম বাচ্চাটার স্বাস্থ্য বেশ ভালো হলেও পরেরটি জন্মানোর সময় ছিল বেশ দুর্বল। চিড়িয়াখানার কর্মচারী আর পশুরোগ বিশেষজ্ঞরা আটঘাট বেঁধে তারা পরের বাচ্চাটার যত্ন করে স্বাস্থ্যের আনেকখানি উন্নতি করেন।
হাতির যমজ বাচ্চা হওয়ার ব্যাপারটি খুবই বিরল। পুরো পৃথিবীতে যত হাতির বাচ্চা জন্ম নেয়, তার ১ শতাংশেরও কম হার যমজ হাতি জন্মানো। তার ওপর যমজ বাচ্চা জন্মালেও তারা সাধারণত মৃত জন্ম নেয় কিংবা খুবই দুর্বল থাকে বলে বেশি সময় বাঁচতেও পারে না। এবার যাওয়ার পালা। তবে যমজ হাতি দর্শনের মতো এমন বিরল মুহূর্ত ধরে না রাখলে কী চলে? তাই যাওয়ার সময় স্যুভেনিরের দোকান থেকে কিনে নিলাম যমজ হাতি জন্মানো উপলক্ষে বানানো ম্যাগনেট।



