বিশ্বকাপে গোয়েন্দাগিরি

ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলকিপার গর্ডন ব্যাংকস
আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের কৌশল জানার অদৃশ্য লড়াইকে অনেকে বলেন ‘স্পাই গেম’। লিখেছেন রবিউল কমল
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ। দক্ষিণ কোরিয়ার অনুশীলন চলছে। দূরে এক ব্যক্তি দুরবিন হাতে দাঁড়িয়ে। পরে জানা গেল, তিনি সুইডেন দলের স্কাউট। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেতেই আলোড়ন ওঠে। মজার বিষয়, দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তারা ইচ্ছা করেই খেলোয়াড়দের জার্সির নম্বর অদলবদল করে অনুশীলন করাচ্ছেন।’ কারণ যদি কেউ দেখেও, তাহলে যেন বিভ্রান্ত হয়। মানে গোয়েন্দাগিরির জবাবে পাল্টা গোয়েন্দাগিরি!
২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক। নারী ফুটবল শুরু হওয়ার আগেই হইচই পড়ল। নিউজিল্যান্ড দল অনুশীলন করছিল যেখানে, তার ওপর উড়ছিল একটি ড্রোন। তদন্তে উঠে আসে, সেটি কানাডা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ড্রোন। ঘটনাটি মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক শিরোনাম হয়ে যায়।
২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের অনুশীলন কেন্দ্র ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার আরভাইনের গ্রেট পার্কে। সবকিছুই ঠিকঠাক। শুধু একটি সমস্যা, পার্কের বিখ্যাত পর্যটকবাহী বেলুন। চারশ ফুট ওপরে উঠে যায় সেটি। এত ওঠার মানে পুরো অনুশীলন মাঠ চোখের সামনে। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা তাই চিন্তায় পড়ে যান।
যদি প্রতিপক্ষের কেউ টিকিট কেটে ওপরে উঠে যায়? যদি পুরো অনুশীলন ভিডিও করে? একটি সাধারণ পর্যটনকেন্দ্র মুহূর্তেই সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির আলোচনায় চলে এলো। এটাই আধুনিক ফুটবল।
নিউজিল্যান্ড দল অনুশীলন করছিল যেখানে, তার ওপর উড়ছিল একটি ড্রোন
ফুটবলের এই স্পাই গেম নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত স্বীকারোক্তিগুলোর একটি এসেছে মার্সেলো বেলসার কাছ থেকে। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে লিডস ইউনাইটেডের কোচ ছিলেন তিনি। একদিন খবর বেরোল, প্রতিপক্ষের অনুশীলনের পাশে একজনকে দেখা গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা গেল, লোকটি লিডসের। সাধারণত এমন অভিযোগ এলে ক্লাব অস্বীকার করে।
কিন্তু বেলসা করলেন উল্টোটা। সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন। বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রতিপক্ষের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।’
এবার এক লাফে অনেক বছর পেছনে ফেরা যাক, ১৯৭০ বিশ্বকাপে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত রহস্যগুলোর একটি। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলকিপার গর্ডন ব্যাংকস হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে খেলতে পারেননি। ইংল্যান্ড ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হেরে যায়।
দশকের পর দশক ধরে গুজব ছিল, ব্যাংকসকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। সাংবাদিক গ্যাব্রিয়েল গেটহাউস তার ফাউল প্লেতে দাবি করেন, কিছু সাক্ষ্য ও স্মৃতিচারণ সিআইএর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার দিকটি ইঙ্গিত করে।
তারও আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে একটি গুজব ছড়িয়েছিল, সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি ইংল্যান্ডের তারকা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছিল, যেন মানসিক চাপ তৈরি করা যায়। বহু বই ও স্মৃতিকথায় এই গল্পের উল্লেখ থাকলেও এর পক্ষে কোনো সরকারি নথি নেই।
আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা বহুবার দাবি করেছিলেন, ইতালিতে খেলার সময় এবং পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সফরে তাকে গোয়েন্দারা নজরদারিতে রাখতেন।




