তীব্র অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনে মৃত্যুঝুঁকি আছে

তীব্র অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন বা অ্যানাফিল্যাকটিক শক শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি এটি জীবন সংকটে ফেলতে পারে। এই শকে হুট করেই কোনো অ্যালার্জেনের (যেমন— নির্দিষ্ট খাবার, ওষুধ বা পোকার হুল) সংস্পর্শে এলে মানুষের ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর ফলে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায় এবং শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
লক্ষণ ও উপসর্গ
অ্যালার্জির সংস্পর্শে আসার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে—
- সারা শরীরে চুলকানি, লালচে ফুসকুড়ি, মুখ, চোখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া।
- শ্বাসনালি ফুলে যাওয়ার কারণে শ্বাস নেওয়ার সময় শিস দেওয়ার মতো শব্দ বা গিলতে সমস্যা হওয়া।
- রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া, দুর্বল ও দ্রুত নাড়ির গতি, মাথা ঘোরা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
- পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়া দেখা দেওয়া।
জরুরি করণীয় ও চিকিৎসা
অ্যানাফাইল্যাকটিক শক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা না দিলে মৃত্যুও হতে পারে। জিভ ফুলে গেছে বা হুট করে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে— এ রকম কোনো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।
১. এপিনেফ্রিন ইনজেকশন অ্যানাফাইল্যাকটিক শকের একমাত্র জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা। রোগীর সঙ্গে অটো-ইনজেক্টর থাকলে তা অবিলম্বে ঊরুতে প্রয়োগ করতে হবে।
২. ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে।
৩. রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে পা কিছুটা উঁচুতে রাখতে হবে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হলে মাথা ও ঘাড় একপাশে কাত করে দিতে হবে।
লেখক : সহকারী রেজিস্ট্রার, ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগ, বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল




