স্বাস্থ্য টিপস
মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত হবেন যেভাবে

সিগারেট, অ্যালকোহল বা যেকোনো মাদকাসক্তি ছেড়ে দেওয়ার কাজটি কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ছেড়ে দেওয়ার কয়েক দিন বা মাস পর থেকে আবার নেশাজাতীয় এসব অভ্যাসের কাছে ফিরে আসতে হয়। শুধু ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করে এসব নেশা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। দরকার প্রয়োজনীয় কৌশল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে প্রতি বছর তামাক ব্যবহারের কারণে সাত কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এদিকে অ্যালকোহলের ওপর নির্ভর মানুষের সংখ্যা ২০ দশমিক ৯ কোটি। ধূমপায়ীদের অধিকাংশই ধূমপান ছাড়তে চান, কিন্তু বছরে গড়ে ১০ জনের মধ্যে একজনেরও কম সফলভাবে ছাড়তে পারেন। কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা একসঙ্গে চালিয়ে গেলে ধূমপান ও নেশাজাতীয় অন্যান্য বদভ্যাস মুক্ত হওয়ার সফলতার সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ে।
চিহ্নিতকরণ
- বেশিরভাগ মাদকাসক্ত মানুষ এটিকে ‘সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন না। মাদকাসক্তি বা যেকোনো আসক্তিকে সমস্যা হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া, সমাধানের প্রধান উপায়।
- দ্বিতীয় ধাপে, নেশা বা অন্যান্য আসক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো বুঝতে পেরে সেটি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করা।
- তৃতীয় ধাপে দরকার প্রস্তুতি। নেশা ছাড়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ, সহায়তা খোঁজা ও পরিকল্পনা তৈরি করলে মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
- চতুর্থ ধাপ, কাজে নেমে পড়া অর্থাৎ বাস্তবে নেশাজাতীয় অভ্যাস ত্যাগের চেষ্টা করা এবং পাশপাশি নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা।
- পঞ্চম পর্যায় হলো, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের মাধ্যমে নিজেকে ধরে রাখা। এতে পুরনো অভ্যাসে ফিরে না গিয়ে নতুন অভ্যাস তৈরি ও স্বাভাবিক জীবনধারা বজায় রাখা হয়। এ ধাপটি অত্যন্ত কঠিন।
- নেশাজাতীয় বদভ্যাসে আবার ফিরে যাওয়াকে বলা হয় শেখার সর্বশেষ ধাপ। আবার ফিরে যাওয়াকে সিংহভাগ মানুষই ব্যর্থতা বলে ভেবে নেয় এবং নেশা চালিয়ে যায়। এটি মোটেও ব্যর্থতা নয়; বরং শেখার একটি ধাপ। মনোবল অটুট থাকলে দু-একবার সিগারেট বা মাদক নেওয়ার পরেও আপনি আবার পঞ্চম পর্যায়ে ফিরে আসতে পারেন এবং সেখানেই চক্র শেষ করতে পারেন।
বিশেষভাবে নজর দিন
- কেন নেশা ছাড়তে চান সেটির কারণ চিহ্নিত করুন— হতে পারে স্বাস্থ্য, পরিবার, সন্তান, অর্থনৈতিক সাশ্রয়। কারণগুলো লিখে ঘরের দৃশ্যমান স্থানে রাখুন।
- চা, আড্ডা, মানসিক চাপ, একাকিত্ব বা নির্দিষ্ট বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো— কোন পরিস্থিতিতে নেশার ইচ্ছা বাড়ে তা শনাক্ত করুন। এটি খুবই জরুরি।
- প্রথম ২১ দিনকে গুরুত্ব দিন। এ সময়টিতে মস্তিষ্ক পুরনো অভ্যাসের জন্য সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেয়।
- প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নিন। মনোবিজ্ঞানী, কাউন্সেলর বা চিকিৎসকের সহায়তা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
লেখক : সিনিয়র সাইকোলজিস্ট এবং অ্যাডিকশন প্রফেশনাল, ঢাকা আহছানিয়া মিশন।


