আর্জেন্টিনার কাবালাহ

আর্জেন্টিনাযর ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘কাবালাহ’ বা তাদের ঐতিহ্যবাহী অন্ধবিশ্বাস ও টোটকা। অতিপ্রাকৃতিক এসব রীতিনীতি কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; গ্যালারি থেকে শুরু করে টেলিভিশন সেটের সামনে বসা কোটি কোটি সমর্থকও ম্যাচ জয়ের জন্য প্রতিনিয়ত নানা অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করে থাকেন।
আর্জেন্টিনায় হিব্রু শব্দ ‘কাবালাহ’ দিয়ে মূলত ভাগ্য ফেরানোর বা দুর্ভাগ্য তাড়ানোর টোটকাকে বোঝায়। দলটির ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কোচ কার্লোস বিলার্দো ছিলেন এমনই কুসংস্কারাচ্ছন্ন। সেই বিশ্বকাপে তিনি খেলোয়াড়দের মুরগির মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। তার ধারণা ছিল, মুরগি দুর্ভাগ্য বয়ে আনে! বাসে কোন গান বাজবে, খেলোয়াড়রা কে কার পর মাঠে নামবেন— সবকিছুই তিনি নিজের ‘কাবালাহ’ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেই বিশ্বকাপ শুরুর আগে খেলোয়াড়রা জুজুই প্রদেশের ওকাকাবানার কুমারী মাতার মন্দিরে মানত করেছিলেন যে, শিরোপা জিতলে তারা সেখানে আবার যাবেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের পর নাকি খেলোয়াড়রা আর সেখানে যাননি। আর্জেন্টাইনদের বিশ্বাস, এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কারণেই দীর্ঘ ৩৬ বছর তারা বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। অবশেষে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ঘুচেছে সেই ‘অভিশাপ’।
আর্জেন্টিনা কোনো ম্যাচ জেতার পর সমর্থকরা পরের ম্যাচের দিন হুবহু আগের ম্যাচের রুটিন অনুকরণ করেন। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে টিভির সামনে সোফার কোনদিকে বসবেন, কার সঙ্গে খেলা দেখবেন, কী কী খাবেন— তার চুলচেরা পুনরাবৃত্তি করা হয়। অনেক সমর্থক পুরো টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রিয় জার্সিটি না ধুয়েই পরতে থাকেন, যাতে জয়ের ধারা বজায় থাকে!




